November 18, 2018

বাংলাদেশের সামনে আজ রেকর্ড গড়ার হাতছানি

দেশের মাটিতে এখন পর্যন্ত টানা ছয়টি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। টানা সপ্তম সিরিজ জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে মাশরাফির দল। আজ বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডটি জিতে গেলেই বাংলাদেশের অর্জনের খাতায় আরও ইতিহাস লেখা হয়ে যাবে। সেই সাথে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জিতবে টাইগাররা। সেই লক্ষ্য নিয়েই বুধবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি শুরু হবে বেলা আড়াইটায়। তবে বৃষ্টির শংকায় আছে তৃতীয় ওয়ানডেটি। গতকাল মঙ্গলবার সারাদিনের বৃষ্টির কারণে কভারে ঢাকা ছিলো প্রায় পুরো মাঠ। আজকের ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা আড়াইটায়।

২০১৪ সালের শেষদিকে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হন মাশরাফি। এরপর তার নেতৃত্বে দেশের মাটিতে ছয়টি দ্বিপাক্ষিত সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। ছয়টি সিরিজই দাপটের সাথে জিতে নেয় টাইগাররা। জিম্বাবুয়েকে দিয়ে সিরিজ জয়ের মিশন শুরু করে বাংলাদেশ। ৫-০ ব্যবধানে ঐ সিরিজটি জিতে নেয় মাশরাফির দল।

এরপর পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ, ভারতকে ২-১, দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-১, আবারো জিম্বাবুয়েকে ৩-০ এবং সর্বশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। তাই সপ্তম সিরিজ জয়ের সুযোগ এখন বাংলাদেশের সামনে।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচ ২১ রানে হারলেও, দ্বিতীয় ম্যাচ ৩৪ রানে জিতে সিরিজে সমতা আনে বাংলাদেশ। ফলে ইংলিশদের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে জিততে পারলেই সপ্তম সিরিজ জয়ের স্বাদ নিবে টাইগাররা। তা করতে পারলে রেকর্ড বইয়ে অস্ট্রেলিয়ার পাশে বসবে বাংলাদেশ। টানা সাতটি ওয়ানডে সিরিজ জয়ের রেকর্ড একমাত্র অস্ট্রেলিয়াই আছে। অবশ্য টানা ৯ ও ১০টি সিরিজ জয়ের রেকর্ডও অসিদের দখলেই।

তবে বিরল অর্জনের লক্ষ্যে নিজেদের দুর্দান্ত পারফরমেন্স ২২ গজে বিলিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ। গেল ২৩ মাস ধরে সেই প্রমাণ তারা ঠিকই দিয়ে আসছে। ব্যাট-বল হাতে ওয়ানডে ফরম্যাটে চোখ জুড়ানোর পারফরমেন্সে কাপিয়ে দিয়েছে প্রতিপক্ষকে। এবার কাঁপিয়ে দেয়ার পালা ইংল্যান্ডকে। অবশ্য ইতোমধ্যে কেঁপে উঠেছে ইংল্যান্ড শিবির।

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে ৩১০ রানের টার্গেট দিয়েও, স্বস্তিতে লড়াই করতে পারেনি ইংল্যান্ড। শেষমেষ ম্যাচ জিতলেও, তা বাংলাদেশের ভুলেই জিতেছে ইংলিশরা। একথায় বলতে গেলে, ‘ইংল্যান্ডকে জয় উপহার দিয়েছে মাশরাফির দল।’ ফলে সিরিজের ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।

কিন্তু তাতে ভড়কে যাবার দল এখন আর নয় বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই সমতা আনে তারা। মাশরাফির দুর্দান্ত নৈপুণ্যের কাছে হার মানে ইংলিশরা। ব্যাট হাতে ৪৪ ও বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে সিরিজে ফেরান ম্যাশ।

এবার সিরিজ জয়ের পালা বাংলাদেশের। আর এই কাজটি এখন ভালোই পারে টাইগাররা। দুর্দান্ত ফর্মের সাথে অতীত চিত্র তেমনটাই জানান দিচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে পিছিয়ে পড়েও, শেষ পর্যন্ত দূরন্ত পারফরমেন্সে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। এবারও সিরিজে পিছিয়ে পড়েও সমতা এনেছে টাইগাররা। তাই প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ঐ সিরিজ থেকে নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিতে পারে বাংলাদেশ।

এছাড়া চট্টগ্রামে মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ স্মৃতিটা বেশ মিষ্টি। ২০১১ বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে এই জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামেই মুখোমুখি হয়েছিলো দু’দল। সে ম্যাচে নাটকীয়ভাবে ৬ বল হাতে রেখে ২ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ। তাই ঐ ম্যাচটিও আত্মবিশ্বাসের টনিক হিসেবে কাজ করবে বাংলাদেশের কাছে।

তবে সবকিছুর সাথে চট্টগ্রামের বৃষ্টি ভাবাচ্ছে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডকে। সকাল থেকেই বৃষ্টি চলেছে চট্টগ্রামে। ফলে মাঠে ঠিকমত অনুশীলন করতে পারেনি দু’দল। তাই বৃষ্টির চিন্তা মাশরাফির কন্ঠে, ‘আগামীকাল আবহাওয়া কেমন থাকবে বলা যাচ্ছে না। কালকের পরিস্থিতির উপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে। তবে এ ম্যাচে টস বড় ফ্যাক্টর হবে।’

একই সুর ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যান মঈন আলীর কন্ঠে, ‘আবহাওয়ায় কারও হাত নেই। তাই ইনডোরেই অনুশীলন করতে হয়েছে। তবে এমন ম্যাচের হলেও, দু’দলের জন্য তা হবে দুর্ভাগ্য।’

পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মত বড় বড় দলগুলোর বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর ক্রিকেটের জন্মদাতা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয় করতে পারলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এক বিরল অর্জনই হবে। সেই বিরল অর্জনের সাক্ষী হতে প্রস্তত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ও বাংলার ১৬ কোটি মানুষ।

Related posts