November 21, 2018

বিএনপিতে বিভক্তির শঙ্কা!

bnp_broken

কাউন্সিলে জাসদের মতো বিভক্ত হয়ে যাবে কি বিএনপি?— এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে। পদ-পদবি বঞ্চিতরা জাসদের দেখানো পথে হাঁটবেন, বিদ্রোহের অংশ হিসেবে খুলে বসবে বিএনপির নতুন ফ্রন্ট— এ রকম নানা আলোচনা এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। কাউন্সিলের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, বিএনপি বিভক্তির শঙ্কা তত বাড়ছে বলে মনে করছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।
ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম শরিক দল জাসদ (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল) ক্ষমতার বলয়ে থাকার পরও দ্বি-খণ্ডিত হয়ে পড়েছে। ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি কাউন্সিল কীভাবে সামাল দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বিএনপি একটি বিশাল রাজনৈতিক দল। দেশ ও দেশের বাইরে সবাই তাকিয়ে আছে আমাদের কাউন্সিলের দিকে। সকলের মাঝে আছে একটা কমিটমেন্ট, প্রত্যাশা আছে এই কাউন্সিলকে ঘিরে। তবে এর মানে এই নয় যে- এটাকে ঘিরে দলের মধ্যে বিভক্তি হবে। আমরা প্রথম থেকেই এক সঙ্গে কাজ করছি। আশা করি ভবিষ্যতেও এক সঙ্গে কাজ করবো।’
তিনি বলেন, ‘তবে এটা ঠিক বিএনপির অনেক নেতার মাঝে ক্ষোভ আছে। আবার প্রত্যাশাও আছে। তবে ক্ষোভ সাময়িক। ক্ষোভের প্রভাব কাউন্সিলে পড়বে না। এ নিয়ে বড় ধরনের কোনো ঘটনাও ঘটবে না বলে আমি মনে করি।’
‘আশা করি সব কিছু ভুলে দলীয় নেতাকর্মীরা সামনের দিকে তাকিয়ে আছে, কারণ এবারের কাউন্সিলে দলে বিশাল পরিবর্তন আসছে’ যোগ করেন মাহবুবুর রহমান।
এদিকে কাউন্সিলের সময় ঘনিয়ে আসলেও সিনিয়র অনেক নেতাদের প্রত্যক্ষভাবে কাজে সম্পৃক্ত না করায় ক্ষুব্ধ অনেকে। সঙ্গে অনেকের দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম ভাঙিয়ে দলীয় গঠনতন্ত্রে পরিবর্তনসহ নিজেদের পদ-পদবী পাওয়ার তদবিরে বিরক্ত নীতিনির্ধারক। এ ছাড়া কাউন্সিলের জন্য গঠিত বিভিন্ন কমিটির নিয়মিত সভায় উপস্থিত না থাকায় ক্ষুব্ধ অনেক নেতাকর্মী। সবকিছু মিলিয়ে এক ধরনের অস্থিরতায় রয়েছে দলটি।
দীর্ঘ ছয় বছর পর বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে বেশ ঢাক-ঢোল পিটানো হলেও শেষ দিকে এসে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মীদের আঁতাতকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না রাজপথে থাকা সক্রিয় কর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতাকর্মী পরিবর্তন প্রতিবেদককে জানান, বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলাম। পুরস্কার হিসেবে শুনছি, কাউন্সিলে আমারই নাকি কোনো পদ নেই। পক্ষান্তরে টাকার জোরে আমার থানার যে কি না বিগত আন্দোলন সংগ্রামে সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছে তাকে কেন্দ্রীয় নেতা বানানো হচ্ছে!
যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘বিএনপিতে অনেক বেঈমান ও চাটুকার রয়েছে। তারা অতীতেও বিএনপির সঙ্গে বেঈমানি করে দলকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে। পক্ষান্তরে দলের ক্ষতি করেছে। এদের ব্যাপারে আমাদের এখনেই সতর্ক ও কৌশলি হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কাউন্সিল উপলক্ষে ইতোমধ্যে পদ-পদবীর জন্য তদবির করা শুরু হয়ে গেছে। এ জন্য রাত-বিরাতে দলের সিনিয়র নেতাদের বাসায় কিংবা পার্টি অফিসে সংবাদ সম্মেলনে তারা উপস্থিত থাকেন। এ থেকে আমাদের বের হতে হবে।’
জানা গেছে, ঢাকা মহানগরের অন্তত বিশটি থানায় কোনো কমিটি না থাকায় কাউন্সিলর কারা হবেন এ নিয়ে শেষ পর্যায়ে এক প্রকার সংশয় দেখা দিয়েছে। দলের নেতারা বলছেন, বর্তমানে কমিটি না থাকলেও পূর্বের কমিটির নেতাদের মধ্যে থেকে কাউন্সিলর নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু এ নিয়ে বর্তমানে সক্রিয় নেতাদের মধ্যে বিরাজ করছে এক ধরনের হতাশা। তাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে তদবিরবাজ, অযোগ্যদের কাউন্সিলর কার্ড পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এভাবে কখনো সঠিকভাবে জাতীয় কাউন্সিল হতে পারে না।
দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ঢাকা মহানগর বিএনপির ৪৯ থানার প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি, আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদাধিকার বলে জাতীয় কাউন্সিলে যোগদানের কাউন্সিলর কার্ড পাবেন।
স্বভাবতই দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, শেষ বেলায় বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে তা কী সামাল দিতে পারবেন খালেদা জিয়া? না কি ভাঙন দরজার সামনে? উত্তর মিলবে ১৯ মার্চ।

২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির পঞ্চম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পর ষষ্ঠ কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও আধাযুগ পর তা হতে যাচ্ছে। উৎসঃ পরিবর্তন

Related posts