November 18, 2018

বালুচরে সবজি চাষে সফল প্রদীপ মহন্ত

thz pic 1

তোফায়েল হোসেন জাকির, গাইবান্ধা: ব্রক্ষপুত্র নদের বালু চরের জমিতে দেশী জাতের মিষ্টি কুমড়া,পুঁই শাক ও লাল ডাটা চাষ করে চমক সৃষ্টি করেছেন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ভাষারপাড়া গ্রামের সবজি চাষী প্রদীপ মহোন্ত। সফলতাও পেয়েছেন শতভাগ।
এ দেশে চর মানেই অভাব, দারিদ্র, অশিক্ষা, ক্ষধার্ত মানুষের মুখ আর বিঘার পর বিঘা পতিত জমি। শুকিয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের ধু-ধু বালি চরের জমিকে নিজের প্রচেষ্ঠায় চাষাবাদের উপযোগী করে সাজিয়েছেন হাজার হাজার মিষ্টি কুমড়ার গাছ দিয়ে ৬ বিঘা জমি। একই জমিতে বিদেশী জাতের স্কষ মিষ্টি কুমড়াও লাগিয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত স্কষ জাতের মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করেছেন ৫০ হাজার টাকা। আরও ১০ হাজার টাকার স্কষ মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি জানান। পুঁই শাক ও লাল ডাটা। ফলনও হয়েছে প্রচুর। চরের বুকে পড়ে আছে সারি সারি হলুদ রংরের দেশী জাতের বড় বড় মিষ্টি কুমড়া। প্রদীপ চন্দ্র মহোন্ত ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাট পাকার মাথায় কামারের কাজ করতেন বাবা রমেশ চন্দ্র মহোন্তের সঙ্গে। বাবার মৃত্যুর পর প্রদীপ মহোন্ত মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। গত বছর একটি বেসরকারি এনজিও’র পরামর্শে প্রথম মিষ্টি কুমড়া চাষ করেন। সে বার মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করে ভালোই আয় হয়। বাবার রেখে যাওয়া ও কিছু জমি বর্গা নিয়ে এবার সে নিজের প্রচেষ্টায় ৬ বিঘা জমিতে দেশী ও বিদেশী মিষ্টি কুমড়া, ১ বিঘা জমিতে লাল ডাটা এবং বাড়ির পাশে ২ বিঘা জমিতে পুঁই শাক আবাদ করেছেন। ইতিমধ্যে পুঁই শাক বাজারজাত করতে শুরু করেছেন। ৮ বিঘা জমিতে সার, পানি, ভিটামিন, ওষুদ ও প্রতিদিন ৩জন শ্রমিকসহ শুরু থেকে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। সে আশা করছে মিষ্টি কুমড়া, পুঁই শাক ও লাল ডাটা সবমিলে আনুমানিক আড়াই লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যাবে। তাতে তার আয় হবে প্রায় ১ লক্ষ টাকা। বাজারে প্রতিকেজি মিষ্টি কুমড়া পাইকারি ভাবে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ভাষারপাড়া গ্রামের দিনমজুর সাইদুল ইসলাম মিষ্টি কুমড়ার জমিতে কাজ করে দৈনিক ২৫০ টাকা মজুরী পাচ্ছেন। সাইদুল ইসলাম জানান, কোন কাজকর্ম আগে না থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। এখন প্রদীপের জমিতে দৈনিক কাজ করে যে টাকা পাচ্ছি তাতে আমার সংসার ভাল চলছে। ভাষারপাড়া গ্রামের অলিন চন্দ্র দাশ জানান, প্রদীপের মিষ্টি কুমড়ার আবাদ দেখে এলাকার অনেকেই এখন মিষ্টি কুমড়া, পুঁই শাক ও লাল ডাটা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ভাষারপাড়া গ্রামের মিষ্টি কুমড়া চাষী প্রদীপ চন্দ্র মহোন্ত জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কোন সহায়তা এমনকি পরামর্শও পাওয়া যায় না। আমার মিষ্টি কুমড়ার আবাদ থেকে কৃষি অফিসের কঞ্চিপাড়া ব্লক সুপারভাইজার একবস্তা ইউরিয়া সার ও ১০ কেজি মাটি সার দেন। তার বদলে তাদের একটি সাইন বোর্ড জমিতে টানিয়ে দেন। যদি পুরোপুরি সহযোগীতা পাওয়া যেতে তাহলে আরও বেশি ফলন পাওয়া যাতো।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, আমরা সব সময় কৃষকদের কীটনাশক কম ব্যবহার করে সেক্স ফেরেমন ট্যাব ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Related posts