November 16, 2018

বলয়মুক্ত বিএনপি চাই—সাখাওয়াত

রফিকুল ইসলাম রফিক             
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
আবারো জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের বলয়ে ফিরে যাচ্ছেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল ও মহানগর বিএনপির সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান-এমন খবরের চরম বিরোধতা করেছেন এটিএম কামাল ও সাখাওয়াত হোসেন খান। দুইজনই দাবি করেছেন আমরা কোন বলয়ের রাজনীতি করব না। আমরা দলের রাজনীতি করব।

এ বিষয়ে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেছেন, যারা বলয় সৃষ্টি করে তারা হয় দলের মধ্যে গুণে পোকা। গুনে পোকা যেমন কাঠকে ধীরে ধীরে ভিতরে খেয়ে ফেলে তেমনি দলের মধ্যে গুণে পোকারাও সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। বলয় সৃষ্টিতে দল ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বলয়ের রাজনীতিতে কারো ব্যক্তি বলয় বড় হয় কিন্তু বলয় কখনই দলের জন্য সম্পদ হয়না। দলকে টুকরো টুকরো করে বলয়ের নেতা হওয়ার চেয়ে ঐক্যবদ্ধ বিএনপির কর্মী হওয়া অনেক সম্মানের। কিন্তু আমাদের দলের মধ্যে কিছু বর্ণচোরা রয়েছে যারা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন নেতার উপর ভর করে পরগাছার মত রস শোষণ করে। বর্ণচোরারা পরগাছার মত বেচে থাকতে চায়। আর বর্ণচোরা যার উপর ভর করবে তাকে শোষন করে বর্ণচোরা লাভবান হয় কিন্তু যার উপর ভর করে তাকে শোষণ করে চুষে খেয়ে ফেলে দেয়। বর্ণচোরা নিজে লাভবান হয় কিন্তু অন্যের ক্ষতি হয়। তাই এ বিষয়ে সকল নেতাকে সাবধান থাকতে হবে। যাতে কোন বর্ণচোরা কোন নেতার উপর ভর করে নিজে লাভবান হয়ে ক্ষতি করতে না পারে। গত বছর আট মাসের বেশি সময় কারাভোগ করে জামিনে বের হয়ে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতির শ্লোগান তুলেছিলাম। কোন ব্যক্তি কেন্দ্রীক রাজনীতি করব না। যারা ব্যক্তি কেন্দ্রীক রাজনীতি করবে; বলয়ের রাজনীতি করবে তারা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন দিক্ষিত হবেন। আমি বলয়কে ঘৃণা করি। আমরা বলয়কে দীক্ষার জানাই। বলয় কখনই বিএনপির জন্য সম্পদ হয়না বরং বলয় বিএনপির জন্য বোঝা। দল আমাদের একটাই বিএনপি। আমরা সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে রাজনীতি করি। আমরা বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বলয়ের রাজনীতি করি।
অ্যদিকে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মহানগর বিএনপির সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, আমরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে রাজনীতি করি। আমাদের দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব মেনেই বিএনপির রাজনীতি করি। আমরা কোন বলয়ে বিশ্বাসী না। আমরা নারায়ণগঞ্জ বিএনপিকে বলয়মুক্ত করতে চাই এবং সেই প্রয়াস আছে আমরা সেটাই চালিয়ে যাচ্ছি। সম্প্রতি মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে যে, আমরা কোন একজন ব্যক্তির বলয়ে ফিরে যাবো; এমন কথা বলা হয়েছে তা সঠিক না। নারায়ণগঞ্জে যারা আমাদের সিনিয়র তারা সবাই আমাদের নেতা। কিন্তু কোন ব্যক্তির পুজা বা ব্যক্তির রাজনীতি করব না। আমরা চাই দলে কোন ব্যক্তির নামে শ্লোগান হবে না। শ্লোগান হবে জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে। কোন ব্যক্তির ছবি বড় থাকবে আর দলের প্রতিষ্ঠাতা বা দলের নেত্রীর ছবি ছোট থাকবে সেটা হবে না। তাই আমরা কোন ব্যানারে কোন ব্যক্তির ছবি লাগিয়ে কোন কর্মসূচি পালন করব না। দলের কোন কর্মসূচির ব্যানারে ছবি থাকবে জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের।

অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে ব্যক্তি বলয়ের রাজনীতি সৃষ্টি করে বিএনপিকে দুর্বল করা হয়েছে। আমরা চাই ব্যক্তি বলয় থেকে বের হয়ে আসতে। আর সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। আর আমরা যখন কোন ব্যক্তি বা বলয় থেকে বের হয়ে আসতে পারব তখনি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি হবে শক্তিশালী। আমরা আশা করি বিএনপিকে কোন ব্যক্তি বা বলয়মুক্ত করে ঐক্যবদ্ধ নারায়ণগঞ্জ বিএনপি হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।

নারায়ণগঞ্জের আরো কিছু খবর……।।

ফেন্সি রোমানের দম্ভোক্তি<<পুলিশকে টাকা দিয়া ব্যবসা চালাই

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের লাভরাপাড়া এলাকার কুখ্যাত মাদক সম্রাট রোমান ওরফে ফেন্সি রোমান ও তার বাহিনীর সদস্যরা এখন পাড়াগাঁও, ঠাকুরবাড়িরটেক, লাভরাপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মূর্তিমান আতংক। অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ হেন অপকর্ম নেই যা কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক সম্রাট রোমান ওরফে ফেন্সি রোমান বাহিনী করছে না। এলাকার কেউ এ সন্ত্রাসী বাহিনীর এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করলেই প্রতিবাদকারীকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি ও হামলাসহ নানা ভাবে হয়রানি করা হয়। পুলিশ এ সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।

উল্টো মাদক সম্রাট রোমান ওরফে ফেন্সি রোমানের দম্ভোক্তি- ‘ডিসি-এসপি-থানা পুলিশ-ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ি-র‌্যাবকে টাকা দিয়াই মাদক ব্যবসাসহ অন্যান্য অপকর্ম চালাই।’ এলাকাবাসী জানায়, রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের লাভরাপাড়া এলাকার আমিনুদ্দিন প্রধানের পুত্র চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাদক সম্রাট রোমান ওরফে ফেন্সি রোমান ও তার বাহিনীর সদস্য লাভরাপাড়া এলাকার মৃত সজ্জত আলীর পুত্র আবু হানি, ইউনূছ ফকিরের পুত্র মেরাজ, বাবুলের পুত্র মিঠু, কোমর আলীর পুত্র কাইয়ুম, আতাউরের পুত্র কুত্তা সেলিম, আইছিলা মিয়ার পুত্র নুরে আলম, পাড়াগাঁও এলাকার আনর আলীর পুত্র ইমন, লিয়াকত আলীর পুত্র শাহীন, ফজলুর পুত্র ফয়সাল, ইউসূফের পুত্র ফারুক, ঠাকুরবাড়িরটেক এলাকার আবতুর উদ্দিনের পুত্র মেম্বার সেলিম, আবতুর উদ্দিনের পুত্র আবু সানি, ইছব আলীর পুত্র মনির হোসেন, কাদিরের পুত্র মাহবুব, রফিক, ফকিরের দরগাঁ এলাকার শাহ আলমসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে বেপরোয়া হয়ে একের পর এক তান্ডব চালাচ্ছে। এছাড়া তারা এলাকায় মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রাহাজানিসহ নানা অপকর্ম করলেও হামলা মামলার ভয়ে কেউ টু-শব্দটিও করার সাহস পাচ্ছে না। এ বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যেকের হাতেই রয়েছে অত্যাধুনিক সব অস্ত্র। এসব অস্ত্র তারা বিভিন্ন সময়ে নানা অপকর্মে ব্যবহার করেছে বলে স্থানীয়রা জানায়।

স্থানীয়রা আরো জানায়, চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাদক সম্রাট রোমান ওরফে ফেন্সি রোমান ও তার বাহিনীর সদস্যরা বর্তমানে বেপোরোয়া হয়ে ওঠেছে। ফলে আতংকে দিন কাটছে সাধারণ মানুষের। এ বাহিনী এলাকায় চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা, ডাকাতি, ছিনতাই, নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ড চালিয়ে গেলেও থানা পুলিশ ও ভুলতা ফাঁড়ি পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করছে। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে আরো জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে এবং ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রবিউল, রূপগঞ্জ থানার দারোগা জাহাঙ্গীর, দারোগা আল আমিন, দারোগা ফরিদ ও দারোগা মনিরের সহযোগীতায় এবং ভুলতা ফাঁড়ি পুলিশের সোর্স পাচাইখাঁ এলাকার আবুলের শেল্টারে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এ ফেন্সি রোমান বাহিনী। এ বাহিনীর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গ্রামের পর গ্রাম দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মাদক সম্রাট রোমান ওরফে ফেন্সি রোমান রাতে তার বাড়িতে ফেনসিডিল, ইয়াবা ও মদের আসর বসায়। সঙ্গে রাখে সুন্দরী নারীও। বিভিন্ন এলাকার অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের এসব দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

অনেক সময় ফেন্সি রোমানের বাড়ির এই আসরে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রবিউল, রূপগঞ্জ থানার দারোগা জাহাঙ্গীর, দারোগা আল আমিন, দারোগা ফরিদ ও দারোগা মনির অংশ গ্রহণ করেন বলে জানা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি এ প্রতিনিধিকে জানান, ভুলতা ইউনিয়নের লাভরাপাড়া এলাকার আমিনুদ্দিন প্রধানের পুত্র মাদক সম্রাট রোমান ওরফে ফেন্সি রোমানের মাদকের স্পটটি এখন নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে সব চাইতে বড় মাদকের স্পট। এ মাদক সম্রাট ফেন্সি রোমান ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে অনেক প্রতিবেদন ইতিপূর্বে প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু এ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে কোন কার্য্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি প্রশাসনের কোন দফতর। তাই ফেন্সি রোমান ও তার বাহিনী নির্বিঘ্নে প্রতিদিন ৫/৬ লাখ টাকার মাদক খুচরা ও পাইকারী বিক্রি করছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এলাকাবাসী অবিলম্বে চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাদক সম্রাট রোমান ওরফে ফেন্সি রোমান ও তার বাহিনীর সদস্যদেরকে গ্রেফতারে মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপি, জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রোমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ডিসি-এসপি-থানা পুলিশ-ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ-র‌্যাবের অনুমতি নিয়েই মাদক ব্যবসা চালাচ্ছি। ডিসি-এসপি-থানা পুলিশ-ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ও র‌্যাবকে টাকা দিয়াই মাদক ব্যবসা করি। এখন তারা সবাই আমার পকেটে থাকে। তাই পত্রিকায় যতই লেখালেখি করেন আপনারা আমার ও আমার লোকদের মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে পারবেন না। তবে এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন পুলিশের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাদক সম্রাট রোমানের মাদক ব্যবসার বিষয়টি আমি শুনেছি। শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দেশী-বিদেশী লুটেরাদের স্বার্থে-প্রনীত বাজেট প্রত্যাখ্যান

মুক্তিযোদ্ধের চেতনা বিরোধী এবং গতানুগতিক, সাম্রাজ্যবাদ ও লুটেরা ধনীক শ্রেনীর স্বার্থে প্রনীত মহাজোট সরকারের বাজেট (২০১৬-২০১৭) প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে আজ ৮ জুন ২০১৬ ইং বিকাল ৫ টায় চাষাড়াস্থ শহীদ মিনারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাসদের জেলা সমন্বয়ক নিখিল দাসের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির জেলা সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শিবনাথ চক্রবর্ত্তী, নাসিক ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাসদ নেতা অসিত বরণ বিশ্বাস, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের জেলা সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, সেলিম মাহমুদ, সিপিবি নেতা আবদুল হাই শরীফ ও বিমল কান্তি দাস। সমাবেশ শেষ একটি বিক্ষোভ মিছিল শহর প্রদক্ষিণ করে।

নেতৃবৃন্দ বলেন বর্তমান বাজেট প্রস্তাবনায় কথার ফুলঝুড়ি মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে জনগনের মনতুষ্টির চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে বাজেটে ট্যাক্সের টাকায় দেশী-বিদেশী লুটপাটকারীদের পকেট ভারী করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাজেটে সমাজতান্ত্রসহ রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির কোন প্রতিফলন নেই। ইহা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী আদর্শে প্রণীত হয়েছে। এবারের বাজেটে পরোক্ষ করের পরিমান ও মাত্রা বাড়িয়ে এবং বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য ভবিষ্যত প্রজন্মের কাঁধে বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে বাজেটের পরিমানকে তিন লক্ষ চল্লিশ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এই অর্থের বেশির ভাগ খরচ হবে পূর্বেকার ঋন পরিশোধ, শ্বেত হস্তির মতো বিশাল সিভিল মিলিটারি প্রশাসনের রক্ষনাবেক্ষন, বিলাস দ্রব্য, আমদানি, অপচয়, দূর্নীতিসহ বিভিন্ন ধরনের সিস্টেম লস কর রেয়াতের নামে ধনিক শ্রেণীতে বিশাল ভর্তুকি প্রদান ইত্যাদি কাজে। কালো টাকা সাদা করার বিধান রাখার মধ্য দিয়ে অর্থনীতিতে লুটপাটের ধারাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। বাজেটে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৩৫.৪ শতাংশ বেড়েছে।

যেহেতু ধনীদের উপর নতুন করে কোন কর আরোপ করা হয়নি, সেহেতু বাড়তি এই করের বোঝা জনসাধারনকে বহন করতে হবে। বিশাল অংকের বাজেট ঘাটতির ৬৮ শতাংশহ অভ্যন্তরিন উৎস থেকে নেয়া হবে। ফলে ঋন পরিশোধের ব্যয়ও বেড়ে যাবে। এবারে বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের অনুন্নয়ন ব্যয় বেশী। প্রতিবছর সংশোধিত বাজেটে বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ কমলেও প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বেড়েই চলেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর লুটপাটের টাকা উদ্ধারের পদক্ষেপ গ্রহন না করে আরো ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পুঁজিবাজারের জন্য ১৩ হাজার ১২১ কোটি টাকা বরাদ্দ করার তীব্র সমালোচনা করেন নেতৃবৃন্দ। পরিশেষে নেতৃবৃন্দ এই গণবিরোধী বাজেট প্রত্যাখ্যান করার জন্য জনগনের প্রতি আহবান জানান।

সাব রেজিষ্ট্রারের দেয়া মানসিক চাপে দলিল লেখকের মৃত্যু!

সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল চৌধুরীবাড়িস্থ নারায়ণগঞ্জ সদর সাব রেজিষ্ট্রী অফিসের সাব রেজিষ্ট্রারের দেওয়া মানসিক চাপের কারণে এক দলিল লেখকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলিল লেখকরা। এ ঘটনা নিয়ে গতকাল বুধবার কয়েকজন দলিল লেখকের সাথে সদর সাব রেজিষ্ট্রারের বাকবিতান্ডা হয়েছে। ঐ দলিল লেখকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে দলিল লেখকদের মাঝে।

নারায়ণগঞ্জ সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখকরা জানায়, ৬ জুন দুপুর ২ টায় জমি ক্রেতা-বিক্রেতা নিয়ে জমি রেজিষ্ট্রী করতে যায় দলিল লেখক আব্দুল জলিল (৪৮) (লাইসেন্স নং-২২৬)। সাব রেজিষ্ট্রী অফিসের কেরানী মুসলেম ঐ দলিল ঠিক আছে বলে দেওয়ার পর দলিলের নকশায় ভুল রয়েছে উল্লেখ করে সাব রেজিষ্ট্রার হাফিজা হাকিম রুমা তাকে বসিয়ে রেখে নানা তালবাহান করে। এসময় তার সাথে সাব রেজিষ্ট্রার ভালো ব্যবহার করেনি বলে উল্লেখ করে দলিল লেখকরা। এতে দলিল লেখক আব্দুল জলিল মানসিক চাপে পড়ে। যদ্ধরুণ ৭ জুন ফজরের নামাজের সময় মসজিদে মৃত্যু বরণ করে। দলিল লেখকরা অভিযোগ করেন, দলিল  সাব রেজিষ্ট্রারের ব্যবহারের কারণে মানসিক যন্ত্রণায় মৃত্যু হয়েছে আব্দুল জলিলের। আব্দুল জলিল গত কয়েক বছর যাবত হার্ট ও উচ্চ রক্তচাপ জনিত অসুখে ভুগছিলেন। ৭ জুন সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি ঈদগাহ কবরস্থানে নামাজে জানাজা শেষে কেরানীগঞ্জের তালেপুরস্থ গ্রামের বাড়িতে তার লাশ দাফন করা  হয়।

এ ঘটনা নিয়ে গতকাল বুধবার কয়েকজন দলিল লেখকের সাথে সদর সাব রেজিষ্ট্রারের বাকবিতান্ডা হয়। এ ব্যাপারে সাব রেজিষ্ট্রার হাফিজা হাকিম রুমা জানায়, আব্দুল জলিল অসুস্থ্য থাকার ব্যাপারটি তার জানা ছিল না। এদিকে দলিল লেখকরা জানায়, হাফিজা হাকিম রুমা সদর সাব রেজিষ্ট্রী অফিসে যোগদানের পর অফিসের উৎকোচের হার বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রতি সাফ কবলা দলিলে তাকে ৫% হারে উৎকোচ দিতে হয় বলে জানায় তারা। এছাড়াও ঘোষণাপত্র দলিল, ভুল সংশোধন দলিলসহ অন্যান্য দলিলে তার দাবি অনুযায়ী উৎকোচ তাকে দিতে হয়। তাকে তার উৎকোচ পরিশোধ না করে কোন দলিল লেখক দলিল সম্পাদন করতে পারেনা বলে উল্লেখ করেন দলিল লেখকরা। এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অফিসের কেরানী মুসলেম জানায়, আমরা ঝামেলায় না গিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতেই সাব রেজিষ্ট্রার ম্যাডামকে তার পার্সেন্টিজের টাকা দিয়ে থাকি। তবে উৎকোচের ব্যাপারেটি সাব রেজিষ্ট্রার এড়িয়ে গেলেও তার দেওয়া মানসিক চাপের কারণে দলিল লেখকের মৃত্যুর কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐ দলিল লেখক অসুস্থ্য থাকার ব্যাপারটি আমার জানাছিল না।

সোনারগাঁয়ে ভূমি অফিসগুলো দুর্নীতির আখড়া

সোনারগাঁ উপজেলা ভুমি অফিস দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিনত হয়েছে। নামজারীতে কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য হচ্ছে। সোনারগাঁ উপজেলার সাধারণ মানুষের কাছে ভোগান্তির অপর নাম উপজেলা ভূমি অফিসগুলো। সম্পত্তির নামজারিতে ঘুষের অর্থ দিয়েও ভোগান্তি এখন চরমে। উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টেবিলে প্রকাশ্যে চলছে কোটি কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য। আর এ বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানালে ভোগান্তি আরো বৃদ্ধি পায়। একটি নামজারীতে ঘুষ দেওয়ার পরও ঘুরতে হয় মাসের পর মাস। কিন্তু নামজারী হলে দেখা যাবে ৩ মাস পূর্বের তারিখে নামজারীটি হয়েছে।
জানা গেছে, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন ২০১৩ অনুযায়ী ’খ” তফসিলভুক্ত সম্পত্তির নামজারীতে কোন বাধা নেই। কিন্তু সোনারগাঁও উপজেলা ভূমি অফিসে “খ” তফসিলভুক্ত সম্পত্তির নামজারী করতে বিঘা প্রতি ৬০ হাজার টাকা থেকে ৮০ হাজার করে আদায় করে সার্ভেয়াররা। বিভিন্ন কোম্পানী ও হাউজিং প্রতিষ্ঠানের নামজারীতে এলারফান্ডের নামে বিঘা প্রতি ২০ হাজার টাকা, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১ হাজার ৭শত টাকা আদায় করা হয়। এদিকে, উপজেলা ভূমি অফিসের তদারকি ও নিয়ন্ত্রনের অভাবে ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোর দুর্নীতি ও অনিয়ম আরো চরমে।
সরেজমিনে উপজেলার সনমান্দি ভূমি অফিসে গেলে দেখা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নাম ভাঙ্গিয়ে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল করিম কোটি টাকার ঘুষ বানিজ্য করছে। প্রতিটি নামজারীর সাধারন কেইস সই করতে তাকে দিতে হয় ৫ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা। অর্পিত খ তফসিল ভূক্ত সম্পত্তিতে প্রতি শতাংশ প্রতি এ কর্মকর্তাকে দিতে হয় ৩ হাজার টাকা করে। নামজারী পর্চা সই করতে ১ হাজার টাকা ও খাজনা রশিদ কাটতে গেলে তাকে রশিদের অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিরেরচর মৌজার নাল জমির ভূমি উন্নয়ন কর দিতে যায় ইউসুফ নামের এক ব্যক্তি। আব্দুল করিম উক্ত সম্পত্তির খাজনা কাটতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। পরে খাজনার রশিদ কাটে প্রায় ১১ হাজার টাকা। এত অল্প টাকার রশিদে ১ লাখ ৫০হাজার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আব্দুল করিম খাজনা রশিদে  ভূল হয়েছে লিখে তা বাতিল করে। খাজনার রশিদ নং যথাক্রমে শ ১৪৪২৭ ও শ ১৪৪২৮, নামজারী রেজিষ্ট্রার যাহার খতিয়ান নং ৩০৯। তবে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল করিম প্রশিক্ষনে থাকা কালিন পুনরায় আবার খাজনা কাটতে গেলে ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা বিপুল জানায়, এই জমির খাজনা ১১ হাজার টাকার কম হবে। তবে স্যার কেন এত টাকা চাইছেন তা আমার জানা নেই। করিম স্যার আমাকে মোবাইলে খাজনা গ্রহন করতে নিষেধ করেছে তাই আমি খাজনা রশিদ দিতে পারছিনা। আর সরকারী কোন নিয়োগ ছাড়াই তার ভাগিনা নবি হোসেনের কাছে থাকে খাজনার রশিদ, আলমারীর চাবিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন কাগজপত্র। এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা বিপুল জানায়, আমার আলমারী ও রিসিট আমার কাছে থাকে। আর স্যারের সকল কাগজপত্র নবি হোসেনের কাছে থাকে।  একই অভিযোগ পাওয়া গেছে জামপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধেও।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাছের ভূঞা জানায়, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

না’গঞ্জে মসজিদগুলোতে মুসল্লীদের ভিড়

মুসলিমদের প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠেছে জেলার ঘরে ঘরে। সিয়াম সাধনার রমজান শুরু হওয়ায় সর্বত্রই বিরাজ করছে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশ। জেলার মসজিদগুলোতে মুসুল্লীদের উপচেপড়া ভিড়। এ তালিকায় বয়োবৃদ্ধ, প্রবীণ যুবকদের সাথে যোগ দিয়েছেন স্কুল কলেজ পড়–য়া কিশোর তরুণরাও। অধিকাংশ মসজিদে তারাবীর নামাজে ঠাঁই না হওয়ায় মসজিদ সংলগ্ন মাঠ ও সড়কে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মসজিদ, ইবাদতখানা, খানকাহ, দরবার শরীফের পাশাপাশি অফিস আদালতেও মুসল্লিদের জন্য ‘জামাত’-এ নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শত শত হাজার হাজার মানুষ এক সঙ্গে ইফতার করছেন। একে অন্যকে সহায়তা করছেন মুসলিম ভাই হিসেবে। সর্বত্রই ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশ। এ এক অন্যরকম চিত্র। পুরো জেলার  চিত্র তুলে ধরা হলো-
মাহে রমজানকে ঘিরে নগরীর সর্বত্র ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। মসজিদ গুলোয় বহুগুনে বেড়েছে মুসল্লিদের সংখ্যা। প্রতি ওয়াক্তের জামাত মসজিদ চত্বর ছেড়ে বাইরের আঙ্গিনা ও রাস্তা পর্যন্ত বিস্তৃত লাভ করছে। তারাবীহর নামাজেও মসজিদ গুলোয় প্রচন্ড ভীড়।
প্রথম দিনেই ইফতার বাজারও ভিড় ছিল লক্ষনীয়। বিভিন্ন হোটেল রেস্তরা দিনের বেলা বন্ধ রাখলেও দুপুরের পর থেকে হরেক রকমের ইফতার সামগ্রী পসরা সাজিয়ে বসছে। এর বাইরেও মওসুমী ইফতারীর অনেক দোকান গড়ে উঠেছে। রাস্তার ধার ফুটপাত বাধের উপর বসেছে ইফতারীর দোকান। বাদ নেয় মহল্লার মোড় গুলো সেখানেও মিলছে পেয়াজু বেগুনী জিলাপী ছোলাসহ নানা রকম সামগ্রী। আমের এখনো বাজারে রয়েছে ফজলী আশ্বীনা আ¤্রপালী। দাম একটু বেশী হলেও আম স্থান করে নিচ্ছে ইফতারীর টেবিলে। চারিদিকে আনারসের ছড়াছড়ি। দামও রয়েছে নাগালের মধ্যে। তবে কলার বাজার চড়া। কাঁচা কলাকে কার্বাইড দিয়ে পাকানো হচ্ছে। কাঁচা পেপেও পাকানো হচ্ছে একই কায়দায়। মেশিনে ভাজা মুড়ির পাশাপশি হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা বেশী। কারন মেশিনে ভাজা মুড়িতে ইউরিয়া মেশানো হচ্চে। ফলে হাতে ভাজা মুড়ির দিকে ঝুঁকছে মানুষ।
প্রথম রোজার ইফতারীটা একটু ভালভাবে করার জন্য সাধ্যমত চেস্টা ছিল সবার। সে কারনে বিকেল বেলায় ইফতারীর বাজার সরগরম হয়ে ওঠে। বাড়িতে বাড়িতে গৃহিনীরা ছিল তৎপর।

অপর দিকে আমাদের বন্দরে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে বন্দরে শুরু হয়েছে মাহে রমজান। মসজিদগুলোতে মুসল্লিদের উপচেপড়া ভিড়। প্রথম তারাবীর নামাজে মসজিদগুলোতে নামাজীদের ঠাঁই না হওয়ায় মসজিদসংলগ্ন মাঠ এবং সড়কেও অনেকে নামাজ আদায় করেছেন। তারাবীর নামাজ ছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত নামাজেও মসজিদে বিপুলসংখ্যক মুসল্লীর সমাবেশ ঘটছে।
বন্দরের ফরাজীকান্দা দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ, সারোয়ার জুট মিল্স মসজিদ, ফরাজীকান্দা বড় জামে মসজিদ, বাইতুল আজিজ জামে মসজিদ, বড়বাগ জামে মসজিদ, মাহমুদনগর জামে মসজিদ, বাইতুন নূর জামে মসজিদ (মুন্সি বাড়ী), কদমরসুল পূর্বপাড়া জামে মসজিদ, বক্তার কান্দী বায়তুন নূর জামে মসজিদ, সোনাকান্দা হাট মসজিদ, হাবিবিয়া জামে মসজিদ, আমিরাবাদ সরকারপাড়া জামে মসজিদ, উত্তর নোয়াদ্দা জামে মসজি, সাত্তার রোটর স্পিনিং মিল্স জামে মসজিদ, বাইতুল আলিফ জামে মসজি, উত্তর লক্ষণখোলা বাইতুল আমিন জামে মসজিদ, দক্ষিণ লক্ষণখোলা বাগবাড়ী বায়তুল আমান জামে মসজিদ, উত্তর লক্ষণখোলা দালালবাড়ী জামে মসজিদ ও মদনগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ বড় এবং প্রাচীন মসজিদগুলোতে অতিরিক্ত নামাজীদের নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি মসজিদে ইফতারীর আয়োজনও রয়েছে। মসজিদ, ইবাদতখানা, খানকাহ, দরবার শরীফের পাশাপাশি বন্দরের সরকারী-বেসরকারী অফিস-আদালতেও নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বন্দরের মানুষ অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ। শবে বরাতের রাত থেকে এ অ লের মসজিদগুলোতে মুসল্লীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পুরো রমজান মাসজুড়ে সব বয়সের মানুষ মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে। রোজার মাসে দিনের বেলায় বন্দরের হোটেল-রেস্তোঁরা বন্ধ রাখা হয়। সর্বত্রই বিরাজ করে ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশ।
সোনারগাঁয়ে সেহরী ইফতার ও তারাবীর নামাজ সহ নানা ইবাদত-বন্দেগীর মধ্যে দিয়ে সারা দেশের মত সোনারগাঁয়েও অত্মশুদ্ধির মাস মাহে রমজান শুরু হয়েছে। তবে নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্যে রহমতের এ মাসে সাধারন মানুষের দূর্ভোগ চরমে। রোজাকে সামনে রেখে শবে বরাতের পর পরই একদফা নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার পরে গত দু দিনে বিভিন্ন পণ্যের দর আরো এক দফা বেড়েছে। গতকাল সোনারগাঁয়ের বাজরে শশা বিক্রী হয়েছে ৫০Ñ৫৫ টাকা কেজি দরে। গত কয়েকদিন বাজারে বেগুনের সরবারহ না থাকলেও গতকাল কিছু আমদানি হয়েছে। তবে কেজি ৫০ টাকার নিচে নয়। ভোজ্য তেলের দাম কমার কোন প্রভাব সোনারগাঁ বাজারে লক্ষ করা যায়নি। তবে ভাল ব্রন্ডের ভোজ্য তেল কোম্পানিগুলো চাহিদা বৃদ্ধির সুযোগে রোজার ১৫দিন আগে থেকেই সরবারহ প্রায় বন্ধ করে দেয়ায় নতুন করে মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন খুচরা দোকানিরা। বাজারে মাছের সরবারহ সাম্প্রতিক বছরগুলো সর্ব নিম্ন পর্যায়ে। ফলে দরও চড়া।

তবে এসব কিছুর পরেও অপার রহমত নিয়ে রমজান এসেছে সারা দেশের মত সোনারগাঁয়ে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানগন রহমতের এ মাসে এবাদত বন্দেগীর এসুযোগকে কাজে লাগাচ্ছেন সর্বন্ত করনে। শেষ রাতে সেহরী খাবার পরে বেশিরভাগ মুসল্লীই ফজর নামাজ আদায় করে বিশ্রাম গ্রহণ করছেন। অনেকেই নামাজের পরে তাসবিহ-তাহলীলও আদায় করছেন। গতকাল প্রথম রোজায় দিনভর পানহার বন্ধ রেখে সন্ধায় মাগরিবের আজান শুনে ঘরে ঘরে ইফতারীর আয়েজনে ছিল এক ভিন্ন ধরনের আমেজ। প্রায় এক বছর পরের এ প্রথম ফরজ রোজায় মুসল্লিগণের দেহমনে ছিল এক ধরনের ভিন্ন অনুভুতি। গতকাল বরিশাল মহানগরীর মসজিদে মসজিদে যথা নিয়মে ইফতারীর আয়োজন ছিল ব্যাপক। এলাকার সর্বস্তরের মানুষ নিজ নিজ মহল্লার মসজিদে ইফতারী প্রদান করেন। মুসাফির সহ এলাকাবাশীর অনেকেই ধনী গরীবের ভেদাভেদ ভুলে মহল্লার মসজিদে একসাথে ইফতারী গ্রহণ করেন। এসব ইফতার মাহফিলে ইসলামের সৌভ্রাতৃত্বের এক অপরূপ নিদর্শনই ফুটে ওঠে।

আড়াইহাজারে আড়াইহাজারের নামিদামি হোটেল, রেস্তোরাঁ, ফাস্টফুড ও চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে পবিত্র মাহে রমযান উপলক্ষে রোজার প্রথমদিনে সুস্বাদু, মুখরোচক ইফতারের বাজার জমে উঠেছে। এছাড়াও ফুটপাতগুলোতেও ইফতার সামগ্রী বেচাবিক্রির ধূম পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রথম রোজার দিন বিকেলে মুসলিম সম্প্রদায়ের সব শ্রেণী পেশার লোকজন ঘরে তৈরি ইফতার সামগ্রীর সঙ্গে বাইরের সুস্বাদু আইটেম যোগ করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে নগরীর ইফতার বাজারে।
আড়াইহাজারের দু’শতাধিক ষ্পটে ইফতার সামগ্রী বিক্রির পসরা বসেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও নগরীর বড় বড় দোকানগুলো রকমারি ইফতার সামগ্রী নিয়ে মঙ্গলবার দুপুর থেকে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

রোজা শুরুর সপ্তাহখানেক আগ থেকেই এবারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় ইফতার সামগ্রীর দামও আকাশ ছোঁয়া। তারপরও বেচাবিক্রির কমতি নেই। আড়াইহাজার ইফতার বাজার ঘুরে দেখা যায়, নগরীর বড় বড় দোকানগুলো ক্রেতাদের বাড়তি সুবিধা দিতে আর দোকানের ভেতরের ভিড় নিয়ন্ত্রণে রাখতে রকমারি ইফতারের পসরা সাজিয়েছে দোকানের সামনের অংশে। এসব দোকানের ইফতার সামগ্রী কিনতে বিত্তবান ছাড়াও মধ্যবিত্তদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে নগরীর ভেতরে এবং নগরীর বাইরের বিভিন্ন এলাকায় ইফতার সামগ্রী বিক্রির ভাসমান দোকান গড়ে উঠেছে। এসব স্থানের অধিকাংশে ফুটপাতে বসেও ইফতার বিক্রি হচ্ছে। নানা পেশার দ্ররিদ্র শ্রেণীর লোকজন সেখানকার ক্রেতা।

এবারে ইফতার বাজারে নতুন পুরানো সব আইটেমেরই দাম বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ইফতারের নির্দিষ্ট সময়ের অন্তত আধঘন্টা আগে উপজেলার নামিদামি সবকটি হোটেল রেস্তোরার আসন দূর দুরান্ত থেকে কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে উপজেলার আসা লোকজনের দখলে ছিল। আবার ফুটপাতের ইফতার বিক্রির দোকানগুলোতে নিন্মবিত্ত ক্রেতাদের ভিড় ছিল।

রূপগঞ্জে রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাহে রমজানে উজ্জীবিত হয়েছে সারা জেলার মত রূপগঞ্জের তৌহিদী জনতা। সরগরম হয়ে উঠেছে মসজিদ গুলো। বড় বড় মসজিদ গুলোতেও জায়গার সংকুলান হচ্ছে না।

মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস রমজান। রমজানের রোজা পালন, মসজিদে মসজিদে বা জামায়াত ফরজ ও তারবিহ সালাত আদায়ে রোজাদারদের মাঝে দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ। এখন সকল শ্রেণী ও বয়সের মানুষ রোজা পালন করছেন, দল বেঁধ মসজিদে তারিহর জামায়াতে হাজির হচ্ছেন। গতকাল রূপগঞ্জ শহরের সব কটি মসজিদে দেখা গেছে সব বয়সের মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়। বড় বড় মসজিদ গুলোতেও জায়গার সংকুলান হচ্ছে না। একই অবস্থার খবর জানা গেছে গ্রামে-গঞ্জের মসজিদ গুলো থেকে

না’গঞ্জের রাস্তায় রিকশার দাপট!

নারায়ণগঞ্জ এখন তিন চাকার অযান্ত্রিক পা-চালিত বাহন রিকশার শহরে পরিণত হয়েছে। গোটা শহর দখল করে আছে রিকশা। নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের শহর জীবন রিকশাবিহীন চিন্তাই করা যায় না।
এখানে যানজটের অন্যতম কারণও রিকশা। পরিবেশবান্ধব এ রিকশার কারণেই আবার শহরবাসীকে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।
জানা গেছে, রিকশা নারায়ণগঞ্জ আসে ১৯শতাব্দীর প্রথম দিকে। সেই সময়ে উচ্চবিত্ত শ্রেণীর মানুষ রিকশায় চলাচল করতেন। বর্তমানে শহরের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি এর লোকসংখ্যা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে।
ধারণা করা হয়, বর্তমানে শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জে রিকশা চলাচল করে প্রায় ১লাখ। এর মধ্যে শুধু নারায়ণগঞ্জ শহরেই রিকশা চলে প্রায় ৩০হাজার। কয়েক মাস আগেও নারায়ণগঞ্জ শহরে রিকশার সংখ্যা বেশি থাকলেও ইদানিং ব্যাটারিচালিত রিকশা ‘ইজিবাইক’-এর দাপটে রিকশার চলাচল কিছুটা কমেছে।
পরিবেশবান্ধব রিকশা তারপরেও দুর্ভোগ। তবে নারায়ণগঞ্জে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা রিকশা চালাচ্ছে। আর তাই নারায়ণগঞ্জের রাস্তায় এখন রিকশার দাপট। তবে এর অধিকাংশ’ই চালাচ্ছে অন্য জেলার অভিবাসী।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, বর্তমানে শহরে লাইসেন্সধারী রিকশার সংখ্যা ১৭ হাজার ৪’শ ৯২টি গিয়ে ঠেকেছে। কিন্তু অনেকের হিসাবে, শহরে প্রায় ৩০ হাজার রিকশা চলাচল করছে।

অবৈধ রিকশার ব্যাপারে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স পরিদর্শক সুমন বলেন, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলা থেকে অবৈধ রিকশা শহরে এসে ঢোকে। এতে করে রিকশার সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়ে যায়। তিনি বলেন, যেগুলো চলতো, সেগুলোর লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে এতো বেশি রিকশা চলাচলের কারণ সম্পর্কে জানতে কথা হয় কয়েকজন রিকশাচালকের সঙ্গে। তাদের একজন আব্দুর রশিদ। বাড়ী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার তারইন্দা ইউনিয়নের শাকুয়া গ্রামে।
আব্দুর রশিদ জানান, গ্রামে প্রচন্ড অভাব। কাজ নেই। তাছাড়া গ্রামে রিকশা চালালে দিনে একশ থেকে দেড়শ টাকার বেশি ইনকাম (আয়) করা যায় না। আর শহরে প্রতিদিন রিকশা চালালে ইনকাম হয় ৫’শ থেকে ৬’শ টাকা। তিনি বলেন, অভাবী সংসারে খাবারের যোগান দিতে তাই বাধ্য হয়েই শহরে রিকশা চালাতে আসি।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরিবহন চেপে প্রতিদিন বহু রিকশাচালক শহরে আসেন। একইভাবে প্রতিদিন জেলার ৫টি উপজেলা থেকে রিকশাচালকরা হামলে পড়েন শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জ শহরে।

বিএনপি নেতাদের আদালতে হাজির

নাশকতার ননসিডিউল মামলায় মহানগর বিএনপি ও যুবদলের আহ্বায়কসহ ৭ নেতা আদালতে হাজিরা দিয়েছে।

বুধবার দুপুরে জেলা দায়রা জজ ও চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (ক) অ লে নারায়ণগঞ্জ ৯(১) ২০১৫ ও বিশেষ ট্রাইবুনাল-৬১/১৫ মামলায় হাজির করা হয় মহানগর বিএনপি’র সভাপতি জাহাঙ্গীর, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক আক্তার হোসেন খোকন শাহ, যুগ্ন আহবায়ক মাসুদ রানা, রানা মুজিব, মহানগর কৃষক দলের যুগ্ন আহবায়ক সলিমুল্লাহ সেলিম, মহানগর যুবদলের নেতা মাহাবুব হাসান জুলহাস।
এ বিষয়ে আসামী পক্ষের আইনজীবী এড. বোরহান উদ্দিন জানান, নন সিডিউল নাশকতার এই  মামলায় আজ  (বুধবার) বিএনপি‘র ৭ নেতা আদালতে হাজিরা দেয়। তবে তাদের জামিনের ব্যাপারে আদালত কিছু জানায়নি।

আবারও আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন তৈমূর

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে তিন বছর আগে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানকে দলের মনোনয়ন না দিয়ে বড় ভুলটি করেছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। কয়েক বছর পর তিনি আবারও একটি ভুল সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন যেটাকে একই সঙ্গে আত্মঘাতি বলেও মন্তব্য করেছেন রাজনীতির মাঠকর্মীরা। তারা বলছেন, সেন্টুকে বিএনপিতে ফিরিয়ে আনলে ভিন্ন দিক থেকে তৈমূর লাভবান হলেও রাজনীতির ক্ষেত্রে তিনি বেকায়দায় পড়বেন। আর এতে করে দলের চেইন অব কমান্ডও নষ্ট হবে।
বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, যে সেন্টু দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করেছে আবার এখন এমপি শামীম ওসমানের পক্ষে দিনরাত কথা বলে, এমপি সেলিম ওসমান কর্তৃক প্রধান শিক্ষককে কানে ধরে উঠ বসের ঘটনায় বক্তব্য রাখে সেখানে ওই সেন্টুকে দলে ফেরানা শুভকর হবে না।

বরং এতে করে তৈমূরের প্রতি নেতাকর্মীদের এ ধারণা হবে যে তিনিও ওসমান পরিবারের প্রেসক্রিপশনে সেন্টুকে দলে ফেরাচ্ছেন। এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিস্কৃত ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুকে আবারও দলে ফেরানো হচ্ছে। আর সেই উদ্যোগটি গ্রহণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। এজন্য মতামত জানার জন্য তিনি মঙ্গলবার ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শাহআলম ও সেক্রেটারী আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের কাছে আবেদন করেছেন।
শাহআলম ও বিশ্বাসকে পাঠানো তৈমূর আলমের পাঠানো সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র স্বারক নং- বহিষ্কার/৭৭/২০১৬/১৩ তাং- ২১/৪/২০১৬ ইং আদেশে গঠনতন্ত্রের ৫(গ) ধারা মোতাবেক ফতুল্লা থানা বিএনপি সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মনিরুল আলম সেন্টু’কে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। মোঃ মনিরুল আলম সেন্টু বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য ০১/৬/২০১৬ ইং তারিখে একটি আবেদন করেছেন যাহা ০৪/৬/২০১৬ ইং তারিখে আমার হস্তগত হয়েছে।  উক্ত আবেদনে সেন্টু উল্লেখ করেন যে, “কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি এবং ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিএনপি’র অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিয়ে বৈঠকে সকলের সর্ব সম্মতিক্রমে আমাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করার জন্য অনুমতি প্রদান করা হয়। আমি সেই মতে নির্বাচন করতে থাকি।” সেন্টুর আবেদনের ফটোকপি সংযুক্ত। সেন্টুর আবেদন বিবেচনায় নেয়ার জন্য তার উক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আপনাদের মতামত জানা দরকার বিধায় মতামত দেয়ার জন্য আপনাদের অনুরোধ করা হলো।
এর আগে সেন্টুকে বেঈমান হিসেবেও আখ্যায়িত করেছিল তৈমূর আলম খন্দকার। আর তৈমূরকে পরোক্ষভাবে চাঁদাবাজ বলেছিল মনিরুল আলম সেন্টু।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল ইউনিয়ন নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমা না দেওয়া সহ সরকারী দলের সঙ্গে আঁতাত ও ছলচাতুরির অভিযোগে ৭জন বিএনপি নেতাকে দল ও পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

না’গঞ্জ বিআরটিএ’র ৫২১ নথি গায়েব

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) যানবাহন নিবন্ধনে রাজস্ব আদায়সংক্রান্ত ৫২১টি নথি গায়েবে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিআরটিএ’র নারায়ণগঞ্জ সার্কেলে যানবাহন নিবন্ধন বাবদ আদায় করা রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে ৫ বছর আগে অনুসন্ধান শুরু হয়েছিল। বার বার তাগাদা দিয়েও ওইসব নথি না পেয়ে অবশেষে অনুসন্ধান কাজ বন্ধ করে দুদক। অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ৫ বছরে বিভিন্ন সময় ওইসব নথি চেয়ে চিঠি দিলেও বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ নথি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে নথি গায়েবের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়ে গেল মাসে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় দুদক। খবর দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশের।
সূত্র জানায়, বিআরটিএ’র নারায়ণগঞ্জ সার্কেল অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশে ২০০৯ সালে ২৪ মে থেকে ২০১১ সালের ২৯ মার্চ পর্যন্ত যানবাহন নিবন্ধনে আদায়কৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেরা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে ২০১২ সালে মে মাসে দুদক অভিযোগ আসে। এসব নথির মধ্যে রয়েছে মোটরযান লাইসেন্স, মোটরযান কর, নিবন্ধীকরণ, মালিকানা বদলি, ফিটনেস সার্টিফিকেট ইস্যু ও নবায়ন, রুট পারমিট ইস্যু ও নবায়ন, মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন এবং মোটর ড্রাইভিং স্কুল রেজিস্ট্রেশন, ইনস্ট্রাক্টর লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন, প্রাক-রেজিস্ট্রেশন পরিদর্শন ফিসহ আটটি খাতে রাজস্ব আদায়সংক্রান্ত নথি। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই সময় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দুদকের উপপরিচালক আবদুল আজিজ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট নথি চেয়ে বার বার নোটিশ করেন অনুসন্ধান কর্মকর্তারা। কিন্তু বিআরটিএ কর্মকর্তারা নথি সরবরাহ করেননি। এর পর কয়েক দফা অনুসন্ধান কর্মকর্তা পরিবর্তন করে বিশেষ টিম পুনর্গঠন করা হয়। দায়িত্ব পেয়ে সব কর্মকর্তাই নথিপত্র চেয়ে বিআরটিএ’কে চিঠি দেন। এর পর বিআরটিএ নথি সরবরাহ করতে পারেনি। ফলে দুদকের অনুসন্ধান কাজও সম্পন্ন হয়নি। এ অবস্থায় নথিপত্র গায়েবের সঙ্গে জড়িত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দুদককে অবহিত করতে গেল মাসে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিআরটিএ’র নারায়ণগঞ্জ সার্কেলের মোটরযান লাইসেন্স, মোটরযান কর, নিবন্ধীকরণ, মালিকানা বদলি, ফিটনেস সার্টিফিকেট ইস্যু ও নবায়ন, রুট পারমিট ইস্যু ও নবায়ন, মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন, মোটর ড্রাইভিং স্কুল রেজিস্ট্রেশন, ইনস্ট্রাক্টর লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন, প্রাক-রেজিস্ট্রেশন পরিদর্শন ফিসহ আট খাতে রাজস্ব আদায়সংক্রান্ত ৫২১টি নথি চেয়ে কয়েক দফা চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু চিঠির কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি এসব নথি গায়েব কিংবা চুরি বা নষ্ট হয়েছে কিনা, সে সম্পর্কেও কোনো রেকর্ডপত্র সরবরাহ করা হয়নি। রেকর্ডপত্র না পাওয়ায় দুদকের অনুসন্ধান সমাপ্ত করা সম্ভব হয়নি। তাই বিআরটিএ কর্তৃক বিভাগীয়ভাবে উচ্চপর্যায়ের টিম গঠন করে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে দুদককে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সেলিম ওসমানের ভাগ্য নির্ধারণ আজ

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমানের ভাগ্য নির্ধারণ হবে বৃহস্পতিবার ৯ জুন। কারণ বন্দরের স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে কানে ধরে উঠ বস করানোর ঘটনার পর সেলিম ওসমান ঘোষণা দিয়েছেন তিনি ঘটনার সুরহা না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাবেন না, সেই সঙ্গে চেম্বার অব কমার্স, বিকেএমইএ, ফেডারেশন সহ সকল দায়িত্ব থেকে সরে থাকবেন। ঘোষণার পর থেকে এখন অবধি তিনি কোথাও চেয়ারে বসেন নাই। এ অবস্থায় এর শেষ কী সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে বৃহস্পতিবার আদালতের আদেশের দিকে।
গত ২৯ মে রাষ্ট্রপক্ষ নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসির দেয়া প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করার পর বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাই কোর্ট বে  নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসনের দেয়া প্রতিবেদনে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘দায়সারা নয়’, আগামী ৮ জুনের মধ্যে তাদের আবারো ‘সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত’ প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। রাষ্ট্রপক্ষকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেছে, ‘ডিসিসহ অন্যদের বলবেন, যেন দায়সারা গোছের প্রতিবেদন না দেয়। দায়সারা হলে আগামীতে এ রকম প্রতিবেদন গ্রহণ করা হবে না। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে কুণ্ঠিত হব না।’  বিষয়টি ৯ জুন আবারও আদালতে উঠবে জানিয়ে আদেশে বলা হয়েছে, হাই কোর্টের নির্দেশনার আলোকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে।
উল্লেখ্য ৮ মে শ্রেনীকক্ষে রিফাত হাসান নামের এক ছাত্রকে মারধর করে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি। ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ তুলে গত ১৩ মে স্থানীয় ৩টি মসজিদের মাইকে ঘোষণা করে কয়েক হাজার লোককে ক্ষেপিয়ে তোলা হয়। পরে ওই শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে দীর্ঘ ৬ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে তাকে কান ধরিয়ে উঠ-বস করান স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান। দেশজুড়ে ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচার দাবির মধ্যেই ওই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তার দুই দিনের মাথায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল পর্যদের ওই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে জানায়, প্রধান শিক্ষক তার পদে বহাল আছেন। নিয়ম বহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেয়ায় ওই স্কুল কমিটিকেও মন্ত্রণালয় বাতিল করে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান ও মহসীন রশিদ ১৮ মে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদন আদালতে তুলে ধরেন। এর প্রেক্ষিতে ওইদিন আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেয়। এমপি সেলিম ওসমানসহ ওই ঘটনায় যাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না-তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। পাশাপাশি ওই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তাও আদালত জানতে চায়। এদিকে গত ১৯ মে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে ‘তারছেড়া’ শিক্ষক আখ্যায়িত করে এমপি সেলিম ওসমান দাবি করেছেন ইসলামকে কটূক্তি করার কারণেই একজন কটূক্তিকারকের শাস্তি দেয়া হয়েছে। কোন শিক্ষককে তিনি শাস্তি দেন নাই। তিনি ক্ষমা চাইবেন না। অপরদিকে ওই শিক্ষক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ঘটনার দিন বিকেলে এমপি সেলিম ওসমান তার দুই গালে ৪টি থাপ্পড় মেরে গালাগাল করে কান ধরে উঠবস করান। তিনি এমপি সেলিম ওসমানের বহিস্কার দাবি করেন। এদিকে গত ২০ মে ওই ছাত্র রিফাত হাসান শহরের ডিআইটি এলাকায় তৌহিদী মুসলিম জনতার ব্যানারে সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবি করে বক্তব্য রাখেন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। যাতে উল্লেখ করা হয় শিক্ষককে লাঞ্ছনার ঘটনায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে কটুক্তির কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ছাত্র রিফাত হাসান একেক সময়ে একেক কথা বলছেন।

আজ তৃতীয় রমজান কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত অপরিসীম

মাহে রমজানের তৃতীয় দিবস ৯ জুন বৃহস্পতিবারর। সবাই নিমগ্ন ইবাদতের মাধ্যমে সওয়াব হাছিল ও গুনাহ থেকে পরিত্রাণ এবং জাহান্নামের আগুন থেকে নিষ্কৃতি লাভের আশায়। তাই সবদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশের কাছে মাথা নত করে গভীর সাজদায় লুটিয়ে পড়ে আল্লাহর রিজামন্দি হাসিলের চেষ্টায় ব্যাকুল বিশ্বের শতকোটি মুসলমান। রোজার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন। তাই আমাদের উচিত এ মাসে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করা। রোজা পালন ও নামাজ আদায়ের পাশাপাশি কোরআন তেলাওয়াতে মনোযোগী হওয়া। রমজান কোরআন নাজিলের মাস। এ জন্য রমযান মাসে কোরআন তেলাওয়াত ও অনুশীলনের ফজিলত অপরিসীম। ঐচ্ছিক ইবাদতগুলোর মধ্যে কোরআন তেলাওয়াত সর্বোৎকৃষ্ট।
রমজানে কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে তা শিক্ষা দেয়, সেই সর্বোত্তম।’-বুখারি শরীফ
মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। প্রতি রমজানে জিবরাইল (আ.) বারবার রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কোরআন পুনরাবৃত্তি করতেন। এ সম্পর্কে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘রমজান মাসের প্রতি রাতে জিবরাইল (আ.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর খিদমতে হাজির হতেন এবং তাঁরা উভয়ই কোরআনুল কারীম তেলাওয়াত করে একে অপরকে শোনাতেন।’-বুখারি শরীফ
মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘ইবাদতসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদত হচ্ছে কোরআন পড়া। তিনি আরো বলেন, তোমরা কোরআন পড়। কারণ কিয়ামতের দিন এই কোরআন স্বীয় পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে।’ -মুসলিম শরীফ
মিশকাত শরীফে বর্ণিত আছে, ‘লোহায় পানি লাগলে যেমন মরিচা পড়ে তেমনি মানুষের অন্তরসমূহেও মরিচা পড়ে। মহানবীকে (সা.) জিজ্ঞাসা করা হলো ‘হে আল্লাহর রাসূল (সা.) এর প্রতিষেধক কী? উত্তরে মহানবী (সা.) বললেন, মৃত্যুকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করা এবং কোরআন তেলাওয়াত করা।’
কোরআন তেলাওয়াত মানবাত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। মনে আনে অফুরন্ত ও অনাবিল প্রশান্তি। কোরআন তেলাওয়াত করা মুমিনদের জন্য সওয়াবের কাজ। এ মর্মে রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি হরফ পাঠ করে তার জন্য ১০টি নেকী রয়েছে।’ (তিরমিযী)
কোরআন হলো জ্ঞানের সাগর। জ্ঞানাহরণ এবং আল্লাহর প্রদর্শিত পথে চলার জন্য কোরআন পাঠের কোনো বিকল্প নেই। কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সংলাপ করা হয়।
রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন মাজিদ পড়বে ও তা হেফাযত করবে এবং তার হালালকৃতকে হালাল ও হারামকৃতকে হারাম জেনে চলবে আল্লাহপাক তাকে জান্নাতে স্থান দেবেন এবং তার আত্মীয়বর্গের মধ্য হতে এমন দশজন লোকের জন্য তার সুপারিশ গ্রহণ করবেন, যাদের জন্য জাহান্নাম সাব্যস্ত হয়েছিল।
বিশ্বনবী রাসূলে আকরাম (সা.) অন্যত্র আরো বলেছেন, ‘অন্তরের কলুষতা পরিষ্কার করার উপায় হলো বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করা এবং কোরআন তেলাওয়াত করা।-মিশকাত শরীফ
কোরআনুল কারীম রমজান মাসের ‘লাইলাতুল কদর’-এ অবতীর্ণ হয়। কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার শুরু থেকে কিয়ামত অবধি অপরিবর্তিত ও পূর্ণাঙ্গ সুসংরক্ষিত থাকা কোরআনুল কারীমের অনন্য এক বৈশিষ্ট্য। কোরআন হেদায়েতপ্রাপ্তির আলোকবর্তিকা। যে যত বেশি কোরআনের আলোয় আলোকিত হবে, সে তত বেশি সফলকাম হবে।
রমজান মাসের সঙ্গে কোরআনুল কারীমের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ জন্য উলামায়ে কেরাম, বুজুর্গানে দ্বীন এবং পীর-মাশায়েখরা এ মাসে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করতেন। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা.) প্রতিদিন একবার কোরআন খতম দিতেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) রমজানে সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত কোরআন তেলাওয়াত করতেন। হযরত ইমাম আবু হানিফা (রহ.) দিনে এক খতম, রাতে এক খতম, তারাবি নামাজে এক খতম আর আউয়াবিন নামাজে এক খতম এভাবে প্রতি রমজানে ৬২ খতম কোরআন তেলাওয়াত করতেন।
আমাদের পূর্ববর্তী বুজুর্গদের আমলই হলো আমাদের ইবাদত-বন্দেগির মাপকাঠি। সেই মাপকাঠির আলোকে রমজানে সঠিক ও বিশুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াতে অভ্যস্ত হতে হবে। কোরআন তেলাওয়াত, মুখস্থ ও এর আলোকে জীবন গড়ার ফজিলত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন তেলাওয়াত করে এবং তদনুসারে আমল করে, কিয়ামতের দিন তার পিতামাতাকে এমন এক উজ্জ্বল মুকুট পরানো হবে, যা দুনিয়ায় কোনো ঘরের মধ্যে অবস্থানরত সূর্যালোকের চেয়ে অধিক উজ্জ্বলতর হবে।’-আবু দাউদ
অতএব, কোরআনুল কারীমের অন্তর্নিহিত মর্মবাণী বুঝতে রমজানে কোরআন তেলাওয়াত অন্যান্য মাসের চেয়ে বাড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন। মূলত কোরআন শুধু রমজানেই নয়; সারা বছরই নিয়মিত তেলাওয়াত করা উচিত। তারপরও রমজানে তেলাওয়াতের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় এই কারণে যে, রমজানের যে কোনো ধরনের ইবাদত-বন্দেগিতে অন্য সময়ের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি নেকি হাসিল হয়। তাই রমজান মাসে রোজাদার মুমিন বান্দারা কোরআন তেলাওয়াতে বেশি মনোযোগী হয়ে থাকেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/রিপন/ডেরি ৮ মে ২০১৬

Related posts