September 22, 2018

‘বাংলাদেশ চাইলে হাতিটি রেখে যাবে ভারত’

ঢাকাঃ বন্যার স্রোতে ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে ভেসে আসা সেই বন্য হাতিটি বাংলাদেশ চাইলে রেখে যেতে পারে ভারত। হাতিটি উদ্ধারে আসা তিন সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধি এমনই আভাস দিয়েছেন।

বুধবার বিকেলে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, হাতিটি আমরা ফেরত নেবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। হাতিটি কি পরিস্থিতিতে আছে, তা পর্যবেক্ষণ করে আমরা রিপোর্ট দিব। এরপর হাতিটি ফেরত নেবে না রেখে যাবে তা সিধান্ত নেবে ভারত সরকার।

তারা জানান, হাতিটি ফেরত নিতে অনেক ঝক্কি-ঝামেলা আছে। বন্যা কবলিত এলাকায় অবস্থান করায় হাতিটিকে অজ্ঞান করাও কঠিন হবে। এমন অবস্থায় আমরা জামালপুরে গিয়ে পরিস্থিতি বুঝে সিধান্ত নেব।

ভারতীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান ও আসাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও হাতি বিশেষজ্ঞ ড. কুশলকুমার শর্মা বলেন, হাতিটি অজ্ঞান করতে একটি পোষ্য হাতি লাগবে এবং তার ওজন অনুযায়ী চেতনানাশক প্রয়োগ করতে হবে। হাতিটি বন্যার পানিতে থাকায় সেটা অনেক কঠিন কাজ। তবে আমরা জামালপুরে গিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

আসামের প্রধান বন কর্মকর্তা (অবসরপ্রাপ্ত) মুখ্য বনপাল রীতেশ ভট্টাচার্য বলেন, ভারত সরকার আমাদের পাঠিয়েছে কিভাবে হাতিটি ফেরত নেওয়া যায় সেটা পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট দিতে। আমরা অকুস্থলে যাচ্ছি। সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে রিপোর্ট দিব। আমরা যদি দেখি হাতিটি ফেরত নেয়া যাবে তাহলে নিয়ে যাবো। আর যদি রেখে যেতে হয় সেটাও করবো।

তিনি জানান, বণ্য প্রাণীর কোন সীমানা নেই, তারা যে কোন স্থানে যেতে পারে। অসমের হাতিটি বাংলাদেশে এসে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি করছে জেনে ভারত সরকার আমাদের পাঠিয়েছে। বাংলাদেশ আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশ। আমরা চাই না বাংলাদেশের কোন ক্ষয়ক্ষতি হউক। এ জন্য হাতিটি উদ্ধার করে নিয়ে যেতে এসেছি।

প্রতিনিধি দলের আরেক কর্মকর্তা গোয়ালপাড়ার ডিএফও সুলেমান চৌধুরী বলেন, ‘হাতিটি সীমান্ত পার হওয়ার পর যখন কুড়িগ্রাম ছিল, তখনই আমরা হাতিটি উদ্ধার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ভিসা জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, বাংলাদেশ যদি হাতিটি রেখে দিতে চায়, সে বিষয়টি আমাদের জানালে আমরা সরকারকে জানাবো। তারা এ বিষয়ে সিধান্ত নেবেন।

গত ২৭ জুন হাতির পাল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আসামের বন্য হাতিটি ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোতে ভেসে সীমান্ত পার হয়ে কুড়িগ্রামসহ চারটি জেলা ঘুরে এখন জামালপুরের সরিষাবাড়ীর সাতপোয়া ইউনিয়নের শিশুয়া চরের এক ইক্ষু খেতের মধ্যে অবস্থান করেছে।

একমাসের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করা ভারতীয় বুনো হাতিটি উদ্ধারের কাজে অংশ নিতে এসেছে ভারতের বিশেষজ্ঞ দলটি। তিন সদস্যের দলটি বৃহস্পতিবার জামালপুরে হাতির অবস্থানস্থল পরিদর্শনে যাবে। এরপর বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে উদ্ধার কাজ শুরু করবে যৌথদল।

বুধবার বিকালে বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অঞ্চলের উপ বন সংরক্ষক মো. সাহাব উদ্দিন বলেন, “হাতিটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আসাম বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলটি বেলা ১২ টায় ঢাকা পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা আলোচনা করেছেন।”

জামালপুরের ঝালুপাড়া এলাকায় বুনো হাতিটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণসহ তদারকিতে রয়েছে বন বিভাগের ১৭ সদস্যের একটি দল। সেখানে অবস্থান নেওয়া বন্যপ্রানী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, “ভারতীয় প্রতিনিধি দলটি ঢাকা থেকে বৃহস্পতিবার ১১ টা-১২টার দিকে জামালপুরে আসবে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব আমরা।”

প্রসঙ্গত, ভারতের আসাম রাজ্যের শিশুমারা পাহাড়ি এলাকা থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোতে হাতিটি এসেছে। আসামের ৫টি জেলা পেরিয়ে আসা এই হাতিটি সীমান্ত পেরিযে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ চরাঞ্চল হয়ে এখন জামালপুরের সরিষাবাড়ির চরে অবস্থান করছে।আস

জামালপুরের ঝালুপাড়া এলাকায় বুনো হাতিটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণসহ তদারকিতে রয়েছে বন বিভাগের ১৭ সদস্যের একটি দল। সেখানে অবস্থান নেওয়া বন্যপ্রানী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিদর্শক অসীম মল্লিক বলেন, “ভারতীয় প্রতিনিধি দলটি ঢাকা থেকে বৃহস্পতিবার ১১ টা-১২টার দিকে জামালপুরে আসবে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব আমরা।”

প্রসঙ্গত, ভারতের আসাম রাজ্যের শিশুমারা পাহাড়ি এলাকা থেকে ব্রহ্মপুত্র নদের স্রোতে হাতিটি এসেছে। আসামের ৫টি জেলা পেরিয়ে আসা এই হাতিটি সীমান্ত পেরিযে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ চরাঞ্চল হয়ে এখন জামালপুরের সরিষাবাড়ির চরে অবস্থান করছে।

Related posts