September 20, 2018

বাংলা ওয়েবসাইট খুলল আইএস !

‘আপনি কি একটানা চারঘণ্টা ২০ কেজি ওজনের বস্তু বহন করতে পারেন? আপনি কি ১৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে তিন কিলোমিটার দৌড়াতে পারেন? আপনি কি ৭০ সেকেন্ডে ৫০ মিটার হামাগুড়ি দিতে পারেন? তাহলেই আপনি আমাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার যোগ্য হবেন।’

কোনো দেশের সেনাবাহিনী নয়, জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) তাদের সদস্য সংগ্রহের জন্য দেওয়া ‘নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে’ এ রকমই শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আইএসের তৈরি করা বাংলা একটি ওয়েবসাইটে সেটা আপলোড করা হয়েছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
ওয়েবসাইটির নিচের অংশে বলা হয়েছে, এগুলো আপনার প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার প্রথমভাগ। এটা আপনার ত্যাগকে প্রমাণিত করবে।

আরো কিছু শর্ত সেখানে জুড়ে দেওয়া হয়- যেমন ৭০ মিনিটের কম সময়ে একটানা ১০ কিলোমিটার জগিং, ৭০ থেকে ১০০ বার বুক ডাউন (পুস-আপ), বিরতিহীনভাবে ১ থেকে দেড় হাজার বার দড়ি খেলা পারতে হবে। যোগ্য প্রার্থীকে অবশ্যই সাঁতার জানতে হবে, বাইসাইকেল ও ছোট ধরনের যানবাহন চালাতে জানতে হবে এবং শুকনো খাবার খেয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার মনোবল থাকতে হবে।
এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গত বছরের অক্টোবরে আপলোড করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি এটি মানুষের নজরে আসে। তবে বাংলা ওই ওয়েবসাইটের নাম বলা হয়নি হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে। এর অ্যাডমিন কোথায় সেটা সমন্ধেও কিছু বলা হয়নি।

খবরে বলা হয়, নভেম্বরে প্রকাশিত তাদের দাবিক নামের সাময়িকীতে বাংলাদেশে তাদের নিজেদের অস্তিত্বের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয় আইএস।
তবে বাংলাদেশে আইএস থাকার বিষয়টি প্রথম থেকেই অস্বীকার করে আসছে দেশটির সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মন্ত্রী আগে জানিয়েছেন, দেশে কোনো আইএস নেই। এটা দেশের বিরুদ্ধে একটি প্রোপাগান্ডা।

আইএসের প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদির দেওয়া ডিসেম্বর মাসের একটি বার্তা অনুবাদ করে ৩ জানুয়ারি ২০১৬ সালে ওই ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে বলে জানায় সংবাদমাধ্যমটি।
হিন্দুস্তান টাইমসকে বুধবার ভারতের একজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রমাণ আছে যে- আল-কায়েদাকে ছাড়িয়ে বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসী উপাদান ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য আইএস সেদেশে আগ্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। আল-কায়েদাও দেশটিতে তাদের উগ্রবাদী মতবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

২০১৪ সালের অক্টোবরে হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আল-কায়েদা থেকে দলছুটরা বাংলাদেশে সিরিয়ার মতো একটি খিলাফত প্রতিষ্ঠার প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আসছে। এতে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ যুক্ত করতে চায় তারা।

এ প্রসঙ্গে ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশ উভয় জঙ্গি সংগঠনের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছে। বেঙ্গল ও আসামের দিকেও তাদের নজর রয়েছে।’

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদি/ডেরি

Related posts