September 19, 2018

বাংলাদেশে ১০০ কোটি টাকার মসজিদ!

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ২০১ গম্বুজ এবং ৪৫১ ফুট উচ্চতার মসজিদ

স্টাফ রিপোর্টারঃ  বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ২০১ গম্বুজ এবং ৪৫১ ফুট উচ্চতায় বিশ্বের দ্বিতীয় উঁচু মিনার বিশিষ্ট মসজিদ তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে। মিনারের উচ্চতা হবে ৫৭ তলা ভবনের উচ্চতার সমান। এটি তৈরি হচ্ছে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার ঝাওয়াইল ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে। এটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে একটি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে চলেছে এই মসজিদ।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের মসজিদের ইতিহাসে জায়গা করে নিতে যাচ্ছে নির্মাণাধীন ঐতিহাসিক এ মসজিদটি। শুধু তাই আল্লাহর ঘর এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি বাংলাদেশকে বিশ্বে নতুন করে পরিচিত করে তুলতে সহায়ক হবে এবং প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক, ওলি আউলিয়ার আগমন ঘটবে বলে মনে করা হচ্ছে ।

মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে মসজিদটি নির্মিত হচ্ছে।বাংলাদেশের ২০১ গম্বুজ মসজিদের পাশেই ইটের তৈরি ৪৫১ ফুট উচ্চতার (১৩৮ মিটার, ৫৭ তলা উচ্চতার সমান) বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মিনারটি হবে বিশ্বের সবচাইতে উঁচু মিনার।

জানা যায়, বর্তমানে ইটের তৈরি বিশ্বের সবচাইতে উঁচু মিনারটি রয়েছে ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত কুতুব মিনার। যার উচ্চতা ৭৩ মিটার বা ২৪০ফুট এবং এর সিঁড়ি রয়েছে ৩৭৯টি। সুলতান মোহাম্মদ ঘুড়ির সেনাপতি ও প্রতিনিধি কুতুবউদ্দিন আইবেক ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে চৌহান রাজা পৃথিরাজকে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং বিজয় স্মরণীয় করে রাখতে এ মিনার তৈরি করেছিলেন। এটি তাজমহলের চেয়েও বেশি পর্যটক পরিদর্শন করেন। আর বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনারটি মরক্কোর কাসাব্লাংকায় দ্বিতীয় হাসান মসজিদে অবস্থিত। এর উচ্চতা ২১০ মিটার (৬৮৯ ফুট) ৬০ তলা ভবনের সমান। তবে এটি ইটের তৈরি নয়।

মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ভাই মো. হুমায়ুন কবির সার্বক্ষণিক এ মসজিদের দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি বলেন, নিজেদের তত্বাবধানে নির্মাণাধীন অবস্থায়ই ২০১ গম্বুজ মসজিদে ইতিমধ্যে ঈদের নামাজ আদায় শুরু হয়েছে। প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর নির্মাণাধীন এ মসজিদ কমপ্লেক্সে থাকবে অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। মিহরাবের দুই পাশে লাশ রাখার জন্য হিমাগার তৈরি করা হবে। পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলেও মসজিদে ফ্যান লাগানো হবে সহস্রাধিক।

তিনি জানান, মোট গম্বুজের সংখ্যা হবে ২০১টি। মসজিদের ছাদে মাঝখানে থাকবে ৮১ ফুট উচ্চতার একটি বড় গম্বুজ এবং চারদিকে থাকবে ১৭ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ২০০টি গম্বুজ। মূল মসজিদের চার কোনায় ১০১ ফুট উচ্চতার চারটি মিনার থাকবে। পাশাপাশি ৮১ ফুট উচ্চতার আরও চারটি মিনার থাকবে। ১৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪৪ ফুট প্রস্থের দ্বিতল বিশিষ্ট মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। দেয়ালের টাইলসে অংকিত থাকবে ৩০ পারা পবিত্র কোরআন শরীফ। যে কেউ বসে বা দাঁড়িয়ে মসজিদের দেয়ালে কোরআন শরীফ পড়তে পারবেন। আর মসজিদের প্রধান দরজা তৈরিতে ব্যবহার করা হবে ৫০ মন পিতল।

আজান প্রচারের জন্য মসজিদের দক্ষিণ পাশে নির্মাণ করা হবে বাংলাদেশের সবচেয়ে উচুঁ মিনারটি। উচ্চতার হিসেবে মিনারটি হবে প্রায় ৫৭ তলার সমপরিমাণ অর্থাৎ ৪৫১ ফুট। মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে পৃথক দুটি পাঁচতলা বিশিষ্ট ভবন। সেখানে থাকবে দুঃস্থ মহিলাদের জন্য বিনামূল্যের হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের পূণর্বাসনের ব্যবস্থা। মসজিদের উত্তর-পশ্চিম পাশে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে দেশি-বিদেশি মেহমান থাকা-খাওয়ার সু-ব্যবস্থার জন্য। পশ্চিমে ঝিনাই নদী থেকে সমজিদ পর্যন্ত সিঁড়ি করা হবে এবং নদীর ওপরে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে। চারপাশে করা হবে দেশি-বিদেশি ফুলের বাগান।

হুমায়ুন কবীর আরো জানান, গোপালপুর উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার পশ্চিমে ঝিনাই নদীর তীরে অবস্থিত মনোরম পরিবেশে সুদৃশ্য এ মসজিদটির নির্মাণ খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা। মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি। কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের মা রিজিয়া খাতুন। প্রায় ৪৫০ শতাংশ জায়গায় নির্মাণাধীন মসজিদের অধিকাংশ কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।

আশা করা হচ্ছে, ২০১৬ সালের মধ্যে মসজিদের কাজ শেষ হবে এবং ২০১৭ সালের প্রথম দিকে পবিত্র কাবা শরিফের ইমামের উপস্থিতি ও ইমামতির মাধ্যমে মসজিদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। নির্মাণ করা হবে হ্যালিপ্যাড।

নির্মাতাদের প্রত্যাশা, শৈল্পিক স্থাপনা হিসেবে এ মসজিদটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের এক প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে। মসজিদের দেশ বাংলাদেশকে বিশ্বে পরিচয় করিয়ে দেবে নতুন করে। ইতোমধ্যেই নির্মাণাধীন অবস্থায় মসজিদটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য পর্যটক নির্মাণকাজ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন।

এ মসজিদটির নির্মাতা বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যামপ্লয়িজ ফেডারেশনের সভাপতি (সিবিএ) বীর মুক্তযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি দেশের প্রয়োজনে ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনী মুক্ত করতে যুদ্ধ করেছি, পরাধীনতা থেকে মুক্ত করে এনেছি আমার প্রিয় মাতৃভুমি বাংলাদেশকে। দেশের ও মানবতার কল্যাণের জন্য সাধ্যমত সেই তরুণ বয়স থেকেই কাজ করে এসেছি। দীর্ঘ ৪৩ বৎসর যাবৎ সততার সঙ্গে জনতা ব্যাংক লিমিটেডের নির্বাচিত সিবিএ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এই বয়সে এসে আমার নতুন করে চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই, বাকী জীবনটুকু মহান আল্লাহতায়ালা ও মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। আমি চাই না আমার মৃত্যুর সময় আমার ব্যাংক একাউন্টে এক হাজার টাকা জমা থাকুক, এ লক্ষ্যে মহান আল্লাহ্ পাকের নামে দুঃসাহসী উদ্যাগ হাতে নিয়েছি।

পুরো প্রকল্প নির্মাণকাজ শেষ করতে এবং সঠিকভাবে পরিচালনা করতে প্রায় ১০০ কোটি বাংলাদেশী টাকার দরকার হবে। আমার সাধ্য অনুযায়ী কল্যাণ ট্রাষ্টের মাধ্যমে সমস্ত প্রজেক্টের ৪০ শতাংশ এবং মসজিদের কাজ ৮০ শতাংশ সম্পন্ন করেছি। এই পর্যায়ে এসে আমার একার পক্ষে সব কাজ সম্পন্ন করতে কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি মসজিদ আল্লাহর ঘর নির্মাণ করাসহ মানব কল্যাণের জন্য সকলেই সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করে উক্ত প্রজেক্ট সম্পন্ন করতে এগিয়ে আসবেন। মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যাগে এ প্রকল্প শুরু করলেও এটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব মুসলিম বিশ্বের সব মানুষের।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts