September 21, 2018

‘বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতার ব্যাপক অগ্রগতি হচ্ছে’

Forign_minister

 পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ৭ বছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সর্বোত্তম সম্পর্ক বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিরাপত্তা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন সহযোগিতা, স্বাস্থ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কসহ সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী নয়াদিল্লীতে একটি স্থানীয় হোটেলে আজ সন্ধ্যায় ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব সংলাপ : সপ্তম রাউন্ড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন।
তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ছাড়াও উভয় দেশ কিছু কিছু ক্ষেত্রে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বহুপাক্ষিত পর্যায়ে সম্পর্কও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি বলেন, সকল পর্যায়ে বিশেষ করে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, কর্মকর্তা এবং সাধারণ জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এর ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমনÑ ব্লু-ইকোনমি, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, উপগ্রহ উৎক্ষেপন, বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা স্থাপন এবং পারমাণবিক জ্বালানির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এসব কিছু উভয় দেশ ও জনগণের জন্য নজিরবিহীন কল্যাণ বয়ে আনবে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা-নয়াদিল্লী সম্পর্ক ১৯৭১ সালে দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে সূচিত হয় এবং গতবছর জুনে ঢাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরে তা চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
তিনি বলেন, এ সফরকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমুদ্র সীমান্ত ও স্থলসীমান্ত ইস্যুগুলো সৌহার্দ্যরে ভিত্তিতে সমাধান হয়েছে। যা দুটি দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন।
সন্ত্রাস ও সহিংস চরমপন্থা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশ সরকার এ অভিশাপ রোধকল্পে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া সরকার চরমপন্থা মোকাবেলার লক্ষ্যে শান্তি, সেক্যুলারিজম, স্বাধীনতা, মানবাধিকার, সুশাসন, সামাজিক ন্যায়, অহিংসা, আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা জোরদার করার অনুকূল পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাতীয় পর্যায়ে আমাদের প্রয়াস ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃঢ় অঙ্গীকার আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস মোকাবেলায় ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।
যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত যোগাযোগ জোরদারে অনেক উপায়ে সহযোগিতা করছে। উভয় দেশ ভারত এবং এ অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ট্রানজিট ইস্যু নিয়ে একটি কার্যকর দৃষ্টিভ ঙ্গী গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, বিবিএন (বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপাল) মোটর ভেহিকেল এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারত এ অঞ্চল জুড়ে যাত্রী, মালামাল ও বেসরকারি যানবাহন চলাচল শুরু করতে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে যৌথ বিনিয়োগের ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে আন্তঃযোগাযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানি/বিনিময়ের সম্ভাবনা খুঁজে দেখছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্যকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য অনেকাংশে ভারতের অনুকূলে রয়েছে বলে উভয় দেশ বাণিজ্য বাধাগুলো দূরীকরণ, মান সমন্বিতকরণ এবং সীমান্তে বাণিজ্য অবকাঠামোর উন্নয়নে প্রয়াস চালাচ্ছে।
তিনি পানি ইস্যুকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন যে, সুপ্রতিবেশীসুলভ চেতনা এসব বিষয় দ্রুত সমাধান করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আমরা পদ্মা নদীতে আমাদের প্রস্তাবিত গঙ্গা বাঁধ প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণ আশা করছি। আমরা অভিন্ন নদীগুলোর ব্যবস্থাপনায় সর্বোত্তম উপায় অবলম্বন করার বিষযে একমত হয়েছি। যা নদী ব্যবস্থাপনার পথ প্রশস্ত করবে।
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মহাসচিব রাম মাধব, পরররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা অন্যান্যের মধ্য বক্তব্য রাখেন।
মন্ত্রীবর্গ, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের সদস্য, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা, ৪ মার্চ ২০১৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ৭ বছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সর্বোত্তম সম্পর্ক বিরাজ করছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিরাপত্তা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন সহযোগিতা, স্বাস্থ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কসহ সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী নয়াদিল্লীতে একটি স্থানীয় হোটেলে আজ সন্ধ্যায় ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব সংলাপ : সপ্তম রাউন্ড’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন।

তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ছাড়াও উভয় দেশ কিছু কিছু ক্ষেত্রে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বহুপাক্ষিত পর্যায়ে সম্পর্কও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, সকল পর্যায়ে বিশেষ করে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, কর্মকর্তা এবং সাধারণ জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক দৃঢ় হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এর ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমনÑ ব্লু-ইকোনমি, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, উপগ্রহ উৎক্ষেপন, বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা স্থাপন এবং পারমাণবিক জ্বালানির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এসব কিছু উভয় দেশ ও জনগণের জন্য নজিরবিহীন কল্যাণ বয়ে আনবে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা-নয়াদিল্লী সম্পর্ক ১৯৭১ সালে দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে সূচিত হয় এবং গতবছর

জুনে ঢাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরে তা চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
তিনি বলেন, এ সফরকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করেছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমুদ্র সীমান্ত ও স্থলসীমান্ত ইস্যুগুলো সৌহার্দ্যরে ভিত্তিতে সমাধান হয়েছে। যা দুটি দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন।

সন্ত্রাস ও সহিংস চরমপন্থা সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশ সরকার এ অভিশাপ রোধকল্পে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া সরকার চরমপন্থা মোকাবেলার লক্ষ্যে শান্তি, সেক্যুলারিজম, স্বাধীনতা, মানবাধিকার, সুশাসন, সামাজিক ন্যায়, অহিংসা, আন্তঃধর্মীয় ও আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সহিষ্ণুতা জোরদার করার অনুকূল পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাতীয় পর্যায়ে আমাদের প্রয়াস ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃঢ় অঙ্গীকার আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাস মোকাবেলায় ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।
যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত যোগাযোগ জোরদারে অনেক উপায়ে সহযোগিতা করছে। উভয় দেশ ভারত এবং এ অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ট্রানজিট ইস্যু নিয়ে একটি কার্যকর দৃষ্টিভ ঙ্গী গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, বিবিএন (বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপাল) মোটর ভেহিকেল এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ ও ভারত এ অঞ্চল জুড়ে যাত্রী, মালামাল ও বেসরকারি যানবাহন চলাচল শুরু করতে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে যৌথ বিনিয়োগের ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে আন্তঃযোগাযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানি/বিনিময়ের সম্ভাবনা খুঁজে দেখছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্যকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বাণিজ্য অনেকাংশে ভারতের অনুকূলে রয়েছে বলে উভয় দেশ বাণিজ্য বাধাগুলো দূরীকরণ, মান সমন্বিতকরণ এবং সীমান্তে বাণিজ্য অবকাঠামোর উন্নয়নে প্রয়াস চালাচ্ছে।
তিনি পানি ইস্যুকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে আশা প্রকাশ করেন যে, সুপ্রতিবেশীসুলভ চেতনা এসব বিষয় দ্রুত সমাধান করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আমরা পদ্মা নদীতে আমাদের প্রস্তাবিত গঙ্গা বাঁধ প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণ আশা করছি। আমরা অভিন্ন নদীগুলোর ব্যবস্থাপনায় সর্বোত্তম উপায় অবলম্বন করার বিষযে একমত হয়েছি। যা নদী ব্যবস্থাপনার পথ প্রশস্ত করবে।
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মহাসচিব রাম মাধব, পরররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রীংলা অন্যান্যের মধ্য বক্তব্য রাখেন।
মন্ত্রীবর্গ, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের সদস্য, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Related posts