September 26, 2018

বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাড়ি ‘কাজি ক্যাসল’

buildবাড়ির নাম ‘কাজি ক্যাসল’। নির্মাণ করাে হয়েছে পরিবারের সবাইকে নিয়ে এক সঙ্গে থাকার জন্য। বাড়িটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩শ কোটি টাকা। চার দেশের প্রকৌশলীর ছোঁয়া আর প্রায় আড়াইশ নির্মাণ শ্রমিকের আট বছরের পরিশ্রমে নির্মিত হয়েছে বাড়িটি।

বাংলাদেশের এযাবৎকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বাড়ি হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে সিলেটের এই কাজি ক্যাসল। সিলেটের ইসলামপুর এলাকায় নির্মিত এই বাড়ির মালিক মাহতাবুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। মাহতাব বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ড আল-হারামাইন পারফিউমস্ গ্রুপ অব কোম্পানীজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক টানা তিনবার সিআইপি নির্বাচিত হন।

মাহতাবুর রহমান ২০১৩ ও ১৪ সালে বাংলাদেশে সর্বাধিক রেমিটেন্স পাঠানোর স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ ব্যাংক র‌্যামিটেন্স অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। তার গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নে।

প্রাসাদসম এই বাড়িটির নির্মাণশৈলী দেখে মুগ্ধতার পাশাপাশি বাড়িটির প্রতি সাধারণ মানুষের কৌতুহল দিনদিন বেড়েই চলেছে। প্রায় আট একর জমির উপর নির্মিত এই বাড়িটির ছাদে আছে হ্যালিপ্যাড, সুইমিংপুল, স্টিমবাথ, লিফটসহ আধুনিক স্নানাগার। ২৯টি মাস্টার বেডের ডিজাইন করা হয়েছে ২৯টি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোকে।

২০০৮ সালে সিলেটের ইসলামপুর এলাকায় তৃতীয় তলা বিশিষ্ট এই বাড়ির কাজ শুরু করা হয়। দুবাই, ফ্রান্স, লেবানন ও জার্মানি এই চার দেশের প্রকৌশলী দ্বারা বাড়িটি নির্মাণ করা হয়।

এ বিষয়ে মাহতাবুর রহমান বলেন, ‘প্রথমে আমি দুবাই থেকে একজন ইঞ্জিনিয়ার নিয়ে এসেছিলাম, উনি প্রথমে ডিজাইনটা করেছিলেন, পরবর্তীতে ইন্টেরিয়র ডিজাইনটা দিয়েছিলাম একজন লেবানিসকে। পুরো বাড়িটির লাইটিং-এর কাজ করেছে জার্মানের কোম্পানি টিফেনি লাইটিং। আর ফ্লোরগুলো করে দিয়েছে ফ্রান্সের একটি কোম্পানী।’

জানা যায়, প্রায় ৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয়েছে বিলাস বহুল এই বাড়িটি। নির্মাণ ব্যয় নিয়ে বাড়ির মালিক মাহতাবুর রহমান বলেন, ‘আমি নিজের ব্যবহারের জন্য বাড়ি করেছি তাই এইটা নির্মাণে কত ব্যয় হয়েছে আমি তা হিসেবে করে দেখিনি। এইটা যদি আমার ব্যবসা হতো তাহলে আমি হিসাব রাখতাম। কত দিয়ে কিনেছি আর কত বিক্রি করবো, লাভ ক্ষতির হিসাব রাখতাম। বাড়ির প্রয়োজনে যখন যা লেগেছে আমি তা খরচ করেছি।’

গত ৮ বছর থেকে এক নাগাড়ে ২শ ৫০ জন শ্রমিক নিরলস কাজ করে তৈরি করেছেন বাড়িটি। তৃতীয় তলা এই বাড়িটির বিল্ডার এরিয়া প্রায় ৮০ হাজার স্কোয়ার ফুট। পাঁচ হাজার মানুষের অনুষ্ঠান করার বন্দোবস্ত আছে এই বাড়িতেই। পারিবারিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য রয়েছে পৃথক পৃথক কক্ষ।

মাহতাবুর রহমান জানান, ২৯টি মাস্টার বেডের ডিজাইন করা হয়েছে ২৯টি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোকে। ভবনের শুধু নিচ তলায় রয়েছে ৯টি ডায়নিং রুম, ১৪টি ড্রইং রুম, আছে দুটি লিফট, আভিজাত্যময় ইতালিয়ান বুক ম্যাচিং ওয়ান প্লেট মার্বেলের আধিক্য আছে পুরো বাড়ি জুড়ে।

বাড়ির ভেতরে সৌদি আরবের ওয়াকফ মিনিস্ট্রির উপহার দেয়া পবিত্র কাবা শরীফের দরজার র‌্যাপ্লিকাও রাখা হয়েছে অতি যত্ন করে। কেউ সরাসরি না দেখলে বুঝানো যাবেনা এই বাড়ির সৌন্দর্য ও মাহাত্ম্য।

কাজি ক্যাসল নামের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে ঢুকলেও জানা যাবে এই বাড়ির খুঁটিনাটি। রাত হলেই লাইটিং দিয়ে একটার পর একটা রঙের খেলায় মেতে উঠে পুরো বাড়িটি। আলোর এমন ঝলকানি আগে কখনো দেখেননি সিলেটের মানুষ।

লোক দেখানোর জন্য নয় একান্নবর্তী পরিবারের সকলকে নিয়ে এক সঙ্গে থাকার জন্যই এই বাড়িটি নির্মাণ করেছেন বলে জানালেন মাহতাবুর রহমান।

একটি টিভি চ্যানেলকে দেয়া স্বাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমি থাকার জন্য বাড়িটি তৈরি করেছি। রুচির মধ্যে যদি ভালো হয়ে যায় তাহলে আমার কিছু করার নাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের মধ্যে বড় বাড়ি বানাবো এইটা কখনোই আমার স্বপ্ন ছিলো না। আমার স্বপ্ন ছিলো আমার ভাই-বোনসহ পরিবারের সবাই কোন একটা প্রোগ্রামে এক সঙ্গে থাকবো। সেইজন্যই বাড়িটি বানানো ‘

Related posts