September 22, 2018

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে অনশননকারীদের পেটাল শাসকদলের লোকজন

Bhardaman University

সুপ্রকাশ চৌধুরী, বর্ধমান প্রতিনিধিঃ  বিতর্কের আর এক নাম হয়ে গেছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়,গত ২ বছরে নিয়মমাফিক রেজাল্ট বিভ্রাট, অ্যাডমিট সমস্যায় বারবার শিরোনামে এসেছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। তৃনমূলের কর্মচারী ইউনিয়ন ছাত্রছাত্রীদের মেরে আন্দোলন তুলেছে, কদিন আগেই আন্দোলন করতে এসে পুলিশের লাঠি খেয়েছে পড়ুয়ারা।

আজ সন্ধ্যা আবারও সবাইকে ছাপিয়ে গেল, এবার আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর চড়াও হল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা। অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ছাত্ররা আন্দোলনরত উপর আজ সন্ধ্যায় চড়াও হয়। বেধড়ক মারধর করে আন্দোলনকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, পেরেক গাঁথা লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের। আহত বেশ কয়েকজন
পড়ুয়া।

এর ফলে ফের উত্তাল হয়ে যায় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজবাটি ক্যাম্পাস। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা
এক মাস পিছনোর দাবিতে রাজবাটী চত্বরে গতকাল থেকে অনশনে বসেন ১০ পড়ুয়া।পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, স্নাতক স্তরের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েছে গত বছর অগাস্টে। বিজ্ঞান শাখার পরীক্ষা হয়েছে ২০১৫-র ডিসেম্বরে। মার্চমাসের মধ্যেই তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা সূচি ঘোষণা করে দেওয়ায় পড়াশোনার সময়পাওয়া যাবে না।

কমপক্ষে মে মাস পর্যন্ত পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার দাবিতে তারা অনড় থাকেন। অনশনের খবর পেয়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার
দেবকুমার পাঁজা দেখা করতে এলে ছাত্ররা বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকেন।উত্তেজনা বাড়তে থাকে সারাদিন ধরে। সন্ধের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করলে আন্দোলনরত ছাত্ররা তাঁদের বাইরে যেতে বাধা দেন। অভিযোগ সেই সময় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে কর্মীরা ওই বিক্ষোভকারীদের বেধড়ক মারধর করে। আরও অভিযোগ রাত প্রায় সাড়ে সাতটা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়।

এরপরই ছাত্রদের ,পেরেক গাঁথা লাঠি, রড দিয়ে পেটানো হয়। ঘটনায় বেশ কয়েক জন ছাত্র আহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে দেবাশিস হালদার নামে এক ছাত্রের আঘাত গুরুতর। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর নিন্দার ঝড় সব মহলে যদিও উপাচার্য স্মৃতিকুমার সরকার একটি সংবাদমাধ্যমে জানান,তিনি বর্ধমানে না থাকায় কিছুই বিশদে জানাতে পারবেন না।

বিরোধীরা আজকের ঘটনার তীব্র নিন্দা করে,পুলিশের ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন তলেন,তাদের কটাক্ষ আজ এসডিপিও কোথায় ছিলেন?কোথায় গেল পুলিশের সক্রিয়তা। ঘটনা যাই হোক, একের পর এক ঘটনা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনামকে শেষ করে দিচ্ছে একথা বলাই যায়।

Related posts