November 21, 2018

বছরের সেরা অর্জন পদ্মা সেতু!

বছরের শুরুটা ছিল বিএনপি-জামায়াত জোটের জ্বালাও-পোড়াও পেট্রলবোমার বিভীষিকা। শেষ মাসে সরকারের সেরা অর্জন পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের সূচনা। আত্মবিধ্বংসী জাতির কলঙ্ক তিলক মুছে বিশ্ববাসীর কাছে নিজেদের নির্মাণ সক্ষমতা প্রমাণের বছর। ১২ ডিসেম্বর পদ্মা সেতুর মূল পাইলিংয়ের কাজ উদ্বোধন করে জাতির গৌরবগাথায় নতুন পালক সংযোজন করলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মূলত তার অদম্য প্রত্যয় আর জেদের কারণেই বিশ্ব ইতিহাসে নতুন নামে উদ্ভাসিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আমাজান নদীর পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পানির স্রোত, সেকেন্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ঘনমিটার পানি প্রবাহ রোধ করে পদ্মা সেতু নির্মাণের এক দুঃসাহসী অভিযাত্রায় নেমেছে বাংলাদেশ।

সেই অভিযানের সফল সমাপ্তি ঘটবে তিন বছর পর। পদ্মা-যমুনার সম্মিলিত পানি প্রবাহ ভেদ করে ২০১৮ সালেই পদ্মা পাড়ি দেবে বাংলাদেশের কোটি মানুষ। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার কোটি মানুষের যোগাযোগ বন্ধ্যত্বের অবসান ঘটবে। লঞ্চের একঘেয়ে দীর্ঘযাত্রা ও ফেরিঘাটের নিয়তি নির্ধারিত ভোগান্তি দূর হবে। জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে যোগ হবে নতুন মাত্রা। বাংলাদেশ পাড়ি দেবে সমৃদ্ধির আরেক সোপান। পদ্মা সেতুর নির্মাণ ইতিহাসের অনন্য অংশীদার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বেশ গর্বভরেই বললেন, বিশ্বব্যাংক আমাদের চোর অপবাদ দিয়ে চলে গিয়েছিল।

আমরা প্রমাণ করেছি আমরা বীরের জাতি। তারা এখন বলছে, তারা ভুল করেছে। সম্প্রতি ঢাকা সফরে এসে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু বলেছেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের দরকষাকষির ক্ষমতা আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, নিজের ওপর ভরসা করে পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে সক্ষমতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের দেশের বৃহত্তম সেতু নির্মাণের মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে। এই পদ্মা সেতুর কারণেই আরও প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রেল সংযোগের কাজ নিয়ে তোড়জোড় চলছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে। এর মধ্যে ঢাকা-ভাঙ্গা ৮২ কিলোমিটার এবং ভাঙ্গা-যশোর ৯৬ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হবে। বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর ওপর প্রায় ১৯ কিলোমিটার এলিভেটেড রেলপথ হবে। রেলসংযোগে আরও যুক্ত হবে ৪০টি আন্ডারপাস সেতু ও তিনটি ওভারপাস।

পদ্মায় রেলসংযোগে ইতিমধ্যে চীন সরকার থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা সহায়তা পাওয়া গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ-পশ্চিমের ২১ জেলার মানুষ নতুন করে রেলসেবার আওতায় আসবে। ঢাকা থেকে যশোরের দূরত্ব হবে মাত্র ১৬৬ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে যশোর যেতে সময় লাগবে মাত্র সাড়ে ৩ ঘণ্টা।

পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আগামী ২০১৮ সালের পর থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন সভ্যতার ক্রমবিকাশ ঘটাবে। পদ্মাপাড়ে গড়ে উঠবে নতুন টাউনশিপ। সময় ও সাশ্রয়ী বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পদ্মাপাড় ঘিরে বহুমুখী উন্নয়নের পথ প্রসারিত হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ইতিপূর্বে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পদ্মাপাড়ে এখন চলছে সেতু নির্মাণের তুমুল কর্মযজ্ঞ। টাউনশিপের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নও সরকারের চলতি মেয়াদেই শুরু হবে। আমরা পদ্মাপাড়ে হংকংয়ের মতো টাউনশিপ গড়ে তুলব।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts