September 23, 2018

বার্সাকে বাংলাদেশিদের ভালোবাসার কথাই জানালেন ড.ইউনূস

509
স্পোর্টস ডেস্কঃ  বাংলাদেশের ফুটবলভক্তদের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্লাবের নামই সম্ভবত স্পেনের বার্সেলোনা। বাংলাদেশি এসব ভক্তের বার্সেলোনার প্রতি আবেগ আর ভালোবাসার কথা এতদিন হয়তো জানতোই না ক্লাবটি। কিন্তু এবারে সেটা ভালোভাবেই টের পেলো তারা। আর সেটা সম্ভব হলো নোবেলজয়ী একমাত্র বাংলাদেশি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মাধ্যমে। ক্লাবটির ওয়েবসাইটে গতকাল এমএসএন ত্রয়ী কিংবা ক্লাবের অন্য সব খবরের ওপরে জায়গা করে নিয়েছেন ড. ইউনূস। তার সঙ্গে তোলা ক্লাব কর্মকর্তাদের ছবিকেই তারা সসম্মানে স্থান দিয়েছেন প্রথম পেজে।

যতদূর জানা যায়, এর মাধ্যমে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি বিশ্বের অন্যতম সেরা ও জনপ্রিয় এই ক্লাবের ওয়েবসাইটের প্রথম পেজে জায়গা করে নিলেন। হ্যাঁ, ড. ইউনূস গিয়েছিলেন বার্সেলোনার মাঠ ন্যু ক্যাম্পে। আর সেখানেই এই ক্লাবের প্রতি বাংলাদেশি ফুটবলভক্তদের আবেগ ও ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। দেশের বেশির ভাগ মানুষই যে বার্সেলোনার ভক্ত, সেটিও জানাতে ভুল করেননি তিনি। সামাজিক ব্যবসায়ের ধারণা দিতে ড. ইউনূস স্পেনের বার্সেলোনায়। স্প্যানিশ শহরটিতে তার উপস্থিতির কথা জানতে পেরেই বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ক্লাবটি তাকে আমন্ত্রণ জানায় নিজেদের মাঠে। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই ড. ইউনূস পৌঁছান ন্যু ক্যাম্পে। ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট জার্ডি কার্দোনার ও পরিচালক দিদাক লি এবং বার্সেলোনা ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষক র‌্যামন গারিগা তাকে ক্লাবে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
প্রফেসর ড. ইউনূসকে আমন্ত্রণকারীরা স্টেডিয়াম ও বিশেষ করে জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান।

তাকে পিচের ওপর দিয়ে হাঁটার আমন্ত্রণ জানানো হয়, যা সচরাচর অন্যদের জানানো হয় না। পিচে খেলা চলাকালীন কেমন অনুভূত হয়, তা বুঝানোর জন্য তাকে ভিআইপি বক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখান থেকে পুরো মাঠটা দেখা যায়। তার যখনই ইচ্ছা হবে সেখানে ভিআইপি বক্স থেকে যেকোনো খেলা দেখার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাবের অফিসিয়াল টিভি চ্যানেল প্রফেসর ইউনূসের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে। এরপর তাকে ক্লাবের জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সমৃদ্ধ জাদুঘরটি পুরো ঘুরিয়ে দেখানো হয়। ন্যু ক্যাম্প স্টেডিয়ামে বার্সেলোনার জার্সি পরিহিত ড. ইউনূসের সঙ্গে ছবিও তোলেন তারা। আর এই ছবিটিকেই স্থান দেয়া হয় ক্লাবের ওয়েবসাইটের শীর্ষে।

গত ডিসেম্বরে বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাব যে ‘২০১৫ ওয়ার্ল্ড ক্লাব ফুটবল চ্যামিপয়নশিপ’ ট্রফি জেতে, তা বের করে এনে প্রফেসর ইউনূসকে দেখানো হয়। তিনি মেসির ৫টি গোল্ড ফুটবলের একটির ছবিও তোলেন। ড. ইউনূসকে নিজেদের মধ্যে পেয়ে উচ্ছ্বাস জানিয়েছেন ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট। ক্লাব ওয়েবসাইটে তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘ড. ইউনূসকে এখানে পেয়ে আমরা সম্মানিত। তিনি সামাজিক চাহিদার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং মানবতার জন্য অনেক কিছু করেছেন। আমাদের ক্লাবের প্রতি তিনি যে আগ্রহ দেখিয়েছেন, তা আমাদের গর্বের কারণ।’ ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী ড. ইউনূস বার্সেলোনার মাঠে উপস্থিত হয়ে দারুণ খুশি। ন্যু ক্যাম্পে দাঁড়িয়ে তিনি বাংলাদেশিদের ফুটবল আবেগ ও বার্সার প্রতি ভালোবাসার কথাও জানান। তিনি বলেন, ‘এখানে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত রোমাঞ্চিত বোধ করছি।

বাংলাদেশে সবাই বার্সার ফ্যান। বাংলাদেশের মানুষ এই ক্লাবটি ও এর খেলোয়াড়দের সমপর্কে সবই জানে এবং এদের সমপর্কে মানুষের আবেগ দেখলে অবাক হতে হয়। এ দেশের মানুষের কাছে বিশেষ করে যুব সমাজের কাছে খেলা হচ্ছে একটা স্বপ্ন। বার্সা মানুষকে একত্রিত করে এবং এই শক্তি অন্যদের মঙ্গল করতে পারে, যেমনটি তারা বলে ‘ক্লাবের চেয়ে বেশি’ এবং এর একটি অপ্রতিরোধ্য সম্ভাবনা রয়েছে।’
প্রফেসর ইউনূস মেসি, নেইমার, পিকে ও শাকিরাকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ও সামাজিক ব্যবসায় দিবসে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। সহ-সভাপতি জার্ডি কার্দোনার এই আমন্ত্রণ সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেবেন বলে জানান।

২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ‘বার্সেলোনা সামাজিক ব্যবসায় নগরী’ পরিদর্শনের অংশ হিসেবে বার্সেলোনায় অবস্থানকালে মঙ্গলবার বার্সেলোনা ফুটবল ক্লাব পরিদর্শন করেন। প্রান্তিক খাত ও ব্যবসায়কে এগিয়ে নেয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করতে ‘বার্সেলোনা সামাজিক ব্যবসায় নগরী’ প্রফেসর ইউনূসেরই একটি উদ্যোগ। এফসি বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন এই প্রকল্পের গত সেশনটিতে সহায়তা দেয়।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি

Related posts