November 21, 2018

বরফহীন হচ্ছে উত্তর মেরু!


ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কঃ  উষ্ণায়নের প্রভাবে চলতি বছর কিংবা আগামী বছরের মধ্যেই সুমেরু প্রদেশে বা উত্তর প্রদেশে আর বরফের চিহ্ন থাকবে না। নেচার পত্রিকার গবেষণাপত্রে এমন আশঙ্কার কথাই জানিয়েছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। আর এটা হলে গত এক লক্ষ বছরের মধ্যে এই প্রথমবার উত্তর মেরুর সমুদ্র আবারও বরফহীন হবে৷

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্নো অ্যান্ড আইস ডেটা সেন্টার জানিয়েছে, ১ জুনে সুমেরু সাগরে বরফের পরিমাণ ছিল মাত্র ১.১১ কোটি বর্গকিলোমিটার৷ গত ৩০ বছরে এর পরিমাণ ছিল ১.২৭ কোটি বর্গকিলোমিটার৷ এই সময়ে ব্রিটেনের আকারের ছয়টি দেশ সমান বরফ কমে গেছে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুসাগর সংক্রান্ত পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক পিটার ওয়াডহ্যামস বলেন, ‘‘সুমেরুর বরফ খুব সম্ভবত আর থাকবে না। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এক লক্ষ বর্গকিলোমিটারের চেয়েও কম বরফ থাকবে। যদি এবার সম্পূর্ণ গলে না যায়, পরের বছর গলে যাবে। অর্থাৎ সুমেরুর মধ্যভাগ ও উত্তর মেরু বরফহীন হয়ে পড়বে। কানাডার উত্তর উপকূল-সহ বাকি দ্বীপপুঞ্জগুলির মধ্যে মিশে যাবে সুমেরু।”

বিজ্ঞানীরা বলছেন, অতীতে এক লক্ষ ২০ হাজার বছর আগে সুমেরু বরফহীন হয়েছিল। মেরুপ্রদেশে সবার আগে উষ্ণায়ন আঘান হেনেছে। ব্রিটেনের বন্যার সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আমেরিকার টর্নেডোর কারণও ভিন্ন নয়। রাশিয়ার উত্তর উপকূলে জল ঠাণ্ডা থাকার মূল কারণ জলের নিচে এই বরফগুলো ভেসে বেড়ায়। সমু্দ্রে জলের তাপমাত্রা বাড়বে এই বছর্ গ্রিন-হাউস গ্যাস মিথেনের মাত্রা বেড়েই চলেছে। সমু্দ্রপৃষ্ঠে জমাট বেঁধে রয়েছে এই মিথেন। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সেই মিথেনের বুদ্বুদ উঠছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে। ফলে আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বাড়বে প্রায় ০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অধ্যাপক ওয়াডহ্যামসের নেচারের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, সমুদ্রে কম বরফের অর্থ, পৃথিবীপৃষ্ঠ আরও অন্ধকার হবে। আরও বেশি সূর্যরশ্মি শোষণ করবে। সমুদ্র যদি বেঁকে বসে, তাহলে সর্বনাশ ডেকে আনবে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

Related posts