November 21, 2018

বিনিয়োগ বান্ধব মুদ্রানীতি !

২০১৫-১৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। বিনিয়োগ বাড়িয়ে সরকারের ঘোষিত ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাজেট নীতিকে সহায়তা দিতে বিনিয়োগ বান্ধব মুদ্রানীতি দিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন অর্থবছরকে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধির বছর হিসেবে দেখাতে চায়। সে হিসেবে চলতি অর্থ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বিনিয়োগ বাড়াতে কিছুটা উদার নীতিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সূত্র বলছে, প্রতি ষানমাসিক মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ বান্ধব ঘোষণা থাকে। তবে গত কয়েক বছর ধরেই বিনিয়োগ খরা যাচ্ছে। নানা কারণে বিনিয়োগ পরিস্থিতি গতি পাচ্ছে না। কিন্তু এবার গতানুগতিক বিনিয়োগ বান্ধব এই রেওয়াজ থেকে বেরিয়ে প্রকৃত অর্থে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। মূলত প্রবৃদ্ধির গতি বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক এই নীতিতে যাচ্ছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র এএফএম আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার মুদ্রানীতি দেবেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

বাংলাদশ ব্যাংক প্রতি ৬ মাসের জন্য মুদ্রানীতি দিয়ে থাকে। নতুন মুদ্রানীতি হবে জানুয়ারি-জুন মেয়াদের জন্য। গত মুদ্রানীতিতে (জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের) ঋণ প্রবাহ ধরা হয় ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ধরা হয়েছে ১৫ শতাংশ।

ছোট বড়ো সব ধরনের উৎপাদনমুখী উদ্যোগে অর্থায়ন পর্যাপ্ততার বিষয়ে জোরালো নীতি দাবি করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগে গতি আসেনি। তবে সফল হয়েছে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি পরিমিতি রাখতে। ডিসেম্বর শেষে মুল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই রয়েছে।

গত মুদ্রানীতিতে বলা হয়, দেশজ উৎপাদনে ৭ শতাংশ প্রকৃত প্রবৃদ্ধি এবং ৬ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির মাত্রা ধরে অভ্যন্তরীণ ঋণ যোগানের প্রবৃদ্ধি উক্ষেপিত হয়েছে। ২০১৬ অর্থবছরের জন্য ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ ধরা হয়।

নতুন মুদ্রানীতি কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্তিমূলক, পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন উৎপাদনমুখী উদ্যোগমালায় দক্ষভাবে সঞ্চালনের লক্ষ্যে আর্থিক খাতে ঋণ শৃঙ্খলা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কর্পোরেট সুশাসন ও জবাবদিহিতার ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিবিড় নজরদারির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, সামাজিক দায়বোধসম্পন্ন অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন উদ্যোগগুলো বহির্বিশ্বে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করছে। বিশেষ করে এসব উদ্যোগ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ন না করে বরং আরো জোরদার করেছে।

তবে বিনিয়োগের জন্য অবকাঠামোগত সুবিধার অপ্রতুলতা, দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক অস্থিরতাজনিত বিঘ্নের প্রেক্ষাপটের বিষয়টি ওঠে আসবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts