September 26, 2018

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ:বৈরুত দূতাবাসে আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা

Untitled-1

বাবু সাহা,লেবাননঃ ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চ, তৎকালীন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে-সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রদত্ত ‘ঐতিহাসিক ভাষণ’ অতিসম্প্রতি, ‘বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে ইউনেস্কোর “মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে” যুক্ত করার মধ্যদিয়ে ইউনেস্কো স্বীকৃতি  প্রদান করেছেন।

ইউনেস্কোর স্বীকৃতি উদযাপন উপলক্ষ্যে, লেবাননস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস  ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ রবিবার  এক আনন্দ সমাবেশ এবং আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করেন।দূতাবাসের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্বতঃস্ফু্র্ত ভাবে অংশগ্রহণ করেন, লেবানন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ,  প্রবাসী বাঙ্গালীগণ ও দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ।দূতাবাস আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানের আলোচনা শুরুর পূর্বে ‘ইউনেস্কো কর্তৃক এই বিশাল স্বীকৃতি’ উদযাপন উপলক্ষে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্র্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনানো হয় এবং ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের ভিডিও ক্লিপটি প্রদর্শন করা হয়।

কাউন্সিলর সায়েম আহমেদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন, দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার।উপস্থিত ছিলেন লেবাননে নিযুক্ত ইউনেস্কোর পরিচালক ডঃ  স্লেইমান খুরী।বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা সহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

sasa

দূতাবাসের মান্যবর রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে মহাকাব্য হিসেবে অভিহিত করে এর তাৎপর্য তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, ইউনেস্কো কর্তৃক প্রদত্ত এ স্বীকৃতি বিশ্ব দরবাররে আমাদের গোটা জাতিকে এক নতুন উচ্চতায় আসীন করেছে । ইউনেস্কো কর্তৃক প্রদত্ত এ স্বীকৃতিকে জাতীয় গৌরব ও বাঙালী জাতির এক নতুন পরিচয় হিসেবে আখ্যায়িত করে রাষ্ট্রদূত প্রবাসী বাংলাদেশীদের বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় আরো সক্রিয়ভাবে অবদান রাখার আহ্বান জানান।

লেবাননে নিযুক্ত ইউনেস্কোর পরিচালক ডঃ স্লেইমান খুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষনকে ইউনেস্কো কতৃক স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট অর্জন।অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

৭ মার্চে বঙ্গবন্ধু’র ঐতিহাসিক ভাষণের তাৎপর্য বর্ণনায় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ।মহাকালের অনশ্বর একটি মহাকাব্যিক ভাষণ। যার তুলনা নেই। যা চিরঅম্লান ও মৃত্যুঞ্জয়ী। বঙ্গবন্ধু’র ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার এক অমূল্য দলিল। বঙ্গবন্ধু’র ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য  হিসেবে ইউনেস্কোর মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে যুক্ত করার মধ্যদিয়ে ইউনেস্কো স্বীকৃতি প্রদান করায় সমগ্র বাঙ্গালী আনন্দিত ও গর্বিত। ইউনেস্কো কর্তৃপক্ষকে পুনঃ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান প্রবাসী নেতৃবৃন্দরা।

পরে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গানে-কবিতায় স্মরণ করা হয় বঙ্গবন্ধুকে।

Related posts