March 26, 2019

বিএনপিতে হঠাৎ ভাঙনের সুর

216195_1 (1)ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে হঠাত্ শঙ্কায় পড়েছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া আগামী ২ জুন আদালতে হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে বলে গত ১৯ মে ঢাকা তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার যে নির্দেশ দিয়েছেন, সেটিকে সামনে রেখেই এই শঙ্কা। এছাড়া খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাসহ আরো ১৩টি মামলার গতি বাড়ার কারণেও দলটির নেতা-কর্মীদের শঙ্কা বেড়েছে। দলীয় প্রধানকে নিয়ে এই শঙ্কা থেকে দলটির ভেতরে ভাঙনেরও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। আর এই ভাঙনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খোদ দলটির দায়িত্বশীল নেতারাই।

বিচারকের আদেশ অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে এর পরিণাম ভালো হবে না বলে সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর বিএনপির এক যৌথ সভায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন- ‘আজকে পত্রিকায় দেখলাম, দেশনেত্রীকে কারারুদ্ধ করার প্রক্রিয়া চলছে। এই আওয়ামী সরকারের পক্ষে অসম্ভব বলে কিছু নেই, মানবতাবোধ বলে তাদের মধ্যে কিছু নাই। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, দেশনেত্রীকে গ্রেফতারের পরিণাম খুব ভালো হবে না।

প্রসঙ্গত, খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় ১৯ মে মামলায় তার আত্মপক্ষ সমর্থন পঞ্চম দফায় পিছিয়ে যায়। খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তার অন্যতম আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সেদিন আবারও সময়ের আবেদন করেন। ওই আবেদন ?শুনে বিচারক নতুন তারিখ দিয়ে ওইদিন খালেদা জিয়াকে হাজির হতে নির্দেশ দেন।

যৌথসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হচ্ছে, এমন খবর প্রতিদিনই গণমাধ্যমে আসছে; কিন্তু পদ পেতে দলের নেতা-কর্মীদের তদ্বির থেমে নেই। সংকট মোকাবেলার জন্য কারও বাসায় আলোচনা হয় না। কাকে কার ওপর নেয়া হবে, কাকে কী দেয়া হবে- সেসব নিয়ে আলোচনা। আন্দোলন করতে হলে পদ-পদবির দরকার হয় না। এক-এগারোর সময় স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস-চেয়ারম্যান, যুগ্ম-মহাসচিবদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। যারা মন্ত্রী-এমপি ছিলেন, তাদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

জিয়া অরফানেজ ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আসামি। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাত্ করার অভিযোগ এনে এ মামলা করা হয়। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন হয়।

বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে বুধবার। এই রায় প্রকাশের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন আটকে থাকা এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমও আবার শুরু হচ্ছে। রায়ে দ্রুত মামলাটি নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া নিম্ন আদালত থেকে আগেই ওই মামলায় জামিন নেন এবং তা বহাল আছে। তাই হাইকোর্টের রায়ে আত্মসমর্পণের কোনো নির্দেশনা আসেনি। রায়ের অনুলিপি পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান এই আইনজীবী।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান মামলাসমূহের গতি বৃদ্ধিতে শঙ্কা প্রকাশ করে বুধবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। সেই ষড়যন্ত্র হচ্ছে প্রেসিডেন্ট জিয়ার নাম মুছে ফেলা। দেশপ্রেমিকরা যাতে মাথা তুলে না দাঁড়াতে পারেন, সেজন্য পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য। দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে ১৫টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই- দেশনেত্রীকে কিভাবে অন্তরীণ করা যায়। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অনেক মামলা দিয়েছে। আমাদের এমন কোনো নেতাকর্মী নেই, যাদের বিরুদ্ধে ৬০/৭০টা মামলা নেই। বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র ইত্তেফাককে জানায়, গ্রেফতার কিংবা জেলে যাওয়া নিয়ে তেমন দুশ্চিন্তায় নেই খালেদা জিয়া। তিনি বরং সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন। এরসঙ্গে কোনো কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে না পারলে, তার অবর্তমানে দল পরিচালনার বিষয়েও নির্দেশনা প্রস্তুত করে রাখছেন। খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার ও দলে ভাঙনের শঙ্কার সঙ্গে দলটির নেতা-কর্মীরা নিজেরাও নতুন করে গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন।

Related posts