November 16, 2018

বাঁজি ফুটানো প্রতিবাদে একই পরিবারের চার জনকে কুপিয়ে জখম

Madaripur 17-06-18 (Clush Of Injuri) Picমাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরে ঈদকে ঘিরে পটকা বাঁজি ফুটানোর প্রতিবাদ জানালে একই পরিবারের বাবা-মাসহ তাদের ছেলে-মেয়েকে কুপিয়ে জখম করেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। গত শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের দূর্গাবদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের গুরতর অসুস্থ অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
আহতরা হলো দূর্গাবদী এলাকায় মোয়াজ্জেম বেপারী (৬০), মোয়াজ্জেম বেপারীর স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪৫), তাদের ছেলে ইয়াছিন বেপারী (১৮) ও মেয়ে ডালিয়া আক্তার (১৫) এবং স্থানীয় আলমগীর ফরাজি (৩২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে কলেজছাত্র ইয়াছিন বেপারী স্থানীয় একটি পাকা সড়ক দিয়ে হেটে বাসায় ফিরচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় প্রভাবশালী দুলাল খাঁর ছেলে নাসির খাঁ রাস্তার মধ্যে পটকা বাঁজি ফুটালে আহত হন ইয়াছিন। পরে ইয়াছিনের বাবা মোয়াজ্জেম স্থানীয়দের কাছে এর প্রতিবাদ জানালে দুলাল খাঁ ও তার ছেলে নাসির খাঁ তাদের উপর চড়াও হয়ে ওঠে। এরপরে শুক্রবার দুপুরে দুলাল খাঁ ও তার ছেলে নাসির খাঁসহ তাদের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মোয়াজ্জেম বেপারীর বাড়িতে আসেন। পরে তারা ঘরে ভিতরে ঢুকে বেদম মারধর করেন। একপর্যায়ে মোয়াজ্জেম বেপারী ও তার স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তাদের বাধা দিতে গেলে তাদের অস্ত্রের আঘাতে আহত হন মোয়াজ্জেম বেপারীর ছেলে ও তার মেয়ে এবং স্থানীয় এক যুবক। পরে আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা চলে এলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু আহতদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালে প্রেরণ করেণ।
ভুক্তোভোগী মোয়াজ্জেম বেপারীর ছেলে ইয়াছিন বেপারী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার বাবা রাস্তা ও বাড়ির আশে পাশে পটকা বাঁজি ফুটানোর প্রতিবাদ করায় দুলাল খাঁ ও তার ছেলে নাসির খাঁ আমাদের মেরে ফেলার হুমকি দেয়। একপর্যায় তারা ঘরে ভিতরে ঢুকে দা দিয়ে আমার বাবার হাতে, মাথায় ও বুকে এলোপাথারি কোপাতে থাকে। পরে আমার মা বাধা দিলে তাকেও কোপায়। আমাকে ও আমার বোনকে বেদম মারধর করে। আমরা ওদের শস্তি চাই।’
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি। তাদের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন করা হলেও তারা ফোন ধরেনি। স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, যারা এ ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছে তারা খুবই প্রভাবশালী। ঘটনার পরে তারা গাঁ ঢাকা দিয়েছে। এর আগেও তারা এমন অনেক খারাপ কাজ করেছে। তাদের বাপ-ছেলে উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিৎ।
জানতে চাইলে মাদারীপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবু নাঈম বলেন, এ ধরণের একটি ঘটনা আমরা শুনেছি। ভুক্তোভোগীরা আমাদের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেছিলেন। আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। মামলা হলে তদন্ত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related posts