November 16, 2018

বিদ্যুতের লোডসেডিং ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে স্থবির

index
তোফায়েল হোসেন জাকির, স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতে ঘন-ঘন লোডসেডিং ও ভ্যাপসা গরমে জন-জীবন নাজেহাল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের লুকোচুরি খেরার কারণে বিদ্যুৎ চালিত সরঞ্জামাদি অচল হয়ে যাচ্ছে।
গত কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরমে, ঘামে অসহনীয় অবস্থা বিরাজ করছে সর্বত্র। গরম অত্যধিক থাকায় মানুষ অতিরিক্ত ঘামাচ্ছে। সেই সাথে শরীর দ্রুত দুর্বল ও কাহিল হয়ে পড়ছে। অনেকেই ডায়রিয়া, আমাশয়, পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি রোগ-ব্যাধিতে অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বয়োবৃদ্ধ ও শিশুদের কষ্ট-দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। গরমের তীব্রতার কারণে হিটট্রোকের ঝুঁকিও রয়েছে বলে চিকিৎসক হারন-রশিদ জানিয়েছেন।
তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থায় কারও কোথাও যেন স্বস্তি নেই। তাপদাহ থেকে পরিত্রাণের জন্য গ্রামে অনেকে পুকুর, দীঘি, নদীতে গা ভেজাচ্ছে। তীব্র গরমে শহরে-গঞ্জে শরবৎ, ফল-ফলারি, আইসক্রিম বেচাকেনা বেড়ে গেছে। তবে চিকিৎসকরা তাপদাহে বেশি করে বিশুদ্ধ পানীয় পানের এবং রাস্তাঘাটে খোলা, অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহারের পরামর্শ দিয়েছেন। গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পল্লী বিদ্যুতের লোডশেডিং ও বিভ্রাট।
এদিকে বিদ্যুতের বিশেষ করে বিদ্যুৎ চার্জে ব্যাটারী চালিত যানবাহন সমূহ অচল হয়ে পড়েছে। দিন-রাত ২৪ ঘন্টার মধ্য ২০ হতে ২৫ বার বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করে। সরকারি, বে-সরকারি অফিস ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ব্যহত হচ্ছে। বিদুৎ চালিত ফ্যান, কম্পিউটার, রাইসমিল, ফটোস্ট্যাট মেশিন, ফ্রিজ, টিভি অচল হতে চলেছে। অপরদিকে অটোবাইক, অটোভ্যান, অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ঘন-ঘন বিদ্যুৎ আসা যাওয়ায় স্কুল কলেজ গামী শিক্ষার্থীদের লেখা পড়ায় চরম বিঘ্নত হয়েছে।
সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরের রানা ফটোস্ট্যাট ও কম্পিউটারের স্বত্বাধীকারী শরিফুল ইসলাম জানান, ঘন-ঘন বিদ্যুৎ আসা যাওয়ার কারণে ঠিকভাবে কাজ করতে পারছিনা। একজন কাস্টমারকে অনেক সময় ব্যয় করে কাজ করে দিতে হচ্ছে।
সাদুল্যাপুর পল্লী বিদ্যুত অফিস সুত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এ অঞ্চলে নয় মেগাওয়ার্ড বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু তার বিপরিতে প্রতিদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে দুই থেকে আড়াই মেগাওয়ার্ড । প্রয়োজনের তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত কম হওয়ায় জন-জীবন নাজেহাল সহ ব্যবসা বানিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডসেডিং দেখা দিয়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানোর চাহিদা দিয়েছি। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না।

Related posts