September 22, 2018

বাল্যবিয়ের সংগ্রাম সেমিকে দিচ্ছে আইপিইউ’র পুরস্কার

বাল্য বিয়ে অস্বীকারকারী হিসেবে আইপিইউ’র শ্রেষ্ট পুরস্কার পাচ্ছে তাড়াশের সেমি

রুহুল আমিন,চলনবিল থেকেঃ    বাল্য বিয়ে অস্বীকারকারী হিসেবে আই পি ইউ শ্রেষ্ট পুরস্কার পাচ্ছেন তাড়াশের সেমি খাতুন। সিরাজগঞ্জ শহরস্থ কান্দাপাড়া হাইস্কুল মাঠে আগামী কাল শনিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে তার হাতে পুরস্কার তুলে দিবেন আইপিইউ এর প্রতিনিধি।

নাশন্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এনডিপি) কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, তাড়াশ উপজেলা সদর ইউনিয়নের ইয়ুথ গ্রুপের সদস্য মোছাঃ সেমি খাতুন বর্তমানে নবম শ্রেণীর ছাত্রী। অষ্টম শ্রেণীতে পাঠকালিন সময়ে তার বিয়ে ঠিক করে তার পিতা। বিয়ের কথা অস্বীকার করলে তার পিতা তাকে সাফ জানিয়ে দেয় বই পুস্তক পুড়িয়ে দেব। আর পড়াশোনা করাবো না। এ কথা গুলো শুনে সেমি পরের দিন এনডিপি’র উক্ত এলাকার মাঠ কর্মী আমেনা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করে। আমেনা তার পিতামাতাকে বাল্য বিয়ের কু-ফল এবং প্রচলিত আইনের পরিপন্থী জানালেও বিয়ের ব্যাপারে অনড় থাকে। ব্যাপারটি তাড়াশ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করলে তার পিতামাতাকে ডেকে পাঠান। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বাল্য বিয়ের কু-ফল বিস্তারিত জানালে তার পিতা শেস পর্যন্ত বিয়ে দিবেনা বলে জানায় এবং নির্বাহী অফিসারের নিকট মুচলেকা দেয়। সেমি এরপর পুর্ণদোমে লেখাপড়া শুরু করে।

জেএসসি পরীক্ষায় ৪ দশমিক ২২ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। ইন্টার নাশন্যাল পার্লামেন্টারী ইউনিয়ন (আইপিইউ) একটি জরিপ চালায়। জরিপে সেমির বাল্য বিয়ে অস্বীকারকারী হিসেবে শ্রেষ্ট হয়। এব্যাপারে তাড়াশ উপজেলার বৃ-পাচান গ্রামের সেমি খাতুনের সাথে যোগাযোগ করলে জানায় তার পিতা বাল্য বিয়ে দিতে অনমনীয় থাকায় সেদিন সে খুব দুঃখ পেয়েছিল। রাতভর কেদে ছিল। পরের দিন এনডিপি’র মাঠকমী আমেনার সঙ্গে দেখা করলে তিনি বাল্য বিয়ে বন্ধের ব্যবস্থা করলে আমি খুবী আনন্দিত হয়ে ছিলাম। আমাকে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে জেনে খুব খুশি হয়েছি। কিন্তু তার চেয়েও খুশি হয়ে ছিলাম যখন তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আমার পিতার বাল্য বিয়ে না দেবার মুচলিকা দেওয়ায়।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts