September 21, 2018

‘বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি’

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বিশেষ সংবাদদাতাঃ  মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ১৭ এপ্রিল রোববার রাতে নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সমাবেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির সমর্থনে আন্তর্জাতিক জনমত সুসংহত করার পাশাপাশি বিএনপি-জামাত জোটের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার সংকল্প গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঐতিহাসিক এ দিনটি স্মরণে নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন এ সমাবেশে।

বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ অনুযায়ী মুজিবনগর সরকারে অবিস্মরণীয় ভ’মিকা পালন কারিদের মধ্যে যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের সকলের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাতও অনুষ্ঠিত হয় সমাবেশের শুরুতেই। এ সময় জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। দীর্ঘায়ু কামনা করা হয় বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল সদস্যের। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা হাফিজ দেওয়ান সোহেল।

জ্যামাইকায় স্মার্টিয়া একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরনবী কমান্ডার বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণার জের ধরেই ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং সেই সরকারের নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধ চলে।’ মুক্তিযোদ্ধা নূরনবী কমান্ডার আরো বলেন, ‘একাত্তরের পরাজিত শক্তির কাড়ি কাড়ি টাকায় শফিক রেহমানের মত সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। শফিক রেহমানরা সাংবাদিক নামের কলংক। এদেরকে চিহ্নিত করতে হবে এবং বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজব ওয়াজেদ জয়কে হত্যার ষড়যন্ত্র মামলায় তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’

মহানগর আওয়ামী লীগের  সহ-সভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা যুবকমান্ডের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, ‘গত সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের এক সম্মেলনের এক সেমিনারে শফিক রেহমান বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার মৃত্যু কামনা করে বক্তব্য রেখেছিলেন। সে সময় আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম।’ জাকারিয়া চৌধুরী বলেন, ‘সাংবাদিক নামধারী এই বিএনপি নেতা আগে থেকেই বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণের প্লট করেছিলেন।

সে প্লটের কারণেই শফিক রেহমান জননেত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যু কামনা করেন বলে মনে হচ্ছে। জয়কে অপহরণ এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের ইমেজ বিনষ্টের এই গভীর ষড়যন্ত্রে বিএনপি পন্থি সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদও জড়িত বলে আমরা মনে করছি। কারণ, ২০১৫ সালে শওকত মাহমুদ ঢাকায় গ্রেফতার হবার আগে ৩ বছর ঘনঘন লন্ডন হয়ে নিউইয়র্কে আসা-যাওয়া করেছে।’

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাসিব মামুন বলেন, ‘মুজিবনগর দিবসের চেতনায় কাজ করতে হবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে। একাত্তরের মত আবারো সকল বাঙালির ঐক্যের প্রয়োজন। তাহলেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনপ্রতিষ্ঠার চলমান কর্মসূচি বাস্তবায়ন ঘটানো সম্ভব হবে।’

এ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অপর সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান সাবু, তোফাজ্জল করিম, শরাফ সরকার, কুইন্স বরো আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সহ-সভাপতি রুহেল চৌধুরী, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কামাল আহমেদ, মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক শাহীন ইবনে দিলওয়ার এবং যুগ্ম সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী।

সকল বক্তাই শফিক রেহমানকে সাংবাদিক নামধারি ষড়যন্ত্র কারি হিসেবে অভিহিত করেন এবং জয়কে অপহরণের পর হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। বক্তারা একুশ আগস্ট ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় জড়িতদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে সীমাহীন গড়িমসির সমালোচনা করে বলেন, ‘বিচার বিলম্বিত হবার কারণেই ষড়যন্ত্রকারিরা বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্রের ফন্দি আঁটতে সক্ষম হচ্ছে।’

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/১৮ এপ্রিল ২০১৬/রিপন ডেরি

Related posts