November 18, 2018

‘বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিনের শারীরিক অবস্থা ভালো নেই’

বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিনআর কত দিন থাকতে হবে পরবাসে? কবে ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য যেতে পারবেন পছন্দের হাসপাতালে? অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা থেকে মুক্তি পাবেন কবে? অথবা প্রিয় মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তনই বা করতে পারবেন কোন মাহেন্দ্রক্ষণে?- এমন অনেক প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে ভারতের শিলংয়ে নিঃসঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদ।

বিএনপির দফতরের দায়িত্বে থাকা যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, নয় মাসের বেশি সময়ে ভারতে অবস্থান করা সালাহ উদ্দিনের শারীরিক অবস্থা ভালো নেই। তার বাম দিকের কিডনির সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। হৃদরোগ ও চর্মরোগের অবস্থাও খারাপ। নিয়মিত তাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। শিলংয়ের একটি হাসপাতালে কয়েকজন চিকিৎসক তার কিডনি, হৃদরোগ ও চর্মরোগের চিকিৎসা করছেন। তার পা ফুলে গেছে। দল থেকে সালাহ উদ্দিনের সার্বিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

গত বছর বিএনপি নেতৃত্বধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে ১০ মার্চ উত্তরার একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। এর প্রায় ২ মাস পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের গলফ লিংক এলাকা থেকে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাফেরা অবস্থায় উদ্ধার হন তিনি। সালাহ উদ্দিন কীভাবে ভারতে গেলেন আলোচিত ওই ঘটনার রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। সালাহ উদ্দিন যখন ভারতে আটক হন, ওই সময়ে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিলেন। স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

এর মধ্যে সালাহ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ‘ফরেনার্স অ্যাক্ট-৪৬’ এ দায়ের করা মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়। বৈধ ডকুমেন্ট ছাড়া অনুপ্রবেশের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। যদিও পরে শিলংয়ের আদালত থেকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন পান তিনি। তবে আদালতের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী সালাহ উদ্দিনকে শিলং অবস্থান করতে হচ্ছে এবং প্রতি সপ্তাহে সেখানকার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে হাজিরা দিতে হচ্ছে। সেখানকার নামি আইনজীবী এস পি মোহান্ত সালাহ উদ্দিনের মামলার আইনগত দিকগুলো দেখছেন।

সালাহ উদ্দিনের পরিবার-পরিজন ও বিএনপিতে তার ঘনিষ্ঠজন সূত্রে জানা গেছে, সালাহ উদ্দিন আহমেদকে দেখতে অনেকটা নীরবে নিয়মিত শিলং যান স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। কখনো একা, কখনো তার সঙ্গে যান মেয়ে ফারিবা আহমেদ, রাইদা আহমেদ ও ছেলে ফারমিস আহমেদ। কিছু দিন শিলংয়ে অবস্থানের পর আবার দেশে ফিরে আসেন, পরে আবার যান। স্ত্রী হাসিনা আহমেদ এবং কক্সবাজার থেকে যাওয়া নিকটাত্মীয়-স্বজনরাই সালাহ উদ্দিন আহমেদকে দেখভাল করছেন। সালাহ উদ্দিনের ভাতিজা ছফওয়ানুল করিম ও তারেক আহমদও পালাক্রমে সেখানে গিয়ে থাকছেন। সালাহ উদ্দিন ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ের ‘সানরাইজ গেস্ট হাউজ’ নামের একটি বাড়িতে আছেন। সেখানে অনেকটা নীরবে বসবাস করছেন বিএনপির এই নেতা। বাড়িতে তার সঙ্গে রয়েছেন ব্যক্তিগত সহকারী, ম্যানেজার ও দুইজন তত্ত্বাবধায়ক। তার আইনজীবী এসপি মোহান্ত ও শিলংয়ে বসবাসরত কয়েকজন বাংলাদেশি তাকে এই বাড়িটি ভাড়া নিতে সহায়তা করেছেন। পত্রিকা ও বই পড়ে এবং বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে যাওয়া নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কাটছে তার দিন।

তাকে দেখে আসা এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় প্রতিদিনই সালাহ উদ্দিনকে দেখতে দেশ থেকে নেতাকর্মীরা শিলংয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে তার নির্বাচনী এলাকা কক্সবাজার থেকে নেতা-কর্মীরা বেশি যাচ্ছেন। তবে সালাহ উদ্দিনের আইনজীবী তাকে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক বিষয়ে একেবারেই মুখ খুলতে নিষেধ করেছেন। তাছাড়া বাইরেও খুব একটা বের হন না তিনি। কোথাও গেলেও কাউকে সব সময় সঙ্গে রাখছেন। সালাহ উদ্দিনের যা শারীরিক অবস্থা, তাতে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন বলে মনে করেন তার পরিবার ও স্বজনরা। কিন্তু অনুমতি না মেলায় তাও হচ্ছে না। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সালাহ উদ্দিন আহমেদ উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আদালত সে বিষয়ে অনুমতি না দিলে ভারতের অন্য কোনো বড় শহরে যেতে চান তিনি। এ জন্য তিনি আদালতে আবেদনও করেছেন।

Related posts