September 21, 2018

বিদ্যালয়ে বিসিসির দেয়া নিম্নমানের কম্পিউটার বিকল হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

Chandpur Picture(1)এ কে আজাদ, চাঁদপুর : চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সরবরাহকৃত বিসিসির কম্পিউটারগুলোর অধিকাংশই এখন বিকল হয়ে পড়ে আছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। কম্পিউটার বিকল নিয়ে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, সরবরাহকৃত কম্পিউটারগুলো নিম্নমানের হওয়ায় দু’তিনমাস না যেতেই অধিকাংশ কম্পিউটার গুলো বিকল হয়ে পড়েছে। বার বার বিদ্যালয় থেকে মেরামতের উদ্যোগ নিয়েও কোন সুফল পাওয়া যায়নি। যার ফলে বর্তমানে এসব বিকল কম্পিউটারগুলো বিদ্যালয়ের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ শিক্ষার্থীরা বিকল কম্পিউটারগুলো পরিবর্তন করে নতুন ল্যাপটপ প্রদানের জন্য সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন। বিভিন্ন বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০সালের দিকে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল কর্তৃক চাঁদপুর জেলার শতাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮/৯টি করে কম্পিউটার দিয়ে ল্যাব দেয়া হয়। কিন্তু এসব কম্পিউটার ২/৩মাস না যেতেই কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। পরে বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে এসব কম্পিউটার বার বার মেরামত করেও সচল করা সম্ভব হয় নাই। যার ফলে বিদ্যালয়গুলোতে এসব কম্পিউটার ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়ে আছে। শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে করে সমাজ ও দেশ প্রযুক্তিগত শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চরভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়, ডিএন উচ্চ বিদ্যালয়, বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, নীল কমল উচ্চ বিদ্যালয়সহ জেলার অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর বিসিসির সরবরাহকৃত কম্পিউটারগুলোর ভয়াবহ অবস্থা। ব্যবহার অনুপোযোগি এসব কম্পিউটার এখন বিদ্যালয়ের কক্ষে পড়ে আছে।

Chandpur Picture (2)

বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক কিশোর কুমার পাল জানান, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল শিক্ষার্থীর প্রযুক্তিগত শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৮/১০টি করে কম্পিউটার দিয়েছিলো। যাতে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত শিক্ষায় মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে। কিন্তু কিছু দিন ব্যবহারের পরই এসব কম্পিউটার নষ্ট হয়ে যায়। এগুলোর একটি কম্পিউটার ঠিক করতে গেলে যা খরচ পড়বে তা দিয়ে নতুন আরেকটি কম্পিউটার কেনা সম্ভব। কিন্তু এতো টাকা খরচ করে কম্পিউটার ঠিক করার সামর্থ্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের না থাকায় এসব কম্পিউটার অকেজো অবস্থাতেই পড়ে আছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, বিসিসির কম্পিউটারগুলো আমাদের ভালোর জন্য দিলেও তা অতি নিম্নমানের। তাই এগুলো দিয়ে আমরা সঠিকভাবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিতে পারছি না। শিক্ষার্থীরা আরো জানায়, কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, ডিভিডি রাইটার, র‌্যাম, রোম, মাদারবোর্ড, প্রসেসর, কুলিং ফ্যান অতি নিম্নমানের। তাই এগুলো দীর্ঘ দিন ব্যবহার করা যাচ্ছে না। নষ্ট হলে যে এগুলো ঠিক করবে তারও কোন ব্যবস্থা নেই। এতে আমরা কম্পিউটার ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে বিসিসির স্কুলে স্কুলে কম্পিউটার সরবরাহ শিক্ষার্থীদের জন্য আর্শিবাদ। অথচ নিম্নমানের যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরী হওয়ায় এসব কম্পিউটার দিয়ে ইন্টারনেটসহ অন্যান্য কাজ দ্রুত গতিতে করা যাচ্ছে না। যার ফলে এগুলো এখন শিক্ষার্থীদের অভিশাপ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও দীর্ঘদিন এভাবে কম্পিউটারগুলো অকেজো অবস্থায় পরে থাকায় কম্পিউটার শিক্ষা থেকে আগ্রহ হারাচ্ছে। সরকার এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত নতুন কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নিবেন এটাই সকলের প্রত্যাশা।

Related posts