November 18, 2018

বাড়ির নামকরনে তৈমূর আলমের মজলুম উপাধি!

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জ: বিখ্যাত ব্যক্তিদের নাম, যশ ও প্রতিপত্তির কারনে তাদের বাড়ি পরিচিতি পায় সেই বিখ্যাতদের নামে। কিন্তু বাড়ির নামকরনে ব্যক্তির পরিচয়ের ঘটনা ঘটলো সম্ভবত এবারই প্রথম। আর এই অবিশ্বাস্য কাজটি করে দেখালেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র স্বঘোষিত সভাপতি এ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। বাড়ির নাম ‘মজলুম মিলনায়তন’ রেখে নিজেকে মজলুম নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন বিএনপি’র এই ফটোসেশন প্রিয় নেতা।

ঘটনার বিবরনে প্রকাশ, ১৯৯৭ সালে তৎকালীন পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করার শখ জাগে এ আইনজীবীর। সে সময়ের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ থেকে সমর্থন আদায়ে ব্যার্থ হয়ে যোগ দেন বিএনপি’তে। বিএনপি’তে যোগ দিয়েই কুটবুদ্ধি সম্পন্ন এই নেতা দলের মাঝে বিভক্তি তৈরী করে পুরানো ও অভিজ্ঞ নেতাদের বাদ দিয়ে নিজেই নিজেকে নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বড় জিয়ার সৈনিক প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। নানা চরাই উৎরাই পেরিয়ে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। এই সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগান সুচতুর এই নেতা। হয়ে যান বিআরটিসির চেয়ারম্যান। বৈধ অবৈধ নানা উপায়ে উপার্জণ করেন কয়েকশ কোটি টাকা। সেই টাকায় পৈত্রিক সম্পত্তিতে গড়ে তোলেন বিলাসবহুল বহুতল ভবন। আর এ ভবনের নাকরণ করেন ‘মজলুম মিলনায়তন’। সেই থেকে নিজেকে বিএনপি’র মজলুম নেতা দাবী করে আসছেন বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত তৈমূর আলম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মজলুম নেতা একজনই। তিনি হচ্ছেন মাওলানা আঃ হামিদ খান ভাষানী। তিনি খুবই সাধারণ জীবন যাপন করতেন এবং অসহায় মানুষ কোথাও নির্যাতিত হলে তার পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন। তিনি কখনও ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করতেন না। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করতেন। তাই বাংলার মানুষ ভালবেসে তাকে ‘মজলুম জননেতা’ উপাধীতে ভূষিত করে। আর তৈমূর কবে কোথায় অসহায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন? কোনদিন কি রাজনৈতিক কোন কর্মসূচি ছাড়া আমজনতার দাবী আদায়ে তাকে রাজপথে দেখা গিয়েছে? তবে কিসের ভিত্তিতে তিনি নিজেকে মজলুম নেতা দাবী করেন? তাছাড়া নিজেকে নিজে কোন বিশেষনে বিশেষায়িত করার মাঝে কোন কৃতিত্ব নেই। জনগন ভালবেসে কাউকে কোন বিশেষ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ কোন বিশেষ নামে অভিহিত করলে সেখানেই তার কৃতিত্ব নিহিত।

অথচ নিজে বিলাসবহুল বাড়িতে থেকে, দামী গাড়িতে চড়ে নিজেকে ‘মজলুম’ দাবী করা তার ব্যর্থতাকে আড়াল করার অপচেষ্টা মাত্র। তৈমূর নিজের ঢোল নিজেই পিটাচ্ছেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে এর কোন সম্পৃক্ততা নেই।

অপর এক বিএনপি নেতা আক্ষেপের সুরে বলেন, গত প্রায় দশ বছর হতে চললো দল ক্ষমতায় নেই। এই দীর্ঘ সময়ে সরকারী দলের হামলা-মামলায় জর্জরিত হয়ে আমাদের মতো তৃনমূল নেতাকর্মীদের দিশেহারা অবস্থা। অথচ জেলার সভাপতির কাছ থেকে আমরা কখনো কোনপ্রকার সহযোগিতা পাইনি। অনেক সময় টাকার অভাবে আমরা মামলা চালাতে উকিল নিয়োগ দিতে পারিনি। তখন কোথায় ছিলেন এই মজলুম নেতা। আমরা দলীয় নেতাকর্মীরাই কোন সাহয্য পাইনা, সাধারণ মানুষ কিছু পাবে-সে আশায়তো গুড়েবালি। মজলুম নেতা হতে হলে আগে আপন পর বিবেচনা না করে সকলের বিপদে পাশে এসে দাঁড়াতে হবে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/০৯ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts