November 17, 2018

বাকী না দেয়ায় দোকানীর শরীরে গরম তেল ঢেলে দিল এক পাষন্ড!

রফিকুল ইসলাম রফিক
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
আড়াইহাজারে ইফতার সামগ্রী বাকী না দেওয়ায় এক দোকানীর শরীরে গরম তেল ঢেলে দিয়ে জলসে দিয়ে এক পাষন্ড।

জানাগেছে,গত রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের শ্রীনিবাসদী এলাকায় আঃ গণি নামে এক ইফতার সামগ্রী বিক্রেতার কাছ থেকে ইউসুফ আলী নামে ব্যক্তি ইফতার সামগ্রী বাকী দেওয়ার জন্য দাবী করে। কিন্তু বিক্রেতা আঃ গনি তাকে বাকী দিতে অস্বীকার করায় তাদের দুজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে ইউসুফ আলী ক্ষিপ্ত হয়ে আঃ গনির দোকানের পিয়াজো ভাজার কড়াইয়ে থাকা গরম তেল আঃ গনির শরীরে ঢেলে দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন আঃ গনিকে মূমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে ঢামেক হাসপাতালে প্রেরন করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান আঃ গনির বুব,পেট,কোমর ও নিম্নাঙ্গের বেশীর ভাগ অংশ ঝলসে গেছে।

আঃ গনি শ্রীনিবাসদী এলাকার রহমত আলীর ছেলে। ঘটনার পর পাষন্ড ইউনুফ আলী পালিয়ে যায়।

নারায়নগঞ্জের আরও কিছু খবর…………

সোনারগাঁয়ে ভুমি অফিসে অনিয়ম দুর্নীতি

নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা ভুমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবাধে দুর্নীতির কারনে সাধারণ ভুমি মালিকদের হয়রানী করার অভিযোগ উঠেছে । জানা গেছে, সাধারণ ভুমি মালিকরা নামজারী সহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভূমি অফিসে আসলে এখানকার কর্মকর্তা কর্মচারীরা মোটা অংকের টাকা আদায় করতে গিয়ে তালবাহানার মাধ্যমে তাদের হয়রানী করে থাকে  । চাহিদামত টাকা দিলে সবকিছু সহজে সমাধান করে থাকে, না দিলে নানা অযুহাতে বিভিন্ন নথিপত্র গায়েব করে তাদের হয়রানী করা হয় । নামজারী সহকারী নাসির তার সহকারীদের নিয়ে জিম্মি করে রেখেছে  ভুমি অফিস । ভুমি মালিকদের কাছ থেকে  অবৈধ সুবিধা নিতে সম্ভু এবং জনিকে ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।  এ ব্যাপারে নামজারী সহকারী নাসিরের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নী । ভুক্তভোগী ভুমি মালিকরা ওই অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের হাত থেকে রেহাই চায় ।
 
রূপগঞ্জে শ্রমিক গণধর্ষণঃ গ্রেফতার ৩

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ৫নং ক্যানেল এলাকায় স্থানীয় এক নারী শ্রমিক গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গণধর্ষণের ঘটনায় সোমবার সকালে ওই এলাকা থেকে পুলিশ ৩ লম্পটকে গ্রেফতার করেছে। এর আগে, গত শনিবার রাতে এ গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, গোলাকান্দাইল ৫নং ক্যানেল এলাকার আশরাফ মোল্লার ছেলে লিটন মোল্লা (২২), বগুরা জেলার কাহালু থানার বগাইল এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে তরিকুল ইসলাম (১৯) ও মৌলভীবাজার এলাকার শ্রীমঙ্গল থানার দিঘীরপাড় এলাকার মন্তাজ উদ্দিনের ছেলে ইউসুফ (২৩)। ধর্ষিতার বরাত দিয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, স্থানীয় কর্ণগোপ এলাকার কোয়ালিটি ক্যান নামে একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে আসছে ওই নারী শ্রমিক।

গত শনিবার রাত ৯টার দিকে একটি অটোরিকশা যোগে নিজ বাড়ী গোলাকান্দাইলে ফিরছিলেন তিনি। এসময় অটোরিকশাটি স্থানীয় সন্ত্রাসী রাজনসহ রাজন বাহিনীর সদ্যরা গতিরোধ করে। পরে অটোরিকশা চালক সুমনের সঙ্গে ওই নারী শ্রমিকের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অপবাদ দেয় সন্ত্রাসীরা। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা মটরসাইকেল যোগে জোরপুর্বক নারী শ্রমিককে উঠিয়ে নিয়ে যায়। পরে একটি খোলা বাড়িতে নিয়ে সন্ত্রাসী রাজন ও তার এক সহকারী ওই শ্রমিককে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর রাজনসহ তার সহযোগিরা ইউসুফ, তরিকুল ও লিটন মোল্লার হাতে ধর্ষণের শিকার শ্রমিককে বুঝিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে তরিকুল ও লিটনও ওই শ্রমিককে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি রোববার রাতে ধর্ষিতাসহ তার পরিবারের লোকজন থানা পুলিশে অবহিত করেন। পরে সোমবার সকালে পুলিশ গোলাকান্দাইল ৫নং ক্যানেল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ওই তিন লম্পটকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা গণধর্ষণের সত্যতা স্বীকার করেছেন। মামলার প্রস্তুতি চলছে। গণধর্ষণের সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসী রাজনসহ তার সহযোগীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজন বাহিনীর কাছে এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছে। রাজনসহ এ বাহিনীর সদস্যরা একের পর এক হত্যা, গণধর্ষণ, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে আসছে। একাধীবার রাজনসহ এ বাহিনীর সদস্যদের আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা জেলহাজতে পাঠায় কিন্তু বের হয়ে ফের অপরাধমুলক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে তারা।

বেপরোয়া নয়ামাটির মিথুন

আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুর নয়ামাটি লামাপাড়া এলাকার মৃত. আম্বর আলীর ছেলে চিহিৃত দুধর্ষ সন্ত্রাসী একাধিক মামলার আসামী আবদুর রশিদ মিথুন। মিথুন তার সঙ্গীয় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে প্রতিদিনই এলাকার নিরীহ জনতার উপর একের পর এক অন্যায় অত্যাচারের ষ্টিম রোলার চালাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নয়ামাটি এলাকার অনেকেই জানান, মিথুনের আপন ভগ্নিপতি মনিরের সাথে দীর্ঘদিন যাবত অর্থনৈতিক লেনদেন রয়েছে। সে পাওনাকৃত টাকা চাইতে গেলে গত ৫ দিন পুর্বে এলাকার ডেঙ্গর আলীর ছেলে মিথুনের আপন ভগ্নিপতি মনির হোসেনের উপর অতর্কিত ভাবে চড়াও হয়ে তাকে বেদম প্রহার করে গুরুতর আহত করে। সারাদিন রোজা রেখে মনির হোসেন ইফতার শেষে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় মিথুন ও সঙ্গীয় মামুন ওরফে কাইল্লা মামুন,রফেদ আলীসহ অজ্ঞাত ৫/৭ জন মনিরকে পিটিয়ে আহত করে। এ সময় মনিরের আতœচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসী মিথুনগংরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। এবং যাওয়ার পুর্বে মনিরকে বলে যায় যদি এ বিষয়ে কোন মামলায় যাবি তাহলে তোকে প্রানে মেরে ফেলবো। প্রানের ভয়ে মনির হোসেন থানায় কোন মামলা বা অভিযোগ করতে যায়নি।
স্থানীয়রা আরো জানান,সন্ত্রাসী মিথুনের বিরুদ্ধে ভুমিদস্যুতাসহ একাধিক মামলা থাকা সত্বেও পুলিশ তাকে কখনও গ্রেফতার করেনি সরকার দলীয় নেতাদের সাথে সুসম্পর্ক থাকায়। মিথুন পৈতৃকভাবে তেমন সম্পত্তি না থাকলে এলাকার নিরীহ মানুষের জমি জবরদখল করে রেখেছে। এছাড়াও মিথুনের কাছে রক্ষিত অধিকাংশ জমির কোন দলিলপত্র নেই বলে জানান স্থানীয়রা। সন্ত্রাসী মিথুনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় যে সমস্ত মামলা রয়েছে তা উল্লেখিত হল,এলাকার পুইক্কার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু অপহরন মামলায় আসামী যার নং ১৪ (৫/৮/১৫ইং) । মাছ ব্যবসায়ী মাসুদ রানা অপহরনের মামলা যার নং ৪৫(১৪/৮/১৫ইং),আলআমিন হত্যার মামলা নং ৬২০/২০০৪ইং,মমতাজ বেগম হত্যা মামলার নং ০৪(২/৮/২০০৪ইং),ব্যবসায়ী হান্নান অপহরন মামলার নং ৪৭(১৬/৭/১৩ইং) যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন জুয়েলকে হত্যার উদ্দেশ্যে মামলার নং ৭১(২৩/৮/১৪ইং)। সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা মামলাগুলো হল থানার এসআই ফরিদুলের দায়ের করা মাদক মামলা নং ৩১(১৭/২/১৫ইং),নারী ও শিশু নির্যাতনের দায়ে সন্ত্রাসী মিথুনের স্ত্রী আয়েশা আক্তার ঢাকা মেট্রো পলিটন বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত(০২) অ ল সিআর ৭২৩/২০১৩ইং,জমি দখলের অভিযোগে শিরিনা আক্তার নামে জনৈক মহিলা পুলিশ সুপার বরাবর গত ১৯/৩/১৫ইং তারিখে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়াও সিদ্ধিরগঞ্জে নাঈম হত্যা মামলায়ও মিথুন জড়িত বলে দাবী নাঈমের মাতা ঝর্না বেগমের। সে সময়  মিথুনের ব্যবহৃত গাড়ি নং( ঢাকা মেট্রো-গ- ১১-৬৮৪২) দিয়ে ঝর্না বেগমের ছেলে নাঈমকে উঠিয়ে নিয়ে আসে গোদনাইন তাতখানার মৃত.আলকাস ভুইয়ার ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী মেঙ্গার সহায়তায়। নাঈমকে হত্যার পর তার মা সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন যার নং ১৫ তাং (১২/৭/১৫ইং) এছাড়াও মাদক বিক্রি,ভুমিদস্যুতা ও অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবেও ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে সন্ত্রাসী মিথুনের।

এলাকাবাসির দাবী বর্তমানে দেশব্যাপী যে হারে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করছে সরকার।নয়ামাটি এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসী ও বহু মামলার আসামী মিথুনগংদেরকে গ্রেফতার করে উপযুক্ত শাস্তি প্রদানে পুলিশ সুপার ও র‌্যাব-১১’র সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগে বিভাজনের আভাস!

দীর্ঘদিন যাবত এক নেতার নেতৃত্বে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ পরিচালিত হলেও বর্তমানে ছাত্রলীগের এই দুটি শাখার শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে বিভাজনের আভাস পাওয়া গেছে। যদিও নেতারা মানতে নারাজ, তবুও তার কিছুটা হলেও প্রমাণ মিলেছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব শামীম ওসমানের নির্দেশে যানজট নিরসনে নগরীতে সদ্য দায়িত্ব পালনকারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের গায়ে পরিহিত টি-শার্টের মধ্যে থাকা লেখা দেখে।

যেখানে দেখাগেছে, জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দরা পৃথক শাখার নাম সম্বলিত টি-শার্ট ও মাথায় টুপি পরিধান করেছে। যা দেখে অনেকের মনেই সন্দেহ দেখা দিয়েছে, তবে কি জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের মাঝে বিভাজনের সৃষ্টি হচ্ছে?

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, নগরীর যানজট নিরসনে রাস্তায় দায়িত্ব পালনকারী ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে নেতাকর্মীদের জন্য একসাথে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ লেখা সম্বলিত একই রকমের টি-শার্ট করার প্রস্তাব দেয় মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শাহ নিজাম। কিন্তু তাতে বাঁধে বিপত্তি। পরবর্তীতে জেলার নেতৃবৃন্দদের জন্য জেলা ছাত্রলীগ ও মহানগর নেতৃবৃন্দের জন্য মহানগর ছাত্রলীগ লেখা সম্বলিত টি-শার্ট ও টুপি ছাপানো হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, মহানগর ছাত্রলীগের আহবায়ক মো: হাবিবুর রহমান রিয়াদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহানগর ছাত্রলীগের ৬ টি ওয়ার্ডে সম্মেলনের মাধ্যমে সম্প্রতি কমিটি গঠন করা হয়। মহানগর ছাত্রলীগের বন্দর থানাধীন ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৪ ও ২৭ নং ওয়ার্ড ছিল ছাত্রলীগের বহুল কাংখিত সম্মেলন। মহানগর ছাত্রলীগের আহবায়ক হাবিবুর রহমান রিয়াদের সুচারু চিন্তা-চেতনায় বিতর্কিত ও অছাত্রদের বাদ দিয়ে এবারই প্রথম গঠিত হলো সময়োপযোগী ওয়ার্ড কমিটিগুলো।

বন্দরের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে মোট ৬টি’রই কমিটি ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। মহানগর ছাত্রলীগের নেতৃত্ব প্রাপ্তির পর হতে রিয়াদ তার অন্যতম সহযোগী যুগ্ম আহবায়ক হাসনাত রহমান বিন্দু ও নাসিম মাহমুদ তপনের নিরলস সহযোগিতায় ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করে তুলেছেন। অতি অল্প সময়ে ছাত্রলীগকে এতটা শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলায় নারায়ণগঞ্জের ছাত্র রাজনীতিতে এক নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে। রিয়াদ মূলতঃ নারায়ণগঞ্জের ছাত্র রাজনীতির অগ্রনায়ক ওসমান পরিবারের সুযোগ্য উত্তরসূরী নবাগত আইনজীবী অয়ন ওসমানের সঠিক দিক নির্দেশনা এবং সৎ পরামর্শের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগকে ক্রমান্বয়ে সাফল্যের শিখরে অবতীর্ণ করতে চলেছেন। ছাত্রলীগের বর্তমান অবধারিত কর্মকান্ডের কারণে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করে চলেছে।

অতীতেও দেখাগেছে, জেলা কমিটির তুলনায় মহানগর ছাত্রলীগ দলীয় কর্মসূচী ছাড়াও স্ব উদ্যোগে অনেক কর্মসূচী পালন করেছে।

কিন্তু সদ্য সম্পন্ন সপ্তাহব্যাপী সম্মেলনে যে সকল নতুন মুখ নেতৃত্বে আসীন হয়েছেন তাদের মধ্যে ২০ নং ওয়ার্ডে হাসিবুল হক জিসান সভাপতি, রবিউল হোসেন রিপ্ত সাধারণ সম্পাদক, ২১ নং ওয়ার্ডে রাসেল প্রধাণ সভাপতি, কাজী রিসালাত আহমেদ মিজু সহ-সভাপতি, মোঃ রবিন হাসান সাধারণ সম্পাদক, ২৩ নং ওয়ার্ডে আবির আহমেদ লিজন সভাপতি, আব্দুর রহমান শ্যামল মৃধা সাধারণ সম্পাদক, অনিক তালুকদার অপু যুগ্ম সম্পাদক, ২৪ নং ওয়ার্ডে রাজু আহম্মেদ সুজন সভাপতি, খুশরান আহমেদ সাধারণ সম্পাদক ও আর্দিত আহমেদ যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।
আর নির্বাচিত এই ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দদের কাউকেই উক্ত পদে অধিষ্ঠিত করতে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সাফায়েত আলম সানী। কিন্তু তারপরেও তার মতামতকে উপেক্ষা এদের ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করায় হাবিবুর রহমান রিয়াদের উপড় কিছুটা হলেও মনক্ষুন্ন হন সানী। আর তারপর থেকেই জেলা ও মহানগরের মধ্যে বিভাজনের আভাস পেতে থাকে নেতাকর্মীরা। যা কিছুটা হলেও সদ্য যানজট নিরসন কর্মসূচীতে খোলাসা হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা।

রাজনৈতিক কৌশলে বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সাফায়েত আলম সানী বলেন, মহানগর কমিটির সাথে জেলা কমিটির কোন সম্পৃক্ততা নেই। কেননা মহানগর কমিটি হচ্ছে একটা আলাদা প্লাটফর্ম। এটি কেন্দ্র থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।
আলাপচারিতার এক পর্যায়ে সানী আরো বলেন, সম্প্রতি বন্দরে অনুষ্ঠিত মহানগর ছাত্রলীগের ৬ টি ওয়ার্ডে যাদের অধিষ্ঠিত করা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে তার দ্বিমত ছিল। কিন্তু এখন সেই নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ অধিষ্ঠিত করার পর ভবিষ্যতে যদি কোন ধরনের সমস্যা হয় তাহলে এর জন্য জেলা ছাত্রলীগ কোন দায়-দায়িত্ব বহন করবে না।

তবে বিভাজনের আশংকা নাকচ করে দিয়ে মহানগর ছাত্রলীগের আহবায়ক ও সরকারী তোলারাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখার ভিপি মো: হাবিবুর রহমান রিয়াদ জানান, জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের দুটি আলাদা ইউনিট। যেকোন কাজ দুটি ইউনিট একসাথে করার চাইতে আলাদা ভাবে করলে আরো বেশী কাজ করতে পারবে।

বিগত ২০০৬ সাল থেকে সরকারী তোলারাম কলেজে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে আজ মহানগর ছাত্রলীগের এই প্লাটফর্মে এস দাঁড়িয়েছি। আমাদের নেতা একজনই, শামীম ওসমান। তিনি আমাদের পথ চলায় যেভাবে নির্দেশনা দেন, আমরা সেভাবেই পালন করি।

হালাল টেকায় ব্যবসা করতাছি ছাড়পত্র লাগবো কেন?

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই কোন প্রকার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নগরীর ডন চেম্বারে অবাধে চলছে স’মিলের ব্যবসা। আর এর ফলে এ এলাকার পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবী নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ প্রেমীদের। তাই দ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

সরেজমিন দেখাগেছে, নগরীর জনবহুল আবাসিক এলাকার একটি হলো ডনচেম্বার। আর এ এলাকায় ঢুকার মুখেই দু-পাশে গজিয়ে উঠেছে প্রায় ১৫/২০টি স’মিল। এসব স’মিলে থেকে বের হওয়া কাঠের গুঁড়ায় দূষিত হচ্ছে বাতাস। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এসব কাঠের গুঁড়া মানুষের চোখে নাকে মুখে গিয়ে ঢুকছে। যা তাদের মানব স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আবাসিক এলাকায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান করতে হলে প্রথমে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কোন স’মিলেরই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের কথা বলায় গাজী টিম্বার এন্ড স’মিলের স্বত্তাধিকারী লোকমান গাজী যেন আকাশ থেকে পড়লেন। ‘পরিবেশ অধিদপ্তর সেইটা আবার কি! দোকান কিনছি, হালাল টেকায় ব্যবসা করতাছি। আমাগো আবার ছাড়পত্র লাগবো কেন’? তার এ প্রশ্ন থেকেই বোঝা যায় আইন এখানে কতটা অসহায়।

