September 24, 2018

‘বিদেশিদের গাড়ির পিছু মাইক্রোবাসে ঢুকে অস্ত্রধারীরা’


ঢাকাঃ  ঢাকার গুলশানে রক্তাক্ত জিম্মি সঙ্কটের শুরুতে অস্ত্রধারীরা বিদেশিদের বহনকারী একটি গাড়ি অনুসরণ করে হলি আর্টিজান বেকারিতে ঢুকেছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানিয়েছেন।

কূটনৈতিকপাড়ার ওই ক্যাফেতে শুক্রবার রাতে অস্ত্রধারী ওই সন্ত্রাসীরা হানা দিয়ে অন্তত ৩০ জনকে জিম্মি করলে জঙ্গিদের ঠেকাতে গিয়ে তাদের ছোড়া বিস্ফোরকের স্প্লিন্টারে মারা যান দুই পুলিশ কর্মকর্তা।

পরে শনিবার সকালে কমান্ডো অভিযানে রক্তাক্ত জিম্মি সঙ্কটের অবসানের পর সেখান থেকে বিদেশিসহ ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে ছয় বন্দুকধারীর মৃত্যুর খবরও দেয় আইএসপিআর।

শনিবার দুপুরে ৭৫ নম্বর সড়কের একটি ভবনের নিরাপত্তকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে  বলেন, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে কয়েকজন বিদেশি রয়েছে এমন একটি গাড়ি দ্রুত ৭৯ নম্বর রোডের লেক ভিউ ক্লিনিকের গেইট দিয়ে ভেতরে ঢোকে।

“ঠিক ওই গাড়ির পেছনে আরও দুটি গাড়ি ঢোকে এবং পরক্ষণই গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। মনে হয়েছে বিদেশিদের বহনকারী গাড়িটি অনুসরণ করে পেছনের দুটি গাড়ি ঢুকেছে।”

গোলাগুলির শুরুর পরপরই ওই গাড়ি দুটি বের হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

হলি আর্টিজান বেকারির আরেকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১১৩ নম্বর রোডে; নাম ইজুমি। এটিও খাবারের দোকান বলে জানান ইজুমির নিরাপত্তাকর্মী মোহন মিয়া।

তার কথায়ও ওই প্রত্যক্ষদর্শীর দেওয়া বর্ণনার মিল পাওয়া যায়।

মোহন বলেন, দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক শাহজাদ মেহেদীসহ আরও কয়েকজন। ঘটনার সময় মালিক মেহেদী ১১৩ নম্বর রোডের ইজুমিতে ছিলেন।

হলি আর্টিজানে ছয়জন নিরাপত্তাকর্মী ছিল জানিয়ে সেখানকার এক নিরাপত্তাকর্মীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, রাত ৯টার দিকে বিদেশিদের বহনকারী একটি গাড়ি বেকারি ও হাসপাতাল গেইটে ঢুকার সঙ্গে সঙ্গে পেছনে আরও দুটি গাড়ি ঢোকে।

“ওই গাড়ি দুটি থেকে নেমে কয়েকজন যুবক বিদেশি বহনকারী গাড়ি চালকের দিকে গুলি চালায়।”

যুবকরা গাড়ি থেকে নামার পর তাদের বহনকারী গাড়ি দুটি চলে যায় বলে ওই নিরাপত্তাকর্মীর বরাত দিয়ে জানান মোহন মিয়াও।

গাড়ি চালককে গুলি করার পর অস্ত্রধারীদের গুলিতে হলি আর্টিজানের একজন নিরাপত্তাকর্মীও আহত হয়েছেন।

বিদেশিদের বহনকারী যে গাড়িটির চালককে গুলি করা হয়েছিল, তার নাম রাজ্জাক। জাপানি এক নাগরিকের গাড়ি চালান তিনি।

গুলশানের ঘটনাস্থল থেকে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধারের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে জানিয়ে হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, “তার (রাজ্জাকের ) পিঠে গুলি লাগে।”

জিম্মি সঙ্কট অবসানের পর যে ২০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তার মধ্যে সাতজন জাপানি নাগরিক রয়েছে বলে ইতোমধ্যে বের হয়ে এসেছে।

বিদেশিদের বহনকারী যে গাড়িকে অনুসরণ করে জঙ্গিদের গাড়িটি বেকারি প্রাঙ্গণে ঢুকেছিল তার মধ্যে অধিকাংশরাই জাপানি নাগরিক ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে দেশে গত দেড় বছরে লেখক-প্রকাশক, শিক্ষক, ব্লগার, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, বৌদ্ধভিক্ষু, সমকামী অধিকারকর্মী, ধর্মান্তরিত ও ভিন্ন মতালম্বী মুসলিম এবং হিন্দু পুরোহিতসহ একের পর পর কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার প্রায় অর্ধেক ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের নামে দায় স্বীকারের বার্তা আসে।

এবারের এই হামলার পরও জঙ্গি হুমকি পর্যবেক্ষণকারী সাইট ইনটিলিজেন্স গ্রুপের ওয়েবসাইটে আইএসের নামে দায় স্বীকারের বার্তা আসে বলে খবর দেয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

Related posts