September 21, 2018

বাংলাদেশিদের কাজের ব্যাপক সম্ভাবনা মালয়েশিয়ায়

ঢাকাঃ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের কাজের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদাও বেশি। এখানে দক্ষ শ্রমিকের কাজের কোনো অভাব নেই। প্লানটেশন সেক্টর, পাম অয়েল সেক্টর, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টর, কনস্ট্রাকশন সেক্টর, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সেক্টর, শিক্ষকতা, আইটি সেক্টরসহ নানা সেক্টরে বাংলাদেশি দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে আইটি সেক্টরে। আইটিতে একেক জন দক্ষ বাংলাদেশি উচ্চ বেতনে চাকরি করছেন। আইটি সেক্টরে একটু পারদর্শী হলেই বেতন পাচ্ছেন ৪ হাজার থেকে ৬-৭ হাজার রিংগিত। এমনকি তার চেয়েও বেশি বেতন পেয়ে থাকেন বাংলাদেশি দক্ষরা। যা বাংলাদেশি টাকায় লাখের উপরে। শুধু তাই নয়, বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের ছাত্রছাত্রী মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।

আর সেসব বিশ্ববিদ্যালয়েও বাংলাদেশি শিক্ষকের শিক্ষকতা করার চাহিদা রয়েছে। যদিও উম্মুক্তভাবে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নিচ্ছেন না সে দেশের সরকার। তবে দক্ষ শ্রমিক ঠিকই যাচ্ছেন কোনো না কোনো পন্থায় মালয়েশিয়ায়। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়া উম্মুক্ত হলেই হাজার হাজার বেকার পাড়ি জমাবে। আর সেই সম্ভাবনার দ্বার উঁকি দিচ্ছে দিচ্ছে ভাব। শ্রমবাজার উন্মুক্ত না হলেও নানা পথে কাজের সন্ধানে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দিচ্ছেন বাংলাদেশি শ্রমিক। এদিকে, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন এলাকা নতুনভাবে সিঙ্গাপুরের আদলে গড়ে তোলার কাজ চলছে। জহুরবারো, পেনাং হচ্ছে তার উদাহরণ। আর সেসব নতুন এলাকায় দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিকের রয়েছে চাহিদা। আর এসব কাজে বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদা থাকলেও শ্রমবাজার উন্মুক্ত না থাকায় তা পূরণ হচ্ছে না।

আর এ শ্রমবাজার দখলে নিতে চাচ্ছে নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও ভারত। তবে মালয়েশিয়ার কনস্ট্রাকশন কর্তৃপক্ষের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে বাংলাদেশি শ্রমিক। শুধু তাই নয়, রয়েছে কৃষি ক্ষেত্রেও কাজের সম্ভাবনা। এর মধ্যে ক্যামেরন হাইল্যান্ড নামক একটি এলাকা রয়েছে। যেখানে নানা ধরনের কৃষিজাত প্রকল্প চলমান। আর এ প্রকল্পে ব্যাপক কৃষি শ্রমিকের প্রয়োজন। এখানে বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন। তবে বেশির ভাগ বাংলাদেশি শ্রমিক অবৈধ থাকায় ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন না। বৈধভাবে কৃষির এ প্রকল্পে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ হলে বেতন বেড়ে যাবে দ্বিগুণ। যেসব বৈধ শ্রমিক রয়েছেন তাদের বেতনও বেশি। তবে মালয়েশিয়ায় এমন কিছু কারখানা রয়েছে যেখানে যা তৈরি হয় তার চাহিদা বিশ্বব্যাপী। ঠিক তেমনি অতি উন্নতর সিলিং কারখানার মূল কাজের দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশি।

এমন অনেক কারখানা রয়েছে যেখানে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশি। রয়েছে হোটেল রেস্তোরাঁসহ নানা কাজের সুযোগ। ইংরেজিতে পারদর্শী শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল শপিংমলে। এর মধ্যে মেগডোনাল্ড, কেএফসি, সেভেন ইলেভেনসহ অনেক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুকুল ইসলাম শোভা বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। শুধু বৈধভাবে আসতে পারলেই নানা ধরনের কাজ পাওয়া যায়। রয়েছে বাংলাদেশি হোটেল, রেস্তোরাঁ। রয়েছে বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিজ।

এসব প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদাও অনেক। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া একটি বড় দেশ। কিন্তু জনসংখ্যা অত্যন্ত কম। আর এ জন্য বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা বেশি। মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী ব্যবসায়ী রেজাউল বলেন, এ দেশে বাংলাদেশিদের ব্যবসা করারও সুযোগ রয়েছে। চায়না টাউনের ব্যবসায়ী আরমান হোসেন বলেন, মালয়েশিয়ায় ভালোভাবেই ব্যবসা করছি। আমার দোকানে ১২ জন কর্মচারী রয়েছেন। আর ১২ জনই দেশ থেকে এনে চাকরি দিয়েছি। দ্রুত উন্নয়নশীল মালয়েশিয়া যেতে একেক জন একেক পথ অবলম্বন করছেন।

কেউ যাচ্ছেন কাজের ভিসা নিয়ে। আবার কেউ যাচ্ছেন স্টুডেন্ড ভিসা নিয়ে। আবার কেউবা যাচ্ছেন টুরিস্ট ভিসা নিয়ে। এক কথায় মালয়েশিয়া যেতে পারলেই যেন কাজ আর কাজ। বেকার থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জনশক্তি কাজে লাগানোর বিশালাকৃতির দেশ মালয়েশিয়া রয়েছে ব্যাপক কাজের সম্ভাবনা। কাজাং এলাকার একটি সিলিং কারখানার প্রধান কারিগর আবদুল আউয়াল বলেন, বিশ্বখ্যাত কারুকার্যের সিলিং কারখানায় বাংলাদেশি অনেক দক্ষ শ্রমিক রয়েছেন। আমাদের এই কারখানায়ও অনেক বাংলাদেশি রয়েছেন। অপরদিকে কুয়ালালামপুরের বাংলা টাউনে রয়েছে শত শত বাংলাদেশি মালিকানার নানা পণ্যের দোকান। শুধু পণ্যের দোকানই নয়, রয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমও। বাংলা টাউন, চায়না টাউন, জিএম প্লাজা, হানিফ মার্কেট, সগো শপিংমল, সোরিয়া টাওয়ারসহ প্রায় সব এলাকায় রয়েছে বাংলাদেশি শ্রমিকের কাজের ব্যবস্থা। আমপাং এলাকার দোকানি কাপাসিয়ার নিত্য শীল বলেন, দেশে বেকার ঘুরে বেড়িয়েছি। এক আত্মীয়ের মাধ্যমে এসে বেকারত্ব দূর করলাম। শুধু নিত্যই নয়, এমন হলেন, সাফাইশ্রী গ্রামের সাইফুল ইসলাম, খোদাদিয়া গ্রামের সুমন, এমদাদুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাইনুলসহ হাজার হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক। কেপং শ্রীইসান এলাকার একটি কারখানার সুপারভাইজার আরব আলী বলেন, এ দেশে অনেক কাজ রয়েছে। কিন্তু মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশি শ্রমিক নেই নিচ্ছি করে নিচ্ছে না।বিডি প্রতিদিন

Related posts