September 26, 2018

বিচারের নামে প্রহসন চলছে, মূল হোতারা আড়ালেই

2016_02_25_12_55_14_19ubJT8jS7scriyULvLisdXMonxmRy_original

ঢাকা : দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল ধ্বংস করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে পিলখানায় সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছে। এখন ওই ঘটনার বিচারের নামে প্রহসন চলছে। আর মূল হোতারা থাকছে পর্দার অন্তরালেই।

২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘শহীদ সেনা ও জাতীয় শোক দিবস’ ঘোষণার দাবি জানিয়ে দলটি আরও বলেছে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে একদিন পিলখানা হত্যাকাণ্ডের খুনি ও নেপথ্যের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচিত হবে। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে মহান একুশে ফেব্রুয়ারির মতো ২৫শে ফেব্রুয়ারিকেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শহীদ সামরিক কর্মকর্তাদের স্মরণে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দলটির নেতারা এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় সরকারের সমালোচনা করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘সরকারের চরেরা, লোকেরা ও মুরব্বিরা বেছে বেছে সেনাবাহিনীর সবচেয়ে চৌকস অফিসারদের হত্যা করেছে। এই ফেব্রুয়ারি মাস হত্যার মাস। আপনাদের (সরকার) প্রভূদের নির্দেশে জাতিকে মেধাশূন্য করার জন্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পিলখানায় বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহে সেনা কর্মকর্তাদের হত্যকাণ্ডের দায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এড়াতে পারেন না। কারণ, তিনি তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সেনা কর্মকর্তাদের রক্ষা করা তার দায়িত্ব ছিল।’

সাবেক এ উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে সুযোগ আসলে মহান একুশে ফেব্রুয়ারির মতো ২৫শে ফেব্রুয়ারিকেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হবে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা ষড়যন্ত্র করেছেন তারা জানে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের ফলে সেনাবাহিনী থেকে অনেক দুর্বল চিত্তের মানুষ বের হয়ে যাবে। সব সময় তারা আতঙ্কে থাকবে এবং দেশের প্রতি তাদের যে কর্তব্য সেটা পালনে তারা সক্ষম হবে না।’

বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহ ও সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার ঘটনার ‘সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে না’ দাবি করে সেনাবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই ঘটনার তদন্তে সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল জাহাঙ্গীরের (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। কিন্তু ওই তদন্ত প্রতিবেদন আজও প্রকাশ করা হয়নি। সেই তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।

বিদ্রোহের ঘটনা দমনে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায়  তৎকালীন সেনা প্রধানের দায়িত্বে থাকা জেনারেল মঈন-উ-আহমেদেরও সমালোচনা করেন মেজর (অব.) হাফিজ।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিদ্রোহ দমনে সেনাবাহিনীর ‘কাপুরুষ সেনাপ্রধান’ মঈন-উ-আহমেদ সেদিন কেন অনুমতি নিতে গেলেন? এটা তো সেনাবাহিনীর ঐতিহ্য যে, বিদ্রোহ হলে আগে তা দমন করতে হবে। এতে কোনো অনুমতির  প্রয়োজন নেই। শাকিল আহমেদ (বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক প্রয়াত মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ) সংশ্লিষ্ট সবাইকে সাহায্যের জন্য বলেছেন। কিন্তু সহায়তা পাঠানো হয়নি। দক্ষ ও দেশপ্রেমিক সরকার না থাকার কারণে সেদিনের বিদ্রোহ দমানো সম্ভব হয়নি।’

বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘তাদের (বিডিআর বিদ্রোহিরা) একটি আল্টিমেটাম দিলেই তারা আত্মসমর্পণ করতো। অথচ সেটা না করে তাদেরকে জামাই আদরে গণভবনে ডাকা হয়েছে। এতে তো খুনিরা উৎসাহ পাবেই। সুবেদারকে ডিজি বানিয়ে কোনো বাহিনীর শৃঙ্খলা ফেরানো যায় না।

তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দেশে নির্বাচিত এবং জনগণের সমর্থনপুষ্ট সরকার না থাকলে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা আরো ঘটবে। যে নেতার জনসমর্থন আছে, যে নেতার কথায় লক্ষ কোটি জনতা রাস্তায় নেমে আসে; সেই ধরনের নেতা যদি দেশে না থাকে, তাহলে সামরিক বাহিনীও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে না।

বিডিআর বিদ্রোহ ও সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে হতাশা প্রকাশ করে বিএনপির আরেক ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ‘তিনটি তদন্ত কমিটি’ কাজ করলেও এখনও তা আলোর মুখ দেখেনি। অথচ তদন্তের আগেই বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুসহ অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১২-১৩ জন কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন।

ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে ওই হত্যকাণ্ড হয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্ত ক্ষতিগ্রস্ত হলে কারা লাভবান হবে? বিডিআর হত্যাকাণ্ডে তাই কারা জড়িত তা সহজেই অনুমান করা যায়।

সভায় যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ২৫ ফেব্রুয়ারিকে ‘শহীদ সেনা ও জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান।একইসঙ্গে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে ওই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং তদন্ত প্রতিবেদন শ্বেতপত্র আকারে জাতির সামনে তুলে ধরারও দাবি জানান তিনি।

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্য আরও বক্তব্য দেন- পিলখানার দরবার হলের ঘটনা প্রত্যক্ষকারী সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ কামরুজ্জামান, মেজর (অব.) মিজানুর রহমান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

Related posts