এই এলাকায় স’মিলগুলোতে পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়াও রয়েছে আরো অনেক সমস্যা। ভয়াবহ অগ্নি ঝুঁকিতে থাকা এ প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনটারই নেই কোন প্রকার ফায়ার লাইসেন্স কিংবা অগ্নি নির্বাপক সরঞ্জাম। এই কয়েকমাস আগেও এখানে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারপরও এ ব্যাপারে এখানকার ব্যবসায়ীদের বিন্দুমাত্র বিচলিত মনে হলো না। তাদের দাবী ‘আগুন আমাদের মিলে তো লাগে নাই। লাগছিলো সামনে কাঠের ফার্নিচারের দোকানে। তো আমরা এতো টাকা খরচ করে আগুন নিভানো যন্ত্র কিনতে যামু কেন? আগুন যখন লাগবো তখন দেখা যাইবো…।

এসব বিষয় নিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা এসব ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পরেছি। তাদের কর্মকান্ডে অতিষ্ট এ এলাকার জনগন। আমাদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে হলে মুখে মাস্ক পরে এখান দিয়ে যেতে হয়। নয়তো কাঠের গুঁড়া চোখে মুখে ঢুকে যায়। এসব কাঠের গুঁড়ায় এখানকার বাতাস সব সময় দূষিত থাকে। তাছাড়া কাঠ ও গাছবাহী যানবাহনের কারনে প্রায়ই এ রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীরা রাস্তা দখল করে তাদের মালামাল লোড আনলোড করে। ফলে পথচারীদের পরতে হয় ভোগান্তিতে। এসব প্রতিষ্ঠানের নেই কোন ফায়ার সিকিউরিটি। ফলে যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে বড় কোন দূর্ঘটনা। কিন্তু এগুলো দেখার যেন কেউ নেই। প্রশাসন কিংবা সরকারী কোন দপ্তরের কোন প্রকার অভিযান আজো নজরে পরলো না। তার মানে আমাদের কাছে মনে হয়, এসব কাঠ ব্যবসায়ীদের হাত অনেক লম্বা। আর তাইতো এতো অপরাধ করেও তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আমরা এ এলাকার মানুষ অবিলম্বে এর থেকে প্রতিকার চাই।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলার সহকারী পরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম জানান, আবাসিক এলাকায় স’মিল স্থাপন করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র লাগবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া আবাসিক এলাকায় স’মিল স্থাপন সম্পূর্ন অবৈধ। আমরা পর্যবেক্ষণে যাবো। যদি তারা ছাড়পত্র ব্যাতিত এ ধরনের প্রতিষ্ঠান করে থাকে তবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানার জন্য ডনচেম্বার কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আঃ জলিলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু জানেন না উল্লেখ করে সংগঠনের সভাপতি মফিজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার ভাষ্যমতে মফিজুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কলটি রিসিভ করেন নি।

ঢাকা-না’গঞ্জ রুট ২ ঘন্টা বন্ধ

দীর্ঘ ২ ঘন্টা পর সচল হয়েছে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস চলাচল। ফলে স্বস্তি ফিরে এসেছে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে যাতায়াতরত যাত্রী সাধারনের মাঝে।

সোমবার (২০ জুন) ঢাকায় কেন্দ্রীয় একটি শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে আরেকটি সংগঠনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায় সকাল দুপুর ১২ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা ভায়া বিশ্বরোড ও ভায় পাগলা ফতুল্লা রুটে চলাচলরত বন্ধন, উৎসব, আনন্দসহ লোকাল পরিবহনের বাস গুলো চলাচল বন্ধ ছিল।

এদিকে, সকালে ঢাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল এবং নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে বাস না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারন যাত্রীদের।

বিকল্প পথ হিসেবে ট্রেনকে বেছে নিয়েছিল যাত্রীরা। আবার অনেকে সিএনজি অটোরিক্সায় চড়ে গন্তব্যে পৌঁছান।

হোসিয়ারী ব্যবসায়ী সিরাজ বলেন, আমি প্রতিদিন কারখানার তৈরি মাল নিয়ে ঢাকা ফুলবাড়িয়ায় যাই। কিন্তু আজ আগাম নোটিশ ছাড়াই সব গাড়ি বন্ধ রেখেছে এতে আমার সমস্যা হয়েছে। সামনে ঈদ তাই চাপ একটু বেশি কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে পরতে হবে জানা ছিল না।

