September 22, 2018

বিন নায়েফকে গৃহবন্দী করার খবর সৌদি কর্মকর্তার অস্বীকার

Captureএশিয়া ::

সৌদি রাজ পরিবারের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের খবর উড়িয়ে দিয়েছেন দেশটির এক কর্মকর্তা। সাবেক সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফকে প্রাসাদে আটকে রাখার খবর অস্বীকার করেছেন ওই সৌদি কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক নয়। শত ভাগ মিথ্যা।’ গতকাল বৃহস্পতিবার রয়টার্সের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
চারজন বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা এবং রাজপরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠ সৌদিদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক খবরে বলা হয়, মোহাম্মদ বিন সালমানকে যুবরাজ ঘোষণা করার পর সাবেক যুবরাজ নায়েফকে লোহিত সাগরীয় নগরী জেদ্দার রাজ প্রাসাদে আটকে রাখা হয়েছে এবং তাকে দেশের বাইরে যেতে দেয়া হচ্ছে না। সেই বিষয়ে প্রশ্ন করলে ওই সৌদি কর্মকর্তা বলেন, ‘এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।’
দু’সপ্তাহ আগে ওয়াশিংটনের প্রিয়ভাজন প্রবীণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিন নায়েফের স্থলে মোহাম্মাদ বিন সালমানকে যুবরাজ ঘোষণা করার পর বাদশাহ সালমান নায়েফকে সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস আরো জানায়, নতুন যুবরাজের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বিরোধিতা সীমিত রাখতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সূত্র অবশ্য তাদের পরিচয় জানাতে অস্বীকার করেছে, কারণ তাতে সৌদি রাজপরিবারের সাথে তাদের সম্পর্কে অবনতি ঘটতে পারে।
২০১৫ সালে বাদশাহ আবদুল আজিজের মৃত্যুর পর তৎকালীন যুবরাজ মুকরিন বিন আবদুল আজিজের বদলে মুহাম্মদ বিন নায়েফকে যুবরাজ মনোনীত করা হয়। মুহাম্মদ বিন নায়েফ দেশটির প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। তিনি রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।
রক্ষীদের পরিবর্তন
সৌদি রাজদরবারের কয়েকজন সদস্য ও অজ্ঞাত একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানান, বিন নায়েফ নিজের আস্থাভাজন রক্ষীদের কাছে পেতে জেদ্দায় রাজ প্রাসাদে ফিরে আসেন কিন্তু তার আগেই বিন সালমানের অনুগত রক্ষীদেরকে তাদের স্থলে মোতায়েন করা হয়। এবং তাকে প্রাসাদ ছেড়ে যেতে বাধা দেয়া হচ্ছে।
সৌদি রাজপরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এমন একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে টাইমস আরো জানায়, কেবল নায়েফ নয়, তার মেয়েদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তার এক মেয়ে তার স্বামীকে বলেছেন, তাদের ছেলেমেয়েরা প্রাসাদ ছেড়ে যেতে পারবে তবে তাকে প্রাসাদেই থাকতে হবে। মোহাম্মদ বিন সালমানকে যুবরাজ করার সাথে সাথেই এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে রাজপরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সিংহাসনে আরোহণের পর বাদশাহ সালমান তার ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানকে ‘উপ-যুবরাজ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। সিংহাসনে আরোহণের েেত্র ডজনেরও বেশি উত্তরাধিকার যুবরাজকে পেছনে ঠেলে তাকে সামনের কাতারে নিয়ে আসা হয়।
বাদশাহ হওয়ার ‘মার্কিন শর্ত’
মিডলইস্টমনিটর জানায়, জার্মানিতে বসবাসকারী সৌদি প্রিন্স খালিদ বিন ফারহান আল-সউদ বাবার অবর্তমানে মোহাম্মাদ বিন সালমানকে সৌদি বাদশাহ হতে সহায়তা করার জন্য মার্কিন শর্তাবলির কথা প্রকাশ করেছেন। প্রিন্সের এ দাবির কথা নিউ খালিজ অর্গ গত শুক্রবার প্রকাশ করে।
এক টুইটে খালিদ লিখেছেন, সৌদি আরবের ক্ষমতাসীন রাজপরিবারের এক ওয়াকিফহাল সূত্রে এ তথ্য জানতে পেরেছেন। তার প্রকাশিত কথিত শর্তাবলির মধ্যে রয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিরঙ্কুশ আনুগত্য করতে হবে এবং তারা যা বলবে তা পালন করতে হবে। খালেদের মতে ‘অন্য তিনটি শর্ত হলো’ গাজার সব ফিলিস্তিনিকে সৌদি আরব ও আমিরাতের অর্থায়নে বিকল্প আবাসস্থল হিসেবে উত্তর সিনাইয়ে পুনর্বাসিত করার পক্ষে কাজ করা, হামাসের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা এবং মিসরের কাছ থেকে সানাফির দ্বীপ ফেরত পাওয়া।

Related posts