November 17, 2018

বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রীর গুণগান গেয়েই কোটি পটি—বাসেত

‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুণগান গেয়ে, বক্তৃতা দিয়ে অনেকেই কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে, বিদেশে পাঠাচ্ছে।’বলে মন্তব্য করেছেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার

তিনি বলেন, ‘এদেশের সীমিত সম্পদ দিয়ে সুষম বণ্টনের মাধ্যমে সবাইকে একত্রিত হতে হবে। বিজয়ের এ মাসে সবাইকে ঐক্য বদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অথচ শুনে থাকি অনেক পুলিশ অফিসার, অনেক ব্যবসায়ী কোটি কোটি টাকা কামিয়ে বিদেশে পাঠাচ্ছে। দেশের টাকা তারা বিদেশে জমা করছে।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে সুপ্রিমকোর্টের দক্ষিণ হলে জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত বিজয় দিবসের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাসেত মজুমদার বলেন, ‘আমরা ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হতে পেরেছি। কিন্তু সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে পারিনি। সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হতেই শেখ হাসিনা আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই তার সঙ্গে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘অনেকেই ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে মন্ত্রী-এমপি হওয়ার জন্য, দুর্নীতি মুক্ত হতে নয়। আমি নেত্রীকে বলেছি- নেত্রী আপনি অনেককে বড় বড় পদে বসিয়েছেন, তারা আরো চায় কিন্তু সম্পদ সীমিত, তাদের চাহিদা অসীম।’

বিজয়ের এ মাসে সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করলে স্বাধীনতা বিরোধীদের যড়যন্ত্র থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, এজন্য সবাইকে একত্রি হয়ে কাজ করারও আহ্বান জানান আইনজীবীদের এ নেতা।

বাসেত মজুমদার আরো বলেন, ‘জাতির পিতা বিজয়ের ডাক দিয়েছিলেন, তার নেতৃত্বে আমরা বিজয় অর্জন করেছি। কিন্তু আমাদের জন্য অত্যান্ত দুর্ভাগ্য হলো আমরা এখনো ঐক্যবদ্ধ হতে পারি নাই। স্বাধীনতার পর ইতোমধ্যে আমরা কিছু লোককে ফাঁসিতে ঝুঁলিয়েছি। ইচ্ছাকৃতভাবে এখনো তারা (স্বাধীনতা বিরোধী) শক্তি প্রদর্শন ও যড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় গিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়ে তাদের গাড়িতে পতাকা দিয়েছেন। ইচ্ছাকৃতভাবে তারা এখনো বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ও বিজয়কে মেনে নিতে পারছে না। তারা যড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন- হে বাংলাদেশ তুমি কার? তিনি বলেছিলেন- এদেশ সবার, কামার, কুমার, জেলে সবার। জাতির পিতার সে বক্তব্য আমাদের সবাইকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে।’

ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, ‘৭৪-এ বঙ্গবন্ধু চার বছর ক্ষমতায় ছিলেন, তখন অনেকে অনেক দল গঠন করেছিল। কেউ কেউ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কায়েম করতে চেয়েছিল। এ জন্য বঙ্গবন্ধু বাকশাল কায়েম করেছিলেন।’

অনুষ্ঠানে সাংসদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে যে রকম কথা বলেছে তা স্বাধীনতা বিরোধী।’ এ জন্য বিএনপির মধ্যে যারা বীর প্রতীক, বীর উত্তমসহ রাষ্ট্রীয় খেতাব রয়েছে তাদের সবারই খেতাব কেড়ে নিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংগঠনের সভাপতি এমএ জলিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুপ্রিমকোর্টে বারের সাবেক সম্পাদক ড. বশির উল্লাহ, দেশীয় সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি ও সুপ্রিমকোর্টে আইনজীবী অ্যাডভোকেট গৌরাঙ্গ চন্দ্র কর, বাসসের সাবেক প্রধান সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভূইয়া, অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন প্রমুখ।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts