October 20, 2018

বিএনপি ও জাতীয় পার্টির ব্যানারে রহস্যময় ভূমিকায়


চট্টগ্রামঃ  চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গন্ডামারা ইউনিয়নে দেশী-বিদেশী যৌথ বিনিয়োগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শুরু করতে গিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষসহ যে লঙ্কাকান্ড ঘটে গেল তা নিয়ে সরকারী অবস্থান স্পষ্ট করার পরও বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নেতারা বিষয়টি নিয়ে টানাহ্যাঁচড়ায় লিপ্ত। স্থানীয় বিএনপি নেতা লেয়াকত আলীর নেতৃত্বে রয়েছে গন্ডামারা বসতভিটা রক্ষা কমিটি। অপরদিকে, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর পৃষ্ঠপোষকতায় জন্ম নিয়েছে গন্ডামারা বাঁচাও নামের আরেকটি সংগঠন।

গন্ডামারা বাঁচাও আন্দোলনের ব্যানারে আজ স্থানীয় বাজার সংলগ্ন মাঠে সমাবেশের ডাক দেয়া হয়েছে। তবে এ সমাবেশ বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ বিরোধী নয় বলে আয়োজকদের বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়েছে। তবে গন্ডামারাবাসীর জানমাল রক্ষায় নিরাপত্তা, আহত ও নিহতদের বিষয়াদি দেখভাল করা ইত্যাদি নিয়ে এ সংগঠন কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। তবে তারা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের বিরোধিতায় থাকছে না। আজ আহূত নতুন এ সমাবেশ প্রসঙ্গে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, গন্ডামারা বাঁচাও আন্দোলন আজ বুধবার যে সমাবেশ ডেকেছে এর কোন অনুমতি নেয়নি। মঙ্গলবার এলাকায় যে মাইকিং করা হয়েছে তারও কোন অনুমতি নেয়নি। বিষয়টি জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাঁশখালীর ওসি স্বপন কুমার মজুমদার। এর পাশাপাশি প্রকল্পের সহকারী বাহাদুর আলম হিরণ জানিয়েছেন, আবার এ সমাবেশ ডাকা হলেও তা বিরুদ্ধে নয়। তবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জেলা পুলিশের উর্ধতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে কোন বাধা দেয়া হবে না। তবে যানমালের নিরাপত্তায় হুমকি আসলে তা কঠোরহস্তে দমন করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শামসুজ্জামান জনকণ্ঠকে জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে চাইলে যানমাল রক্ষার স্বার্থে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, গন্ডামারা বাঁচাও আন্দোলনের ব্যানারে নতুন করে আজ সমাবেশ আহ্বান করার নেপথ্যে কি লুকিয়ে আচে তা নিয়ে নানা জল্পনাকল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এ সমাবেশ বিরোধিতার জন্য নয়, নেপথ্যে ভিন্ন কিছু লুকিয়ে রয়েছে। গত রবিবার রাতে চট্টগ্রাম শহরে বাঁশখালীর সাবেক এমপি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলামের বাসভবনে  গন্ডামারা বাঁচাও আন্দোলনের নামের সংগঠনটির ২০১ সদস্যের কমিটি নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে। এ কমিটির উপদেষ্টা হিসাবে রয়েছে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি আজ গন্ডামারায় আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হবেন। অপরদিকে, বিএনপি নেতা লেয়াকত আলীর নেতৃত্বাধীন বসতভিটা রক্ষা কমিটি নামের যে সংগঠনটি ১৫ দিনের জন্য কর্মসূচী স্থগিত করেছে তাদের তৎপরতাও রহস্যজনক। পুরো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক কপিতয় নেতাদের বিরোধিতার বেড়াজালে পড়লেও সরকার এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। শুধু তাই নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোক্তা গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও বক্তব্য দিয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। শুধু তাই নয়, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের যৌক্তিকতাও তুলে ধরেছে। তারা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে, এ বিদ্যুত কেন্দ্র হবে পরিবেশবান্ধব। এটি শুধু বিদ্যুত উৎপাদন নিয়ে ব্যস্ত থাকবে না, এলাকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অন্যান্য খাতেও অবদান রাখার চেষ্টা করবে। এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ মঙ্গলবার আবারও জানিয়েছেন, যারা জানমালের ক্ষয়ক্ষতিসহ হত্যাকান্ডের জন্য দায়ী তাদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করা জরুরী।

এদিকে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, এ বিদ্যুত কেন্দ্রের বিরোধিতায় নেমে ইতোমধ্যে চার জনের প্রাণহানি ঘটেছে। যে কারণে এলাকায় অনেকের মাঝে শোকের আবহ রয়েছে। ফলে তাদের পক্ষ থেকে এখনও কঠোর কোন এ্যাকশন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়নি। তবে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। যারা গত ৪ এপ্রিল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটানোর জন্য দায়ী তাদের লিষ্ট তৈরি করা হচ্ছে। যারা নেতৃত্ব দিয়েছে তারা ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছে। ঘটনার পর পর যে ৯ জনকে আটকের পর গ্রেফতার করা হয়েছে এরপরে গ্রেফতার তৎপরতায় গো স্লো পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। কেননা, নিরীহ চারজনের মৃত্যুর ঘটনার পর পুলিশ নতুন করে কঠোর এ্যাকশনে গিয়ে পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করতে চায় না। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রিত থাকায় পুলিশ অপারেশনাল কাযক্রম থেকে কিছুটা বিরত রয়েছে। যে কারণে বিএনপি নেতা লেয়াকতসহ তার সহযোগীরা এখনও এলাকায় নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেফতার করার গ্রীন সিগন্যাল পাওয়া গেলেই পুলিশ এ্যাকশনে যাবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানান, আজকে যারা সমাবেশ ডেকেছে তারা আশা করি শান্তিপূর্ণভাবে সমাপ্ত করবে। ৪ এপ্রিল ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

উৎসঃ  জনকণ্ঠ
দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১২ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts