September 23, 2018

বর্ষবরণের এমন আজব রীতি!

বিশ্বজুড়ে বর্ষবরণের প্রস্তুতিতে এতটুকু খামতি নেই! সূর্য ডুবতেই শুরু হয় পার্টি, আতসবাজি, হইহুল্লোড়। এর মধ্যে বেশ কিছু দেশে বর্ষবরণের রীতি একটু আলাদা। বেশ মজাদার।

বর্ষবরণ নিয়ে রয়েছে দেশভেদে বেশ কিছু মজাদার সংস্কারও। যেমন ধরা যাক ফ্রান্সের কথা। বছরের শেষ দিনে ঘরে থাকা সব মদ শেষ করতেই হবে। নতুন বছরে ঘরে পুরনো মদ পড়ে থাকা অশুভ। সৌভাগ্য ঘরে আসবে না। তবে ঘরে-থাকা মদ ফেলে দিলে চলবে না। খেয়েই শেষ করতে হবে। মদে মশগুল রাত, নতুন ভোর!

কিংবা ধরুন প্যারাগুয়ের কথা। সেখানে বছরের শেষ পাঁচদিন তাদের ঘরে কোনও আগুন জ্বলে না। হয় না কোনও রান্না। ওই পাঁচদিনকে তারা পালন করে ‘ঠান্ডা খাবার খাওয়ার দিন’ হিসেবে। ৩১ ডিসেম্বর রাত ১২টার পর নতুন বছরের ঘণ্টা বাজলে হেঁসেলে আগুন জ্বেলে নতুন নতুন পদ, একসঙ্গে খেয়ে নতুন বছরে পা।

পোল্যান্ডেও বর্ষবরণটা বেশ মজার। এখানকার তরুণীরা বর্ষবরণের রাতে খরগোশের মতো পোশাক পরে জড়ো হয়। এরপর খরগোশের মতো লাফিয়ে লাফিয়ে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি জোগাড়ের পালা। তারপর ওই শাকসবজির যতটা সম্ভব চিবিয়ে খায়! তাদের ধারণা, শাকসবজি খেয়ে নতুন বছরে পা দিলে নতুন বছরের দিন সুন্দর হবে। থাকবে শান্তি।

আমাদের দেশে হাঁচি নিয়ে আমাদের নানা সংস্কার আছে। কথার মাঝে হাঁচি পড়লে সেটা ‘সত্যি হাঁচি’। কথাটা সত্যি। আবার কোথাও বেরনোর সময় হাঁচি পড়ল, তো সেটা অমঙ্গল সূচক।

কিন্তু বুলগেরিয়াবাসীর কাছে বর্ষবরণের দিন হেঁচে ফেলাটা বেশ মঙ্গলের। বর্ষবরণের দিন তাদের বাড়িতে আসা কোনও অতিথি যদি হেঁচে ফেলেন, তাহলে বাড়ির কর্তা তাকে নিজের খামারে নিয়ে যান। এরপর হেঁচে-ফেলা ব্যক্তির প্রথম নজর খামারে যে পশুটির ওপর পড়বে, সেই পশুটিকে গৃহকর্তা ওই ব্যক্তিকে উপহার দেন। ভাগ্য সঙ্গ দিলে অনেক অতিথি ঘোড়াও উপহার হিসেবে পেয়ে থাকেন। বুলগেরিয়ানদের ধারণা, হেঁচে-ফেলা অতিথি পুরো পরিবারের জন্য সুখ ও সমৃদ্ধি নিয়ে আসবেন।

বছরের শেষ দিন হাঙ্গেরিবাসী হাঁস, মুরগি বা কোনও ধরনের পাখির মাংস খান না। তাদের মতে, ওই দিন উড়তে পারে, এমন পাখির মাংস খেলে নতুন বছরে জীবন থেকে সব সৌভাগ্য উড়ে যাবে! এর পাশাপাশি, তারা নতুন বছরে পরিচিত বা বন্ধুদের যে উপহার দেন, তাতে চিমনি পরিষ্কার করছেন এমন একজন শ্রমিকের ছবি থাকে। এর কারণ হিসেবে তাদের ব্যাখ্যা, উপহারে এই ছবিটি থাকলে পুরনো বছরের সমস্ত দুঃখ নতুন বছরে মুছে যাবে।

ভিয়েতনামের উত্তরে কিছু সংখ্যালঘু জাতি রয়েছে, যারা বছরের শেষ দিনে যে জলাধার থেকে প্রতিদিন পানি সংগ্রহ করে, সেই জলাধারে দল বেঁধে গিয়ে মোমবাতি জ্বেলে মাটিতে মাথা ছুঁইয়ে প্রণাম করে জলাধার থেকে এক কলসী পানি নিয়ে আসে। এরপর ওই পানি দিয়ে বছরের প্রথম দিন রান্না করে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে উৎসর্গ করার পর নিজেরা খায়। তবে বছরের প্রথম দিনের রান্নায় স্যুপ জাতীয় খাবার থাকা চলবে না। বছরের প্রথম দিন স্যুপ জাতীয় খাবার খেলে নাকি মাঠের ফসল বন্যায় ভেসে যাবে।

আফ্রিকার মাদাগাস্কারায় নতুন বছর শুরুর সাতদিন আগে থেকে মাংস খাওয়া বন্ধ। বছরে প্রথম দিন বাড়িতে মুরগির মাংস রান্না হবে। প্রথমে তা খেতে দেওয়া হবে বাবা-মাকে। বাবা-মাকে খেতে দেওয়া হয় মুরগির লেজের দিকের অংশটা। আর ভাই-বোনেদের দেওয়া হয় মুরগির পা।

পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের একটি হল তাজমহল। স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে তার নামে এই রাজকীয় সমাধিস্থলটি গড়ে তুলেছিলেন মুঘল সম্রাট শাহজাহান।

ইসলাম, পারস্য ও হিন্দু স্থাপত্যের এই নির্মাণশৈলীটি দর্শন করতে সারা বছরই আগ্রায় বহু পর্যটক সমাগম হয়। তাই অপূর্ব এই স্মৃতিসৌধটির ইতিহাস আজ আর কারও কাছে অজানা নেই বললেই চলে।

তবে ঐতিহাসিক এই সমাধি ঘিরে রয়েছে এমন অনেক তথ্য যা অনেকেরই অজানা। যা থেকে তৈরি হতে পারে আরও কৌতুহল। জেনে নেওয়া যাক সেইসব তথ্য।

১. তাজমহলের অনুরূপ প্রতিলিপিও রয়েছে। মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ জেলার বিবি কা মকবারা ও বাংলাদেশের তাজমহল, দেখতে অবিকল যেন আগ্রার তাজমহল। ঢাকা থেকে ১০ মাইল পূর্বে সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত। এটি প্রকৃত তাজমহলের (ভারতের আগ্রায় অবস্থিত একটি মুঘল নিদর্শন) একটি হুবহু নকল বা রেপ্লিকা। এটি ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং তথ্যানুসারে এটি তৈরী করতে মাত্র ৫ বছর এবং ৫৮ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

২. শাহজাহানের তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন আর্জুমান্দ বানু বেগম। পরিচিত ছিলেন মমতাজ মহল নামে। ৩৯ বছর বয়সে শাহজাহানের ১৪তম সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মৃত্যু হয় তার।

৩. মমতাজের মৃত্যুর এক বছর পর শুরু হয় তাজমহল নির্মাণের কাজ। প্রথমে তাকে সমাহিত করা হয় জয়নাবাদ বাগানে। ৬ মাস পর পুনরায় তাকে সমাহিত করা হয় আগ্রার তাজমহলে। তখনও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ।

৪. তাজমহল নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল ১,০০০টি হাতি। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ভারী ভারী সরঞ্জাম বহনের কাজেও হাতি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

৫. এই স্মৃতিসৌধটি নির্মাণের জন্য পাঞ্জাব থেকে আনা হয় স্বচ্ছ মার্বেল পাথর, চীন থেকে সবুজ পাথর, তিব্বত থেকে স্বচ্ছ ও নীল পাথর, শ্রীলঙ্কা থেকে আনা হয় নীলমণি।

এ ছাড়াও অন্যন্য সৌধটি গড়ে তুলতে ভারত, পাকিস্তান ও ফ্রান্স সহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে নিয়ে আসা হয় ২৮ রকমের মূল্যবান পাথর।

৬. সাদা মার্বেল দিয়ে নির্মিত তাজমহল থেকে দিনের একেক সময় একেক রঙের আলোর প্রতিফলন হয়। যা দৃষ্টি আকর্ষণীয়।

৭. শাহজাহানের ভালোবাসার এই প্রতীকটি গড়ে তুলতে কেটে গিয়েছিল প্রায় ২২ বছরেরও বেশি সময়। নিয়োগ করা হয়েছিল প্রায় ২০,০০০ কর্মী।

৮. মমতাজ মহলের মৃত্যুর পর প্রায় দু’বছর শোক পালন করেছিলেন সম্রাট শাহজাহান। রাজকর্ম বাদ দিয়ে শোকাচ্ছন্ন অবস্থায় বেশিরভাগ অবস্থায় তিনি একাই সময় কাটাতেন। তখন সিংহাসনে বসেন তার পুত্র আওরঙ্গজেব।

৯. সিংহাসন লাভের পর আগ্রার কেল্লায় শাহজাহানকে বন্দি করেন আওরঙ্গজেব। কথিত আছে, বন্দি অবস্থাতেই কেল্লা থেকে তাজমহলের দর্শন করতেন তিনি। বন্দি দশাতেই মৃত্যু হয় তার। এরপর প্রিয় মমতাজ মহলের সমাধির পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় শাহজাহানকে।

১০. শোনা যায়, যমুনা নদীর যে পারে তাজমহল নির্মিত হয়েছিল তার উলটো দিকে একই আদলে কালো রঙের আর একটি তাজমহল গড়তে চেয়েছিলেন শাহজাহান। এরপর নদীর উপর দিয়ে ব্রিজের মাধ্যমে যোগ করতে চেয়েছিলেন দুটি মহল। চেয়েছিলেন কালো তাজমহলে থাকবে নিজের সমাধি। যদিও ছেলের সঙ্গে বিবাদের জেরে সেই সৌধ আর গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts