November 15, 2018

বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি

Captureঢাকা::

দেশজুড়ে চলছে বিএনপির দুই মাসব্যাপী প্রাথমিক নতুন সদস্য পদ সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি। স্বতঃস্ফূর্তভাবে জনগণের মধ্যে এই কর্মসূচিতে সাড়া পড়েছে বলে দলটির সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের দাবি। তবে সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে সরকারি দল ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বাধার মুখে পড়ছে বিএনপি। অনেক এলাকায় কর্মসূচি পণ্ড করে দেয়ার অভিযোগও উঠেছে।

সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডি থানা ছাড়াও ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, মাদারীপুরের শিবচর, নেত্রকোনা, খাগড়াছড়িসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হয়েছে। এত কিছুর পরও বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে বলে নেতারা জানিয়েছেন। নারী ও তরুণেরা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য ফরম সংগ্রহ করে দলের সদস্য হচ্ছেন। গতকাল পর্যন্ত এক মাসে প্রায় ৩৫ লাখ নতুন সদস্য ফরম বিক্রি হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে, যা টার্গেটের প্রায় ৩৫ শতাংশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) টাওয়ারে ধানমন্ডি থানা বিএনপি ও সব সংগঠনের উদ্যোগে নতুন সদস্য পদ সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি ছিল। থানা বিএনপির সভাপতি শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর আগেই শাহবাগ থানা পুলিশ এসে সেখানে অনুষ্ঠান না করতে তাগিদ দেয়। পুলিশের পক্ষে বলা হয়- কর্মসূচি করতে অনুমতি লাগে। কিন্তু এখানে অনুমতির ব্যাপারে থানায় যোগাযোগ করা হয়নি। একপর্যায়ে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শেষ করা হয়। হলরুম ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় অন্তত ছয়জনকে আটক করা হয়।

একই দিনে ফরিদপুরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে বাধা দেয় পুলিশ। ওই দিনই মাদারীপুরের শিবচর থানার কয়েকটি ইউনিয়নের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে বাধা দেয় পুলিশ। শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মাদারীপুর-১ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান জানান, শিবচরের মাতবর চর, পাঁচচর এবং কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নে আমরা সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচী করেছি পুলিশের বাধার মুখে। কর্মসূচি শেষ হওয়ার সাথে সাথে পুলিশ তাড়া করেছে। কোথাও আগেই হুমকি দিয়েছে। সেসব কর্মসূচিতে নারী এবং তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। আসলে সরকার বিএনপিকে দুর্বল করতেই পুলিশ দিয়ে হয়রানি করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গত ২৯ জুলাই ফরিদপুর, ময়মনসিংহ এবং খাগড়াছড়ির রামগড়ে বিএনপি সদস্য সংগ্রহ ফরম বিতরণকালে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। রামগড় উপজেলার কালিপাড়ায় ফরম বিতরণকালে পুলিশ বাধা দেয়। তার আগে পটুয়াখালীর দশমিনায় বিএনপি সদস্য সংগ্রহ ফরম বিতরণকালে বাধার সম্মুখীন হয়। এর আগে গত ১৯ জুলাই কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে সদস্য ফরম বিতরণকালে হামলা চালায় যুবলীগ কর্মীরা। এতে কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক এমপি অধ্যাপক শহিদুল ইসলামসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

এ ছাড়া গত ২৩ জুলাই টাঙ্গাইলে কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশি হামলায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আহত হয়। চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। অন্য দিকে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলেও অনেক জায়গায় বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান ভণ্ডুল হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ২২ জুলাই রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানে জেলা ছাত্রদলের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গত বুধবার বরিশালে বিএনপি মহাসচিবের সামনে বিরোধ ও হাতাহাতিতে জড়ায় দক্ষিণ জেলা বিএনপির দু’টি পক্ষ।

নেত্রকোনায় বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নেত্রকোনা-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী অধ্যাপক ডা: আনোয়ারুল হক জানান, তার জেলায় এক লাখ নতুন সদস্য সংগ্রহের টার্গেট নিয়ে কর্মসূচি চলছে। গত ২৯ জুলাই সদর থানার চল্লিশা ইউনিয়নের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে মহড়া দেয়। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার ঘটে। তারপরও টার্গেট ছাড়িয়ে জেলায় আরো বেশিসংখ্যক লোককে বিএনপির নতুন সদস্য করতে সক্ষম হবেন বলে তিনি জানান। একই জেলার ৫ নম্বর আসনে (পূর্বধলা) মনোনয়নপ্রত্যাশী শহীদুল্লাহ ইমরান বলেন, আমরা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সদস্য ফরম বিতরণ করছি। আশা করি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির দফতরের দায়িত্বে নিয়োজিত দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, পুলিশ ও সরকারের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা যৌথভাবে আমাদের সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে হামলা চালাচ্ছে। তারা হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠান পণ্ড করেছে। আসলে এসবই হচ্ছে স্বেচ্ছাচারী সরকারের চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। বর্তমান জুলুমবাজ ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার বিরোধী দলকে গণতন্ত্রের ন্যূনতম স্পেস দিতে চায় না। তারপরও বিএনপির সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। তরুণ এবং নারীরা বিএনপির প্রাথমিক সদস্য ফরম পূরণ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ১ জুলাই রাতে গুলশানে নিজ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দুই মাসব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। বিএনপির টার্গেট এবার এক কোটি নতুন সদস্য সংগ্রহ করা। জানা গেছে, টার্গেট পূরণে এবার ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিটি ওয়ার্ডে ২০০, পৌরসভার ওয়ার্ডে ৩০০ এবং সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১ হাজার করে নতুন সদস্য সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে বিএনপির নেতারা কাজ করছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে গত কয়েক বছর নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি করেনি বিএনপি। সর্বশেষ ২০০৯ সালে এই কর্মসূচি পালন করে দলটি। ওই সময় বিএনপির সদস্য সংগ্রহের টার্গেট ছিল পঞ্চাশ লাখ।

Related posts