সরেজমিনে, শহরের ১নং রেলগেটস্থ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে খোঁজ নিয়ে জানা যায় ঢাকায় কেন্দ্রীয় দুটি শ্রমিক সংগঠনের সমস্যার কারনে এবং উক্ত রুটের বাস চালক এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা জনিত কারনে বাস চলাচল বন্ধ রাখে নারায়ণগঞ্জ বাস মালিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক কমিটির (বি-৪৯৪) সহ-সম্পাদক জিলানী মাদবর টাইমস নারায়ণগঞ্জকে জানান, ঢাকা হেড অফিসে দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারনে আমরা যাত্রী নিরপত্তা এবং গাড়ি ও ড্রাইভারদের নিরাপত্তা বিধানে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছিলাম। দুপুর ২টায় পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর ফের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।

রাত জেগে শাড়ি বুনন আর নকশার কাজে ব্যাস্ত কারিগররা

মসলিন নেই, তাকে কি। ঐতিহ্য তো এখনো হারাই নি। জামাদানী তৈরী করে আমরা এখনো ধরে রেখেছি আমাদের ঐতিহ্য। সামনে ঈদ তাই আমাদের ব্যস্ততা একটু বেশী। বাজার ধরতে হবে। এই মওসুমে জামদানী কারিগরদের ব্যস্ততা বেশী থাকে। কাজের ফাকে ফাকে কথা গুলো বলছিলেন সোনারগাঁয়ের নয়াপুরের জামাদানী কারিগর জাহাঙ্গীর হোসেন।

তিনি বলেন, শাড়ি বুনন ও নকশার কাজে এখন ব্যস্ত সময় কাটছে জামদানি কারিগরদের। একটা জামদানি শাড়ি বুনতে সময় লেগে যায় ১৫/২০দিন। আর যদি ভালো নকশা করা হয় তাতে এক মাসও সময় লাগে।  ১৫ রোযা থেকে বাজারে নিয়ে আসতে হবে জামাদানি শাড়ি। তাই রাত দিন কাজ করতে হয়।

সরেজমিন দেখা দেখা গেছে, শীতলক্ষ্যার তীর ঘেঁষে নোয়াপাড়া গ্রাম। মূলত এখানেই এক সময় রমনি মোহন মসলিন তৈরি হতো। এখন তৈরি হয় জামদানি। গ্রাম জুড়ে সারিসারি তাঁত। চোখে পড়ে শিল্পীদের কর্মচা ল্য। প্রায় প্রতিটি ঘরে তাঁতের কাজ চলছে। কেউ সুতা কাটছে, কেউ ব্যস্ত হাতে তাঁত টানছে। সুতা ভরছে কেউ আবার কেউবা সহযোগিতা করছে অন্যজনকে। তৈরি হচ্ছে হরেক রকম ডিজাইনের জামদানী শাড়ি। বাজারে এ শাড়িই ঢাকাই জামদানি নামে পরিচিত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,নোয়াগাও বারদী সন্মাদি নয়াপুর আনন্দবাজার বৈদ্যের বাজার,তাহেরপুর পিরোজপুরসহ প্রায় এলাকায় প্রতিটি পরিবারই কোন না কোনভাবে জামদানী শিল্পের সাথে জড়িত। কেউ সরাসরি কাপড় উৎপাদন করে, কেউ তাঁতী, কেউ সুতা বিক্রেতা আবার কেউ বিদেশে কাপড় রফতানির কাজে জড়িত। প্রতি পরিবারেই গড়পরতা ২/১ টা তাঁত রয়েছে। তাঁতীরা সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত ঈদ উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ বিক্রির লক্ষ্য নিয়ে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও শাড়ি বুনার কাজ করছেন।

