November 15, 2018

বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথ যাচ্ছে ভুটানে

ঢাকাঃ ভারতের পর এবার বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথ যাচ্ছে এশিয়ার আরেক দেশ ভুটানে। দেশটির সরকারের অনুরোধে শিগগিরই ব্যান্ডউইথ রপ্তানি করা হবে। এ থেকে বাংলাশের প্রতি বছর আয় হবে কয়েক কোটি টাকা। সম্প্রতি ব্যন্ডউইথ কিনতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানায় ভুটান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নীতিগতভাবে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয়। এখন দুই দেশের আলোচনার প্রেক্ষিতে বিষয়টির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কয়েক কর্মকর্তা এখন অবস্থান করছেন ভারতে। সেখান থেকে সোমবার তারা যাবেন ভুটানে। একই টেবিলে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির পরিমাণ ও দাম। এর আগে ভুটানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক দাম বাদ দিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণের মৌখিক প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যান্ডউইথের আন্তর্জাতিক দামকে গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ভারত ও ভুটান সফরে যাওয়ার আগে বিএসসিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন মানবজমিনকে বলেন, ভুটানের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আমরা আলোচনা করতে যাচ্ছি। তাদের কতটা চাহিদা রয়েছে বা কত টাকায় তারা কিনতে ইচ্ছুক এসব আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি বলেন, ভুটান এখন চীন থেকে না ভারত থেকে ব্যান্ডউইথ আমদানি করছে আমরা জানি না। এমনকি কত টাকায় তারা কিনছেন তাও জানা নেই। যদি তারা অন্য দেশ থেকে উচ্চ দামে ব্যান্ডউইথ কেনে তাহলে আমাদের কাছে তাদের চাহিদা অনেক বেশি হবে বলে মনে করছি। তবে আমাদের দেশেও ব্যান্ডউইথের চাহিদা বেড়েছে। তাই সবকিছু বিবেচনা করে রপ্তানির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ভারতে ১০ জিবিপিএস ব্যন্ডউইথ রপ্তানি শুরু করে চলতি বছর থেকে।

এক্ষেত্রে প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম ধরা হয়েছে ১০ ডলার। এ হিসেবে আয় হচ্ছে ৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ৬ মাস পর মোট ৪০ জিবিপিএস ব্যন্ডউইথ নিতে পারে ভারত। তখন এ খাত থেকে বছরে বাংলাদেশের আয় হবে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। বাংলাদেশের এ ব্যান্ডউইথ ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মনিপুর ও অরুণাচল রাজ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির জন্য আপাতত ৩ বছরের চুক্তি করা হয়েছে। ব্যান্ডউইথের আন্তর্জাতিক দাম উঠানামা করে। এজন্য প্রতি বছর দামের বিষয়টি পুনর্নিধারণ হবে। গত বছরের ৫ই জুন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিএসসিসিএলের সঙ্গে চুক্তি করে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি সঞ্চার নিগার লিমিটেড (বিএসএনএল)। কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পথে প্রায় চার বছরের কথা চালাচালির পর ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতে বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথ রপ্তানি শুরু হয়। বিএসসিসিএল জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ অংশে সীমান্ত পর্যন্ত ক্যাবল স্থাপনে সরকার খরচ বহন করেছে।

ভারতের অংশের জন্য ভারতের প্রতিষ্ঠান খরচ বহন করেছে। এই প্রকল্পে ভারত সরকার প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় করে অবকাঠামো নির্মাণ করবে বলে জানানো হয়েছে। ব্যান্ডউইথ রপ্তানির জন্য কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা এবং আখাউড়ার স্থলভাগ দিয়ে লিংক সাবমেরিন ক্যাবল গিয়ে যুক্ত হয়েছে ভারতের গৌহাটিতে। এর জন্য নতুন করে প্রায় ৩২ কিলোমিটার নতুন লিংক লাইন তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির হাতে আছে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ। বিএসসিসিএল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পরও ৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রফতানি করতে সক্ষম। ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথ’র চাহিদা বেড়ে ২১০ জিবিপিএস হতে পারে। বাংলাদেশ আরো ১৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ পেতে আগামী জানুয়ারির মধ্যে দ্বিতীয় ভূর্গভস্থ ক্যাবলের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্যাবলের স্থায়িত্বকাল পরবর্তী ১২ বছরের মধ্যে শেষ হবে।

Related posts