November 17, 2018

বান্ধবীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছবি ইন্টারনেটে দেয়ার হুমকি, ছাত্রের আত্মহত্যা

ডেস্ক রিপোর্টঃ  দুই যুগলকে জোর করে ঘনিষ্ঠ ছবি তুলতে বাধ্য করানো৷ পরে সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি৷ যার জেরে লজ্জায়, অপমানে আত্মাঘাতী হল এক ছাত্র৷ শনিবার দুপুরে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার চাকদহ থানার হিংনাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মহেশচন্দ্রপুর গ্রামে৷ মৃতের নাম রাজেন্দ্র কুমার রায় (২০)৷

এই আত্মহননের ঘটনাটি ঘটেছে মৃত যুবকের প্রেমিকার চোখের সামনেই৷ মৃতের বাড়ির লোকের অভিযোগ, মেয়েটি পাড়ার ছেলেদের কাছে কাকুতি মিনতি করলেও কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি৷ এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে স্থানীয় এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ৷

রাজেন্দ্রর মামা অংশবতী মণ্ডলের অভিযোগ, শনিবার রাজেন্দ্রর বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না৷ এদিন দুপুরে ভাগ্নে ও তার বান্ধবী বাড়ির বারান্দায় বসে গল্প করছিল৷ সেই সময় পাড়ার কয়েকজন প্রতিবেশী বিষয়টি দেখতে পেয়ে পাড়ার ক্লাবের ছেলেদের জানায়৷ এর পরই বাড়িতে চড়াও হয় ক্লাবের ছেলেরা৷ এর পর ভাগ্নে রাজেন্দ্র ও তার বান্ধবীকে জোর করে একটি ঘরে নিয়ে যায়৷ সেখানেই প্রাপ্তবয়স্ক যুগলকে বাধ্য করানো হয় ঘনিষ্ঠ পরিস্থিতি তৈরি করতে৷ সেটাই পাড়ার ছেলেরা মোবাইল ক্যামেরা-বন্দি করে৷ এর পরই এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় পাড়ার ছেলেরা৷ দাবি করা হয় ১০ হাজার টাকাও৷

রাজেন্দ্রর বান্ধবী জানিয়েছেন, দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র রাজেন্দ্র কাকুতি মিনতি করেছিল ক্লাবের ছেলেদের কাছে কিন্তু কেউ কথা শোনেনি৷ উল্টে রাজেন্দ্রকে হেনস্তা করা হয় ঘরের মধ্যেই৷ এর পর ঘরের আলমারিতে থাকা চার হাজার টাকা ক্লাবের ছেলেদের হাতে তুলে দেওয়া হয়৷ কিন্তু বাকি ছ’হাজার টাকা ১০ দিনের মধ্যে না দিলে এই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দিয়ে চলে যায় ক্লাবের ছেলেরা৷ ভেঙে পড়ে রাজেন্দ্র৷ এর পর একপ্রকার জোর করেই বান্ধবীকে ঘরের বাইরে বের করে দিয়ে বন্ধ করে দেয় ঘরের দরজা৷

পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে বুঝতে পেরেই রাজেন্দ্রর বান্ধবী দরজায় ধাক্কা দিতে থাকে৷ কিন্তু কোনো সাড়া না মেলায় এরপর কিছুক্ষণ আগে হুমকি দিয়ে যাওয়া ক্লাবের ছেলেদের দ্বারস্থ হয় সে৷ রাজেন্দ্রকে বাঁচানোর জন্য আবেদন করলেও কেউ তা কানে তোলেনি৷ রাজেন্দ্রর পরিবারের লোক বাড়ি ফিরে দরজা ভাঙতেই দেখা যায় ঘরের মধ্যে আত্মঘাতী হয়েছে সে৷ ভেঙে পড়েন তাঁর বান্ধবীও৷

এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে চাকদহ থানার পুলিশ৷ মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়৷ পরিবারের পক্ষ থেকে পাড়ার ক্লাবের আট যুবকের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷ এই ঘটনায় রাজেন্দ্রর বান্ধবীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, যে যুবককে আটক করা হয়েছে তার সঙ্গে রাজেন্দ্রর বান্ধবীর বয়ানের পার্থক্য রয়েছে৷ হুমকি দিয়ে নেওয়া চার হাজার টাকাই বা কোথায়? পুলিশ রাজেন্দ্রর পরিবারের সদস্যদেরও বয়ান নিয়েছে৷ এই ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্তসহ বাকিরা এলাকাছাড়া৷ সন্ধানে নেমেছে পুলিশ৷

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

Related posts