মোগরাপাড়ার জামদানী কারখানার মালিক আবুল হাসেন  জানান, আগে জামদানী শিল্পীরা শুধু শাড়ি তৈরিতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। তবে বর্তমানে জামদানি শিল্পে এসেছে নতুনত্ব। শাড়ি তৈরির পাশাপাশি থ্রি পিস, ওড়না, পাঞ্জাবি, পর্দার কাপড়ও তৈরি হচ্ছে এখানে। ঈদকে সামনে রেখে জামদানী শাড়ির চাহিদা বেড়ে গেছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী এবার আরো উন্নত এবং নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি তৈরি করছেন এখানকার কারিগররা।

জামদানী শাড়ি বিক্রেতা  শিমুল হোসেন জানান, একটি ভালো শাড়ি তৈরিতে দুতিন মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সময় আর কাজের ওপর দাম নির্ভর করে। এ বস্ত্রের জমিন একাধিক রঙের হয়ে থাকে। জামদানি তাঁতীদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। কেবল রয়েছে বংশানুক্রমিক হাতে-কলমে অর্জিত দক্ষতা। কেবল নারায়ণগঞ্জ জেলার নির্দিষ্ট কয়েকটি গ্রামেই এ শাড়ি তৈরি হয়।

বারদী এলাকার জামদানী ব্যবসায়ী শামসুল আলম বলেন, ঈদ উপলক্ষে কারিগরদের কর্মব্যস্ততা অনেক বেড়েছে। আগে সপ্তাহে গড়ে দুই হাজার পিস শাড়ি বেচাকেনা চলত। বর্তমাতে তা ছয় হাজার পিসে উন্নীত হয়েছে। শাড়ির পাশাপাশি থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, পর্দার কাপড়েরও যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে গোটা রূপগঞ্জে ১০ কোটি টাকার জামদানী বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন।

খোজ নিয়ে জানা যায়, দেশের তিন হাজার পরিবারের ১৫ হাজার মানুষ জামদানি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। প্রতি সপ্তাহে দুই হাজার জামদানি শাড়ি দেশে প্রস্তুত হয়। আর ঈদ কেন্দ্রিক তা অনেক বেড়ে যায়।

সূত্র মতে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এ দেশ থেকে ৪৮ লাখ ডলারের জামদানি শাড়ি রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ লাখ ডলারের জামদানি রপ্তানি হয়েছে শুধু ভারতেই। আর ২০১০-১১ অর্থবছরে এক কোটি চার লাখ ডলারের জামদানি রপ্তানি হয়, যার মধ্যে ভারতেই গেছে ৬১ লাখ ডলারের জামদানি।এছাড়া ২০১৫-১৬ অথবছরে প্রায় কোটি ডলারের জামাদানী রপ্তানী হওয়ার খবর জানিয়েছে ইপিবি

এদিকে জামদানি শিল্প স্থাপনে অবকাঠামোগত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন প্রজন্মকে এ শিল্পে উৎসাহ প্রদান, উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিপণন সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) প্রায় ৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নারাণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলাধীন তারাবো ইউনিয়নের নোয়াপাড়াতে ২০ একর জমির উপর ইতোমধ্যে জামদানি শিল্পনগরী ও গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন করেছে। এ শিল্পনগরীতে মোট ৪০৯টি শিল্প প্লট রয়েছে, ৩৯৯টি পট উদ্যোক্তাদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং এখানে ৩৬৩টি জামদানি শিল্প-কারখানা স্থাপিত হয়েছে। তাছাড়া এখানে একটি হাটকর্নার স্থাপিত হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জামদানি আমাদের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য এবং পৃথিবীখ্যাত মসলিনের উত্তরাধিকার। একসময় মসলিন সূক্ষ্মবস্ত্র হিসেবে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিল। পৃথিবীর রাজা-বাদশা ও সুলতানগণের কাছে সমাদৃত এ বস্ত্রের কদর ও চাহিদা ছিল প্রচুর। মসলিন ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। বাংলাদেশকে হাজার বছর আগেই পৃথিবীতে পরিচিত করেছিল মসলিন অর্থাৎ আজকের জামদানি।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ২০ জুন ২০১৬

Related posts