December 19, 2018

বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে মিলছে না বরাদ্দ, বাঁধগুলো ভেঙ্গে যাওয়ার আংশকা!

এ কে আজাদ, চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ  চাঁদপুর শহর সংরক্ষণ বাঁধ, সাখুয়া-ইব্রাহিমপুর রক্ষাবাঁধ, হাইমচর-চরভৈরবী রক্ষা বাঁধ এবং চাঁদপুর সেচ প্রকল্প সংরক্ষণ বাঁধ এ ৪টি বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণে চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ মিলছে না। ফলে আগামী বর্ষায় বাধগুলো ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্ষায় নয়, বর্তমান শুষ্ক মৌসুমেই চাহিদানুযায়ী বরাদ্দ দিয়ে জরুরী ভিত্তিতে বাধগুলো রক্ষণাবেক্ষণের দাবী উঠেছে। এ ৪টি বাঁধ সংরক্ষণ কাজের স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দের অনুমোদন পাওয়া গেছে। অনুমোদনের পর হাইমচরে কিছু অংশের সংরক্ষণ কাজও শুরু হয়েছে বলে পাউবো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর শহর সংরক্ষণ প্রকল্পের অধীনে দু’পাড়ে নতুন বাজার ও পুরান বাজারে ১শ’ ৬৪ কোটি ৩১ লাখ টাকার কাজ হয়েছে। এসব এলাকার মূলহেডের ৪টি ক্ষতিগ্রস্থ স্থানে ডিজাইন তৈরীর জন্য সার্ভের ভিত্তিতে নকশা অনুমোদিত হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য স্লোপের নিচের অংশে ৪শ’ ৩০ মিটার। এখানে সংস্কারের জন্য ৬ কোটি ৩৯ লাখ ৬ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন মিলেছে মাত্র ১ কোটি টাকা। মূলহেডের ৮০ মিটার সংস্কারের জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। দরপত্রের জন্য বোর্ডের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এছাড়া পুরান বাজার হরিসভা ভাঙ্গন এলাকায় ব্লক ফেলার জন্য ডিজাইন হয়েছে, এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩১ লাখ ৭১ হাজার টাকা।

বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দরপত্র হয়েছে। সাখুয়া-ইব্রাহিমপুর রক্ষা বাঁধ যার দৈর্ঘ্য ৫ হাজার ৬শ’ ৭৬ মিটার। এ বাঁধ নির্মাণে ১শ’ ৬৬ কোটি ১ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। যা গত জুন ২০১৫সালে সমাপ্ত হয়েছে। এ বাঁধের সংরক্ষণের জন্য ইতিমধ্যে সার্ভে হয়েছে। বরাদ্দ চাওয়া হবে। হাইমচর দ্বিতীয় পর্যায়ে বাঁধ হরিণা উজান থেকে চরভৈরবী পর্যন্ত ৭ হাজার ৮শ’ ৯৮ মিটার ১শ’ ৪৯ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৫সালের জুন মাসে শেষ হয়েছে। বন্যায় এ বাঁধের ৩৭ মিটার পূরক ও ৫৮ মিটার আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বাঁধ পুনঃ মেরামত ও সংস্কারের জন্য ১ কোটি ৮৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

বরাদ্দ মিলেনি তবে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। চাঁদপুর সেচ প্রকল্প ভাঙ্গন রোধ প্রকল্পের ২৭শ’ মিটারের মধ্যে বন্যায় দেড়শ’ মিটার দৈর্ঘ্যে সম্পূর্ণ ও ২শ’ ১৬ মিটার আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এ বাঁধ পুনঃ নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৭ কোটি ১৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। যদিও এ প্রকল্পের পূর্বের ৫০ইি র ৩ হাজার ২শ’ ৬৯টি ও ৪৪ ইি র ২ হাজার ৯শ’ ৮৯টি কংক্রিট ব্লক মজুদ আছে। সে জন্য এখানে এগুলো ব্যবহার করলে আর মাত্র ৪ কোটি ৪২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা প্রয়োজন হবে। অথচ এখানে মাত্র ১ কোটি টাকা বরাদ্দ মিলেছে। বাকী টাকা বরাদ্দের জন্য বোর্ডের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। চাঁদপুর শহর সংরক্ষণ বাঁধ, সাখুয়া-ইব্রাহিমপুর বাঁধ, হাইমচর-চরভৈরবী রক্ষা বাঁধ এবং চাঁদপুর সেচ প্রকল্প সংরক্ষণ বাঁধ-এ ৪টি বাঁধই বেশিরভাগ বর্ষায় নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রচুর পানি ও তীব্র স্রোতের মধ্যে ফেলানো হয়েছিল বালু ভর্তি জিও ট্রেক্সটাইল ব্যাগ ও কংকিট ব্লক ফেলানো হয়েছে। বর্তমানে শুস্ক মৌসুমে এ ব্লক ও বস্তা ভেসে উঠেছে। লক্ষ্য করা গেছে অধিকাংশই এলোমেলোভাবে ফেলানো। শুষ্ক মৌসুমে এসব জিও ব্যাগ ও কংকিট ব্লক সুন্দরভাবে বিছানো হলে বা সংরক্ষণ করা হলে বর্ষায় আর বাঁধ ভাঙ্গার আশঙ্কা থাকে না। তা না হলে বাঁধ ভেঙ্গে যেতে পারে। এলাকাবাসী এমন মন্তব্যই করেছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাঁদপুর পওর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া বাঁধ পুনঃ নির্মাণ ও সংরক্ষণের এসব তথ্যে সত্যতা স্বীকার করেছেন এবং বরাদ্দ পেলে দ্রুত বাঁধ পুনঃ নির্মাণ ও সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান। এ ব্যাপারে সকল প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে এবং হতাশার কিছু নেই বলে তিনি জানান।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/২৪ এপ্রিল ২০১৬

Related posts