November 20, 2018

বাংলাদেশ পুলিশকে যুক্তরাজ্যের অর্থ সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ‘রিপ্রাইভ’

ঢাকাঃ যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হওয়া পুলিশই দেশটির এক প্রবীণ সাংবাদিককে গ্রেফতার করেছে উল্লেখ করে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘রিপ্রাইভ’। ৮১ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাংবাদিক শফিক রেহমান সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখীন এমন বিষয় উদঘাটনের দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক এ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনটি।

যুক্তরাজ্যের দেয়া অর্থ সহায়তা রেহমানের আটকের পেছনে কোন অবদান রেখেছে কিনা বাংলাদেশের কাছ থেকে তার উত্তর দাবি করা হয়েছে।

রোববার নিজস্ব ওয়েবসাইটে এক প্রতিবেদনে সংগঠনটি বলছে, শফিক রেহমান বাংলাদেশের বিরোধী ঘরানার একজন প্রসিদ্ধ সাংবাদিক। সম্প্রতি বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর দমন অভিযানের প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের এপ্রিলে ডিবি পুলিশের সাদা প্রশাকধারী কর্মকর্তারা তাকে আটক করে।

‘রিপ্রাইভ’ বলছে, শফিক রেহমানকে কোন অভিযোগ ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত তার জামিনেও অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। তার শরীরের অবস্থা খারাপ। বাংলাদেশি কর্তকর্তরা তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হলে মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও এ পর্যন্ত তার আইনজীবীদের কাছে কোন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ঘটনাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়েছে জানায় সংগঠনটি।

২০০৯ সালে ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ডিএফআইডি জাতিসংঘের পাঁচ বছর মেয়াদী প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ পুলিশের প্রশিক্ষণের জন্য ১০ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থায়ন করে। জাতিসংঘের নথিপত্র থেকে দেখা যায়, ডিএফআইডি বাংলাদেশ পুলিশকে সবেচেয়ে বেশি অর্থ সহায়তা দিয়েছে। এ অর্থ পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) গ্রেফতারে অধিক পেশাদারিত্ব করে তোলার কাজে সহায়তা এবং তদন্ত কার্যক্রমে প্রমাণাদির ব্যবহারের বিকাশে দেয়া হয়। শফিক রেহমানকে আটকের মাত্র চারমাস আগ পর্যন্তও এ প্রকল্প চলমান ছিল।

জানা যায়, গোয়েন্দা পুলিশ কোন গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই রেহমানের বাড়িতে টিভির ক্যামেরাম্যান সেজে প্রবেশ করে। গোয়েন্দারা বেঁধে দেয়া সময়সীমার মধ্যে প্রমাণাদি দাখিল করতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এভাবে তার বিচারকার্য বিলম্বিত ও তার আটকাদেশ দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এক রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘সাম্প্রতিককালে রাজনৈতিক বিরোধীদের কৃত্রিম দুর্নীতির অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে। আর যেসব সাংবাদিক এসব বিষয় তুলে ধরার সাহস দেখাচ্ছে তাদেরকেই রাষ্ট্রদ্রোহ ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে।’

ডিএফআইডি গত বছর স্বীকার করেছিল, বাংলাদেশ পুলিশকে দেয়া যুক্তরাজ্যের সহায়তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ সহায়তা প্রকল্পের ওপর একটি পর্যালোচনা করে ডিএফআইডি বলেছে, ক্ষমতাসীন সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশের অভিযান চালানোর স্বাধীনতার অভাব রয়েছে। এ উদ্বেগ তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং এখানে গণতান্ত্রিক স্থান সংকোচন নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ রয়েছে। আইনপ্রয়োগকারী সদস্যদের হাতে ক্রমবর্ধমান বিচারবহির্ভূত হত্যার খবরের উদ্বৃতি দিয়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছে ব্রিটিশ সরকারের এ সাহায্য সংস্থাটি।

‘রিপ্রাইভে’র মৃত্যুদ- দলের পরিচালক মায়া ফোয়া বলেন, যুক্তরাজ্যের সহায়তা কোনভাবেই শফিক রেহমানের মতো সাংবাদিকদের গ্রেফতারে অবদান রেখেছে কিনা সে সম্পর্কে বাংলাদেশের কাছ থেকে অবশ্যই ব্রিটেনকে উত্তর চাইতে হবে। ব্রিটিশ কূটনীতিকদের অবশ্যই মি. রেহমানের চলমান আটকের পেছনে প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে হবে এবং তার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শফিক রেহমানকে আটকের গোয়েন্দা পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আনতে ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে ব্রিটেনে তার পরিবার গুরুতরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, তাকে অভিযুক্ত করা হলে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হতে পারে। এছাড়া বন্দি অবস্থায় রেহমানের স্বাস্থ্যের অবনতির আশঙ্কা করছে পরিবার।

Related posts