November 14, 2018

বহিষ্কারাদেশ স্থগিত স্কুলে ফিরছে সেই ভাই-বোন

30 Mar, 2016, রাজধানীর স্যার জন উইলসন স্কুলের দুই শিক্ষার্থী মালিহা মুসকান আহমেদ ও মামিউ আহমেদ। একজন অষ্টম শ্রেণিতে এবং অপরজন প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। স্কুল প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে অভিভাবকের বাগবিতন্ডার জের ধরে ওই দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ওই বহিষ্কারাদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন তাদের পিতা মিনহাজ আহমেদ। হাইকোর্ট ওই বহিষ্কারের আদেশ স্থগিত করে দুই শিক্ষার্থীর ক্লাসে যোগদান ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সকল সুযোগ নিশ্চিত করতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। আদালত বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের আচরণ অমানবিক ও দুঃখজনক। যে স্কুল শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন আচরণ করতে পারে সেখানে কেন ছেলে-মেয়েদের ভর্তি করেন? শিক্ষার্থীদের জন্য যেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোন মানবিকতা থাকে না সেখানে তাদের পড়াশোনার জন্য রাখা উচিত নয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, গত ১০ মার্চ মিনহাজ আহমেদ তার ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে গেলে ওই স্কুলের অভ্যর্থনাকক্ষে থাকা এক কর্মী জানতে চান, স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কেমন হয়েছে। জবাবে তিনি বলেন, ভালোই। কিন্তু স্কুলের মাঠটি এতই ছোট যে সেখানে ঠিকভাবে খেলাধুলা করা যায় না। এ সময় অভ্যর্থনাকক্ষের কর্মী মাঠ না থাকার বিষয়টি প্রকল্প পরিচালক এমএ রউফকে জানাতে বলেন। কর্মীর সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে নিজেকে প্রকল্প পরিচালক পরিচয় দিয়ে কথা বলতে চান। এরপর মাঠ নিয়ে তার সঙ্গে মিনহাজের বাকবিতন্ডা হয়। এসময় মিনহাজ বলেন, স্কুলটি যেহেতু নিজের জায়গায় জমি কিনে ভবন করেছে, সেখানে মাঠটা একটু বড় করলেই হতো। পরে দুপুরে ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর ওই দিন বিকেলেই স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে চিঠি দিয়ে জানায় যে তার দুই সন্তান আর এই স্কুলে পড়তে পারবে না। রিটে স্কুলের সোশ্যাল সার্ভিসেস এন্ড ম্যানেজমেন্ট ট্রাস্ট এর পক্ষে মনসুর আহমেদ চৌধুরীর দেয়া এ চিঠির কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে যোগদান ও সকল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার আবেদন করা হয়।
আবেদনের পক্ষে অ্যাডভোকেট হাবিবুল ইসলাম ভূইয়া ও ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ শুনানিতে বলেন, ৫ বছর ধরে শিশু দুটি ওই স্কুলে পড়ছে। অভিভাবকের সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকের বাগবিতন্ডার জের ধরে শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের শিক্ষা জীবন এখন হুমকির মুখে। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, এখানে শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকারের বিষয়টি জড়িত। আর আজকাল তো স্কুলে খেলার মাঠ খুঁজে পাওয়া যায় না। শিশুরাও খেলা ভুলে গেছে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট বহিষ্কারাদেশের চিঠির কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি রুল জারি করেন। রুলে ওই চিঠি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, জন উইলসন স্কুলটি আগে গুলশানে ছিল। ইংলিশ মিডিয়াম এ স্কুলটি কয়েক মাস আগে বাড্ডার সাতারকুলে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যায়।

Related posts