November 20, 2018

বাংলাদেশের প্রতি লোলুপদৃষ্টি নিক্ষেপ করছে কারা ।

বাংলাদেশে নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কিছুদিন হলো সতর্কবাণী উচ্চারণ করছেন। তার এই সতর্কবার্তায় দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতিও হুমকির ইঙ্গিত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন সব কথা বলছেন যার ফলে জনগণ তাদের মনে এমন এক বা একাধিক দেশের ছবি এঁকেছেন, যারা আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি প্রচ্ছন্ন হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বস্তুতঃ প্রধানমন্ত্রী তার বিগত আমেরিকা সফরের সময় থেকেই এই ধরনের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছেন। আমেরিকা থেকে ফিরে তার ইঙ্গিতটি আরও কিছুটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

গত সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক শেষে কয়েকজন মন্ত্রীর সাথে অনানুষ্ঠানিক আলাপালোচনার সময় তিনি বিষয়টি আরও পরিষ্কার করেছেন। গত ৮ ডিসেম্বর মঙ্গলবার একটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত রিপোর্ট মোতাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নিরাপত্তার অজুহাতে একটি দেশের এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ ছুতা খুঁজছে, বাংলাদেশ বিমানকে সে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে ওঠা-নামায় কীভাবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা যায়। আমাদের বিমানবন্দর গুলোতে সাধারণ কোনো ঘটনা ঘটলেও সেটাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো হবে।

শেখ হাসিনা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কয়েকটি দেশ বাংলাদেশে আইএস প্রমাণ করতে পারলে, আমাদের দেশে জঙ্গি নিধনের অজুহাতে তাদের সেনাবাহিনী ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে।

তারা সাধারণ ঘটনাকেও আইএসের কর্মকাতা – বলে প্রচার করে। তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন যে, কোনো দেশ যাতে এ রকম সুযোগ না পায়। প্রি-এম্পটিভ এ্যাকশন ঐসব দেশের মতলব ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী কতিপয় প্রি-এম্পটিভ (চৎব-বসঢ়ঃরাব) ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে নির্দেশ দেন।

এর মধ্যে প্রধান পদক্ষেপ হলো, বিমান বন্দরের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, নিয়ম না মেনে যারা বিমান বন্দরে প্রবেশ করবে তাদেরকে গ্রেফতার করতে হবে। এমনকি কেউ যদি দলীয় পরিচয়ও ব্যবহার করে, তাহলে তাকেও গ্রেফতার করতে হবে। বৈঠকে শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, কড়াকড়ি আরোপের ব্যাপারে যদি কেউ প্রশ্ন উত্থাপন করেন সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের বলতে হবে,‘বিমানবন্দরে অনাহূতদের গ্রেফতারের এ নির্দেশ বিমান মন্ত্রীর নয়, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর।’

শেখ হাসিনা জনপ্রশাসনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের উদ্দেশে বলেন,‘আপনি দলের সব কমিটিকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিন, তারা বিদেশে যাওয়া-আসার সময় অনাহূত কাউকে বিমান বন্দরে যেতে উৎসাহিত যেন না করেন।’ বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জানান, কোনো মন্ত্রী বা সরকারি দলের নেতারা বিদেশে যাওয়ার সময় তাদের সমর্থক ও কর্মীরা বিমান বন্দরে যান। তারা ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করেন।

এমনকি ভেতরেও প্রবেশ করেন। মেনন অভিযোগ করেন, কিছু দিন আগে যুবলীগ পরিচয়ে একজন অস্ত্র নিয়ে বিমান বন্দরের স্পর্শকাতর এলাকায় প্রবেশ করেন। এটা বেআইনি এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তা সত্ত্বেও তাকে ঠেকানো যায়নি।

তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরও বলেন, আপনি সব মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেন যাতে কেউ প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো কর্মকর্তা বা সঙ্গীকে বিমান বন্দরে বিদায় ও অভ্যর্থনা জানাতে নিয়ে না যান। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর মনে রাখা দরকার যে, এসব সিরিয়াস কথা এমন এক ব্যক্তির কণ্ঠ থেকে উচ্চারিত হয়েছে, যিনি দেশের প্রশাসনের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত। তিনি শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীই নন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তিনি সমস্ত ক্ষমতার আধার। তার অঙ্গুলি হেলন ছাড়া প্রশাসনের একটি চাকাও নড়ে না।

ইতোপূর্বে ৫ বছর এবং বর্তমানে এক টানা ৭ বছর ধরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পরিচালনা করছেন। একথা কে না জানে যে, দিপুমনি এবং বর্তমানে আবুল হাসান মাহমুদ আলী পররাষ্ট্র মন্ত্রী হলেও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির প্রতিটি দিকনির্দেশনা দেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এহেন অসাধারণ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং অসাধারণ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তি যখন রাষ্ট্রের সামনে বিরাজমান বিপদ সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক করেন তখন সেই সতর্ক বাণীকে অত্যন্ত সিরিয়াসলি গ্রহণ করতেই হবে। জনগণকে সম্পৃক্ত করুন সম্ভাব্য হুমকি বা বিপদ সম্পর্কে যে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রনিচয় সম্পর্কে পাবলিক পারসেপশন সৃষ্টি হয়েছে সেটি যদি সঠিক হয় তাহলে জনগণের জন্য সেটি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।

বাংলাদেশের দিকে যে কেউ রক্তচক্ষু তুলে তাকাবে তার সেই চোখ ভোঁতা করে দিতে হবে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না,সেটি পাকিস্তান হোক,ভারত হোক,গণচীন হোক, আমেরিকা বা রাশিয়া যে কেউ হোক না কেন। ১৬ কোটি মানুষের দেশকে পদানত করা অত সহজ ব্যাপার নয়।

সবচেয়ে বড় দেশ প্রেমিক হল জনগণ এ ব্যাপারে কারো কোনো সংশয় থাকা উচিত নয় যে, বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় দেশ প্রেমিক হলো এ দেশের সাধারণ মানুষ। তারা জন্মেছেন এই দেশে, মরবেনও এই দেশেই। বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথাও তাদের যাওয়ার জায়গা নাই। যে বিপদের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন সেটি একটি ভয়ঙ্কর কথা। দেশের কা-ারী হিসেবে সর্বাগ্রে যেটি প্রয়োজন, সেটি হল জনগণকে এ ব্যাপারে আস্থায় নেওয়া। আমরা সুনিশ্চিত যে, সরকার যদি জনগণকে বিপদের গুরুত্ব অনুধাবন করাতে সক্ষম হন তাহলে দেশের ১৬ কোটি মানুষ এদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে রাজী থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ কোন অবস্থাতেই এ দেশকে আফগানিস্তান,ইরাক,সিরিয়া বা লিবিয়া হতে দেবে না। কোন অবস্থাতেই এদেশে বিদেশী সৈন্য প্রবেশ করতে দেবে না, সে দেশ পাকিস্তান হোক,ভারত হোক,আমেরিকা বা রাশিয়া,যে কেউ হোক না কেন।

একই সাথে বাংলাদেশের মানুষ কোনো হামিদ কারজাইকে এদেশের ক্ষমতার আসনে বসতে দেবে না। এ দেশ শাসন করবে জনগণের প্রতিনিধি। যারা জনগণের আস্থা এবং ম্যান্ডেট লাভ করবে, তারাই এ দেশ শাসন করবে। প্রধানমন্ত্রীকে আজ আমরা এই আশ^াস দিতে পারি যে, তিনি যদি এদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে আস্থায় নেন, তাহলে জনগণও হৃদয়ের সমস্ত উষ্ণতা এবং আবেগ নিয়ে তার ডাকে সাড়া দেবে।

Related posts