November 21, 2018

বাচ্চু রাজাকার কি এখন সুইডেনে?

আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার

সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দেশপাপ্ত আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার পাকিস্তান জামায়াতের ‘শেল্টারে’ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তার সম্বন্ধে ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,আমরা যদ্দূর জানতে পেরেছি, তিনি এখান থেকে পালিয়ে কিছুদিন পাকিস্তানে ছিলেন। তারপর পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর শেল্টার নিয়ে ফ্রিকোয়েন্টলি ইংল্যান্ড, সুইডেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রথম দিকে তিনি (বাচ্চু রাজাকার) ইংল্যান্ডে কিছুদিন অবস্থান করেছেন। তবে তাকে সর্বশেষ দেখা
গিয়েছে সুইডেনে। এই তথ্য আমরা পেয়েছি প্রায় ছয় মাস আগে।

বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন স্থানীয় একটি বাংলাদেশি মসজিদের আমন্ত্রণে স্টকহোমে আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার সফর করেন বলে জানা যায়।ওই সময় তিনি এনটিভিতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনা করে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তবে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দন্ডাদেশ হওয়ার পর তার স্টকহোমে আসার কোনো সংবাদ এখন পর্যন্ত কারও নজরে আসেনি। সম্প্রতি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি স্থানীয় বাঙালিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ ব্যাপারে স্টকহমে বসবাসকারী প্রবাসী বাঙালিদের সদা সতর্ক থাকা উচিত বলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি মনে করছে।

আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারকে এখন পর্যন্ত স্টকহোমে প্রকাশ্যে কোথাও দেখা গেছে বলে শোনা যায়নি। যদি তিনি সত্যি সত্যি সুইডেনে এসেই থাকেন তাহলে স্টকহোমের সুপরিচিত জামায়াত নেতাকর্মীদের আশ্রয়ে তার অবস্থান করার সম্ভবনা রয়েছে। স্টকহোমে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে কারা সক্রিয় স্থানীয় বাঙালিদের ভালো করেই জানা আছে। রাজধানীর শহরতলী ব্রেদেং ও সেত্রা এলাকায় জামায়াত নেতাদের বসবাসের খবর অনেকেই অবগত। এ ছাড়াও কিছু কিছু ছাত্রাবাস ও রাজধানীর একটি ম্যাকডোনাল্ড বার্গার রেস্টুরেন্টে শিবিরদের আস্তানা আছে বলে জানা গেছে। এখন স্বাধীনতার স্বপক্ষের সব সচেতন নাগরিকের কর্তব্য পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি যাচাই করে দেখা। আসলেই কি আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার এখন সুইডেনে?

এদিকে, সুইডেনের রাজধানী স্টকহোম জামায়াতের একটি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত। এখানে জামায়াতের বেশ কয়েকজন বড় বড় নেতা সফর করেছেন। এদের দুজনের ফাঁসি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। জানা যায়, জামায়াত-শিবির এখন তাদের বড় আস্তানা হিসেবে শহরতলী শিস্তার একটি মসজিদকে ব্যবহার করে আসছে। ইসলামি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আড়ালে মূলত তারা জামায়াত-শিবিরকে সংগঠিত করছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দন্ডাদেশপাপ্ত ফরিদপুরের খোকন রাজাকার সুইডেনে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নিয়ে বর্তমানে তার ছেলে ও মেয়ের সঙ্গে স্টকহোমের ব্রেদেং এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা যায়। একই জেলার লোক হওয়াতে আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের সুইডেনে আসার সম্‌ভবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেই অনেকে মনে করছেন। স্থানীয় জামায়াতের সহযোগিতায় তিনি সুইডেনে এসে আপাতত কোথাও লুকিয়ে থাকলেও থাকতে পারেন।

কয়েক বছর আগে স্টকহোম সফরকালে আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার এই প্রতিবেদকর সঙ্গে এক সাক্ষাতে তার বিরম্নদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তার বিরম্নদ্ধে আনা এ সব অভিযোগ সত্য নয়। স্থানীয় কিছু লোক শত্রম্নতা করে তার বিরম্নদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। স্থানীয় হিন্দুদের কাছেও তিনি একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি। ওই সময় তার বিরম্নদ্ধে কোনো বিচার শুরম্ন না হলেও দৈনিক জনকণ্ঠে একাত্তরে মানবতাবিরোধী সব কার্যকলাপ সংক্রান্ একটি রিপোর্ট প্রকাশ হয়। এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি রিপোর্টটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে স্টকহোমে বসবাসরত তার এলাকার একজন বাঙালি আমাকে বলেন, তিনি নিজের চোখে দেখেছেন আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের অত্যাচার। তার ভয়ে এলাকার হিন্দুরা ভিটাবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল বলে তিনি জানান।

আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের সুইডেনে প্রবেশের কথা একেবারে উড়িয়ে দেয়াও ঠিক হবে না। কারণ, তিনি কোনোভাবে নাম বদলিয়ে কিংবা আসল পরিচয় গোপন করে যদি সুইডেনে প্রবেশ করতে পারেন তাহলে একজন ফাঁসির আসামি হিসেবে খুব সহজেই এখানে তার বসবাসের অনুমতি পাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় জামায়াত-শিবির সুইডেনের রিফুজি আইন ব্যবহার করে তাকে এই দেশে আশ্রয়ের একটা ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। অন্যদিকে, সুইডিশ আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধে যারা দন্ডাদেশপ্রাপ্ত তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে মৃতু দন্ডাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সুইডেন কখনও তার দেশে ফেরত পাঠাতে পারে না। কারণ, সুইডেনের আইনে মৃতুন্ডাদেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পর্যবেক্ষক মহলের মতে সুইডিশ আইনের এই সুযোগ কাজে
লাগানোর চেষ্টা করতে পারে স্থানীয় জামায়াত-শিবির। এই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রয়োজনে তারা দালালের মাধ্যমে বেআইনিভাবে আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারকে সুইডেনে নিয়ে আসার চেষ্টা করলেও করতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts