November 17, 2018

বাড়ছে দফায় দফায় রেলের ভাড়া, ক্ষুদ্ধ যাত্রীরা!

রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ  রফিকুল ইসলাম রফিক,নারায়ণগঞ্জঃ  ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে দফায় দফায় বেড়েছে রেলের ভাড়া, কিন্তু বাড়েনি যাত্রী সেবার মান, বরং দিনকে দিন তা আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে- এমনটাই অভিযোগ এ রুটে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণের। তাদের মতে, রেল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারনেই এমনটা ঘটছে। আর এ জন্য তারা দায়ী করেন রেলের কিছু সংখ্যক অসাধু কর্মকর্তাকে। যারা কিনা বাস মালিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে রেলের মানোন্নয়নে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।

ঘটনার বিবরনে প্রকাশ, ২০০৯ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে রেলের ভাড়া ছয় টাকা থেকে বাড়িয়ে দশ টাকা করা হয়। কিন্তু যাত্রীসেবার মান, ট্রেনের সংখ্যা কিংবা ট্রেনের বগির সংখ্যা আর বাড়ানো হয়নি। সেই একই মান্ধাত্বার আমলের ট্রেন আর বগি দিয়েই চলতে থাকে রেলের কার্যক্রম। বরং এর মধ্যে ট্রেনের ভিতরের অবস্থার আরো অবনতি ঘটে।

সিটগুলো বিভিন্ন যায়গায় ছিড়ে যায়, বাথরুম ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায়, সেই সাথে বৃদ্ধি পায় প্রতারক ও পকেটমারের দৌরাত্ম। বহু টাকা ব্যয়ে বিদেশ থেকে ডেমু ট্রেন আনা হলেও তা কর্যকর কোন ফল বয়ে আনতে পারেনি। ধারনক্ষমতা কম থাকায় সেগুলো সারাদিন অকেজোই পরে থাকে। শুধু দুপুরে যখন যাত্রীর চাপ কম থাকে তখন একটা করে ট্রিপ দেওয়া হয় এই ডেমু দিয়ে। কিন্তু এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোন ব্যবস্থা না নিয়েই ২০১৬ সালে আবারো বৃদ্ধি করা হয় রেলের ভাড়া। এবার দশ টাকা থেকে করা হয় পনের টাকা। যদিও সরকারী প্রজ্ঞাপণ সাড়ে সাত ভাগ বৃদ্ধির করার কথা বললেও মানা হয়নি সেই বিধি নিষেধ। কারন সাড়ে সাত ভাগ বৃদ্ধি করা হলে ভাড়া হবে দশ টাকা পঁচাত্তর পয়সা। এ ক্ষেত্রে করা হয়েছে পনের টাকা। জনপ্রতি চার টাকা পঁচিশ পয়সা করে বেশী ভাড়া আদায় করা হচ্ছে এই রুটে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে। অথচ নির্বিকার প্রশাসন, নিশ্চুপ ভুক্তভোগি। কয়েকটি রাজনৈতিক দল ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিটিং মিছিল করে থেমে গেছে। ভাবছে তাদের দায়ীত্ব শেষ। নিজেদের ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতার জন্য তারা যে পরিমান আন্দোলন সংগ্রাম করে তার সিকিভাগও যদি মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর জন্য করতো তবে এতা অনিয়ম চলতে পারতো না।

সরেজমিনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে চলাচল করে দেখা গেছে, সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগের অন্ত নেই। সবচেয়ে বেশী অভিযোগ রেলের ভাড়ার তুলনায় সেবার মান নিয়ে।

বসার জায়গা না পেয়ে দাড়িয়ে যাওয়া ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, দফায় দফায় রেলের ভাড়া বাড়ানো হয় কিন্তু বাড়েনা বগির সংখ্যা। ছয় টাকা ভাড়া দিয়েও দাড়িয়ে যেতাম এখন পনের টাকা ভাড়া দিয়েও দাড়িয়েই যেতে হচ্ছে। ভাড়া বাড়ে সুযোগ সুবিধা বাড়ে না।

এ সময় অপর এক যাত্রী বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস ভাড়া অন্য যে কোন জেলার চেয়ে বেশী। বাস মালিকরা এই বর্ধিত বাস ভাড়া আদায় করতে রেলের মান যাতে না বাড়ে সেজন্য রেল কতৃপক্ষকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে রেখেছে। কারন রেলের সেবার মান বৃদ্ধি পেলে এতো বেশী ভাড়া দিয়ে কেউ আর বাসে চড়বে না। এই অসাধু চক্রের কাছে আমরা জিন্মি হয়ে পরেছি। যতদিন পর্যন্ত এই অসাধু সিন্ডিকেটের মুখোশ উন্মোচন করে তাদেরকে বিচারের আওতায় না আনা হবে ততদিন পর্যন্ত এই রুটে ট্রেনের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে না।

এক মহিলা যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, ট্রেনে পুরুষ পকেটমারের সাথে মহিলা পকিটমারও রয়েছে। এরা মানুষের ব্যাগ ও পকেট থেকে টাকা, মানিব্যাগ, মোবাইল নিয়ে মুহুর্তেই উধাও হয়ে যায়। কয়েকদিন আগে আমার ভ্যানেটি ব্যাগ থেকে তিন হাজার টাকা ও আমার মোবাইল সেট নিয়ে গেছে। আমি মহিলা কম্পাটমেন্টে ছিলাম। তাই এই কাজটা অবশ্যই কোন মহিলাই করেছে। এখানে যাত্রীদের নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থাই করা হয় না। আমার মনে হয় ট্রেনের স্টাফদের সাথে এদের যোগসাজসেই এমনটা হচ্ছে।

অপর আরেক যাত্রী কলেজ ছাত্র তমাল বলেন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ট্রেন লাইন ডাবল হওয়ার কথা গত কয়েক বছর যাবত শুনে আসছি। কিন্তু এর বাস্তব প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি না। যদি সত্যি সত্যি ডাবল ট্রেন লাইন চালু করা যেতো তবে এই রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হতো। সেই সাথে কমে যেতো বাসে চলাচলকারী যাত্রী সংখ্যা। তখন বাস মালিকরা বাধ্য হতেন বাস ভাড়া কমাতে।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৮ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts