September 26, 2018

বিদ্যুৎ চুরির দায়ে সাত মাসে ২০ কোটি টাকা জরিমানা : নসরুল হামিদ

hhবিদ্যুৎ চুরির দায়ে গত সাত মাসে ২০ কোটি ৪৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত বছরের ১ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত এ জরিমানা করা হয় বলে সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

আজ বুধবার দশম জাতীয় সংসদে এম আবদুল লতিফের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসমূহ ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজার ৮৫৮টি প্রতিষ্ঠানকে সাত কোটি ৯০ লাখ ৭১ হাজার ৬০৮ টাকা জরিমানা করে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ৫০৮টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, ৬৩৬টি মামলা এবং সাড়ে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে ৯৭৪টি পেনাল বিলের বিপরীতে ৮ কোটি ৪৭ লাখ ৮০ হাজার ৪৯৩ টাকা ৮৯ পয়সা জরিমানা আদায় করেছে। এছাড়া ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ৭৬৪টি প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগে তিন কোটি ৪১ লাখ ২৬ হাজার ৪০৮ টাকা জরিমানা করে। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ৩১৮টি প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তির কাছ থেকে ৫১ লাখ ৯৮ হাজার ২৬৫ টাকা জরিমানা আদায় করেছে।

দেশে গ্যাস সঙ্কট ৬৬০ মিলিয়ন ঘনফুট : নসরুল হামিদ
টেবিলে উত্থাপিত সংসদ সদস্য বেগম সানজিদা খানমের (মহিলা আসন-২৪) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন, দেশে গ্যাসের চাহিদা তিন হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে দুই হাজার ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশে বর্তমানে ৬৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সঙ্কট রয়েছে। বর্তমানে দেশে গ্যাস চাহিদার পরিমাণ দৈনিক প্রায় ৩৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং দৈনিক গড়ে প্রায় ২৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছে।

এ সময় বর্তমান সরকারের আমলে গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপের ফলে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ দৈনিক প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট বৃদ্ধি পেয়েছে দাবি করে নসরুল হামিদ বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের ফলে গ্যাসের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে।

গ্যাসের ঘাটতি পূরণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ ৫৪টি অনুসন্ধান কূপ ও ৩২টি উন্নয়ন কূপ খনন করা হবে। এ ছাড়া ২২টি পুরাতন কূপের ওয়ার্কওভার করা হবে। এসব কার্যক্রম সম্পাদন শেষে দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১১০০ থেকে ১২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করা যায়।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাপেক্সের পাশাপাশি বিদেশি কোম্পানিও কুপ খননকাজে নিয়োজিত আছে। রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রম পাঁচটি এবং চাইনিজ কোম্পানি সিনোপ্যাক তিনটি কূপ খনন কাজ সম্পন্ন করেছে। চাইনিজ কোম্পানি সিনোপ্যাকের আরো কূপ খনন করা বাকি আছে।

মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর (সিলেট-৩) আরেক প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ বলেন, গ্যাসের ঘাটতি পূরণে সরকার ২০১৬-২০২১ সাল পর্যন্ত সম্পাদিতব্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ২০২১ সাল নাগাদ ৫৪টি অনুসন্ধ্যান কূপ ও ৩২টি উন্নয়ন কূপ খনন করা হবে। এছাড়া ২২টি পুরাতন কূপের ওয়ার্কওভার করা হবে। এসব কার্যক্রম সম্পাদন শেষে দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১১শ’ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে এক হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।

তিনি বলেন, অগভীর সমুদ্রাঞ্চলে ব্লক এসএস-১১ এ সন্তোষ-ক্রিস এনার্জি প্রায় তিন হাজার ২০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনা করে সংগৃহীত ডাটা ইন্টারপ্রিটেশন সম্পন্ন করেছে। যা থেকে বেশ কয়েকটি সম্ভাবনাময় প্রোসপেক্ট চিহিত হয়েছে। ২০১৭ সালের মাঝামাঝিতে এবং কে ৩পি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনা করা হবে এবং পরবর্তীতে একটি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাসের ঘাটতি মোকাবেলায় সরকার এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম দফায় ২০১৮ সালের প্রথম দিকে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট করে রিগ্যাসিফাইড এলএনজি সিস্টেমে যোগ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

Related posts