September 26, 2018

বাংলাদেশ এখন‘জনসংখ্যার বোনাস’ যুগে

116

ঢাকাঃ  জনসংখ্যার বোনাস যুগে এখন বাংলাদেশ। এর মানে দেশে এখন কর্মক্ষম বা কর্মোপযোগী মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, অন্যদিকে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে কম। সর্বোচ্চ কর্মক্ষম জনসংখ্যার কালকেই বলে জনসংখ্যার ‘ডিভিডেন্ড’ বা ‘বোনাসকাল’।

পরিকল্পনা কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, ‘জনসংখ্যার বোনাসকালে’ বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে ২০১২ সালে। আর এটা বহাল থাকবে আগামী ২০৩৩ সাল পর্যন্ত। এ সময়টাতে মোট জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা থাকবে ১৫ থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। বোনাসকালটা পেরিয়ে গেলে অর্থাৎ ২০৩৩ সালের পর দেশে আবার নির্ভরশীল জনসংখ্যা বাড়তে থাকবে।

সরকারি হিসাবে, বর্তমানে দেশে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে জনসংখ্যার হার হচ্ছে ৭ শতাংশ। ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে এই হার মাত্র ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। কিন্তু বোনাসকাল পেরিয়ে গেলে এই চিত্র আর থাকবে না। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে জনসংখ্যা বোনাসের কাল শুরু হয়েছিল তিন দশক পূর্বে। এখন সেখানে বোনাসের সময় শেষ হয়ে বার্ধক্য জনসংখ্যার হার বাড়ছে। জনসংখ্যার বোনাসকাল শেষ হয়ে যাওয়ার পর কোনো কোনো দেশে নির্ভরশীল জনসংখ্যার হার ২০ থেকে ২৮ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জনসংখ্যার বোনাসকালকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো প্রয়োজন বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন।

কমিশনের মতে, আধিক্যের মধ্যেও জনসংখ্যাকে কাজে লাগানোর সুবর্ণ সুযোগ এটি। এ সুযোগ যেকোনো জাতি বা রাষ্ট্র একবারই পেয়ে থাকে। অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কর্মমুখী জনসংখ্যার এই ডিভিডেন্টকে অবশ্যই সুপরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে হবে। সর্বাধিক কর্মক্ষম এ জনগোষ্ঠীকে সর্বাধিক কাজে লাগাতে প্রয়োজন প্রচুর কাজের সুযোগ সৃষ্টি ও কাজ সৃষ্টির পরিবেশ। এটা যাতে কোনোভাবেই ব্যর্থ না হয়, সে জন্য সরকারকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। একইসঙ্গে দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ, বুদ্ধিজীবী, উদ্যোক্তা ও এনজিও সবাইকে এ সুযোগের সদ্ব্যবহারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

কর্মমুখী জনসংখ্যাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর জন্য সরকারের কাছে বেশ কিছু সুপারিশও করেছে কমিশন। এগুলো হচ্ছে— সংঘাতমূলক রাজনীতি পরিহার করে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে অক্ষুণ্ণ রাখা, প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যক্তি উদ্যোগকে সর্বোচ্চ সুযোগ প্রদান, অবকাঠামো সৃষ্টিতে সরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করা, আর্থিক প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য ব্যাংকিং খাতের যুক্তিসঙ্গত সম্প্রসারণ, শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন— বিশেষত প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার গুণগত ও ব্যবহারিক উপযোগিতার দিকে বেশি দৃষ্টি দেওয়া ও বিভক্ত সমাজ যাতে সৃষ্টি না হয় সে জন্য বিভিন্ন শিক্ষাধারাকে জাতীয় একমুখী শিক্ষায় যুক্ত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া সবার মাঝে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি ও আয় বৈষম্য কমিয়ে আনতে দুর্নীতি দমনে সর্বোচ্চ প্রয়াস অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

সুপরিকল্পিতভাবে উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে কর্মক্ষম জনসংখ্যার আধিক্যের এ বোনাস জাতীয় জীবনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চেহারার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দিতে পারবে বলে মনে করে কমিশন।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম এ বিষয়ে বলেন, ‘নতুন এ সুযোগকে হাতছাড়া করা যাবে না। জনসংখ্যা নিয়ে বাংলাদেশে একটি কার্যকর প্রণোদনামূলক পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন। তা না হলে হিতে বিপরীত হতে পারে। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি সব উদ্যোগকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

ড. আলম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একেবারেই যে অগ্রগতি হয়নি তা নয়, স্বাধীনতার পর প্রতি মা গড়ে জন্মদিত ৬ দশমিক ৫টি সন্তান। এখন প্রতি মা গড়ে সন্তান জন্ম দিচ্ছে ২ দশমিক ৫টি।’

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts