September 20, 2018

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বার্মায় আবারো সংঘাতঃ নিহত ৩৯

উপরেঃ সীমান্তে বার্মিজ সেনাদের অবস্থান, নীচেঃ সন্দেহভাজন হিসেবে একজন রোহিঙ্গা আটক
নাজমুল হোসেন ,ব্যুরো রিপোর্টঃ বাংলাদেশ-বার্মা সীমান্তবর্তী রাখাইন প্রদেশের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাটিতে গত কয়েকদিন ধরে সংঘাত চলছে যেখানে সাংবাদিকদের প্রবেশের সুযোগ নেই। সরকার এ এলাকাতে কারফিউ জারী করেছে। তবে বিবিসি সুূত্রে জানা গেছে, গত রোববার থেকে শুরু হওয়া এ সংঘাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে স্থানীয়দের সংঘাতে কমপক্ষে ৩৯ জন নিহত হয়েছে।
গত রোববার থেকে শুরু হওয়া এই সহিংসতায় এপর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর ১৩ জন সদস্য এবং স্থানীয় রোহিঙ্গা মুসলমানদের ২৬ জন প্রাণ হারায়। কিন্তু স্থানীয় সাংবাদিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে ৫০ রোহিঙ্গা মুসলমান প্রাণ হারিয়েছে।

যদিও হামলার জন্য দায়িদের বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ। তবে রোববারের হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়িত রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর সদস্য বলে মনে করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক রোহিঙ্গা মুসলমানকে গ্রেপ্তার করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো সংঘর্ষে কমপক্ষে চার সৈন্য নিহত হয়েছে। সামরিক বাহিনী একথা জানায়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সশস্ত্র প্রায় ৩ শ’ লোক সেনা সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, মৌংদাউ শহরের পিয়াংপিত গ্রামে মঙ্গলবারের সংঘর্ষে এক হামলাকারীও নিহত হয়।

এর আগে, গত রবিবার খুব ভোরে সীমান্তের কাছে আরাকান রাজ্যের কাওয়ারবিল টেনাইসুট, নাকফুরা ও কোডেংগাও এলাকায় রক্ষীদের তিনটি ছাউনিতে সমন্বিত এক হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই বার্মার পুলিশ অফিসার বলে জানিয়েছেন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কর্মকর্তারা।

রবিবারের হামলায় কারা জড়িত তাতক্ষনিকভাবে পরিষ্কার না হলেও রাখাইন রাজ্যের একজন কর্মকর্তা এর জন্য রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন বা আরএসওকে দায়ী করে বলেছেন, আক্রমণকারীরা তিনটি ছাউনিতে হামলা চালিয়ে অস্ত্রশস্ত্র ও বেশ কয়েকটি বন্দুক লুট করে নিয়ে গেছে।

এরপর পিস্তল, ছুড়ি, চাকু হাতে প্রায় তিনশো স্থানীয় বাসিন্দার সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

রাহাইন প্রদেশের সেক্রেটারি ইউ টিন মং বলেছেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ২জন সন্দেহভাজনকে গতকাল বাংলাদেশ থেকে আটক করে বার্মা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে।

          

ছবিঃ বার্মা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা ২জন। 

কিন্তু দি ইউরোপিয়ান রোহিঙ্গা কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ ইব্রাহিম এ সংবাদাতাকে জানান, ”এ ২জন স্থানীয় রোহিঙ্গা মুসলমান কোনভাবেই হামলার সাথে জড়িত নয়। তাঁরা নাকুয়া গ্রামে নির্বিচারে সৈন্যদের গুলিতে আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশে গিয়েছিল।”

এই সহিংসতার ঘটনার পর সরকারি বাহিনীর অবস্থানের বিষয়ে স্থানীয় সংবাদপত্রে গতকাল দেশটির নেত্রী অং সাং সুচি বলেছেন, কারো উপর দোষ না চাপিয়ে সরকার ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার’ চেষ্টা করছে।

এদিকে জাতিসংঘ মিয়ানমারে এমন সংঘাতের ঘটনায় ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছে।

এ সংঘাতের বিষয়ে মোহাম্মদ ইব্রাহিম এ সংবাদাতাকে বলেন ‘ এটি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। বৌদ্ধ মগ বা আরকান আর্মি বার্মিজ সৈন্যদের উপর হামলা চালিয়ে রোহিঙ্গাদের নাম দিয়েছে যাতে বার্মিজ সৈন্যরা রোহিঙ্গাদের আবারো দেশ থেকে বিতারন করে। আমরা সংখ্যালঘু ও নির্যাতিত। রোহিঙ্গারা এ সময় কেন সংঘাতে যাবে? যখন কফি আনানের নেতৃত্বে আমরা একটি সমাধানের জন্য অপেক্ষা করছি। কফি আনান যাতে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় নিজে গিয়ে সরজমিনে আমাদের দুর্দশা না দেখতে পারে তাঁর জন্য এ সংঘাতের সুত্রপাত করেছে। কারন কর্তৃপক্ষ যাতে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কফি আনানের গমন নিরাপদ হবে না বলে তাঁর পরিদর্শন বাতিল করতে পারে, তাঁর জন্য আমাদের প্রতিন্দধি গোষ্ঠী এ কাজ করেছে।”

উল্লেখ্য, রাখাইনে বৌদ্ধ ও সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। ২০১২ সালে রাখাইনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় শতাধিক লোক নিহত এবং হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হয়। তারপর থেকে অনেক রোহিঙ্গা এখনো শরনার্থী শিবিরে অবস্থান করছে।

এ দিকে, মিয়ানমারের ঘটনায় আটকা পড়া ২৬ মিয়ানমারের ব্যবসায়ী টেকনাফ থেকে মংডুতে ফিরেছেন বুধবার ১২অক্টোবর।
বেলা ১১ টার দিকে টেকনাফ স্থল বন্দরের ইমিগ্রেশন দিয়ে তারা মিয়ানমারের উদ্দেশ্য যাত্রা করেন।
গত শনিবার রাতে আরাকান রাজ্যের ৩ বিজিপি ক্যাম্পে স্বশস্ত্র হামলার পর রোববার ইমিগ্রেশন যাতায়াত বন্ধ থাকায় উক্ত ব্যবসায়ীরা মংডু শহরে আটকা পড়েছিলেন।

টেকনাফ ইমিগ্রেশন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান ২৬ মিয়ানমারের ব্যবসায়ী মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের একটি ট্রলারে করে পাঠানো হয়েছে।
ছবিঃ বার্মা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা ২জন।

Related posts