September 22, 2018

ফেরত গেল অনন্ত-বর্ষাঃ বাংলাসিনে এ্যাওয়ার্ড কেলেংকারীর নেপথ্য

হাকিকুল ইসলাম খোকনঃ  ঢাকাই সিনে তারকাদের নিয়ে প্রবাসে বাংলা সিনে এওয়ার্ড অনুষ্ঠান হয়নি। অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন কৌতুহলী প্রবাসীরা। কুইন্সের কোল্ডের সেন্টারে ছিল না সিনে পর্দার নায়ক নায়িকাদের ঝলকানী। তার পরিবর্তে তালা ঝুলছিল কোল্ডেন সেন্টারের গেটে। বাংলাদেশী অনেকেই আয়োজকদের খুজেছেন। কিন্তু‘ তাদের টিকিকটিও পাওয়া যায়নি।

এজন্য ত্যাক্ত বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ অনেকেই খিস্তি খেউড়ে আউড়িয়ে নিপাত করেছেন আয়োজকদের। কিন্তু  কোথাও পাওয়া যায়নি তাদের । নিউইয়র্কের ইতিহাসে কোন অনুষ্ঠানের নামে কুটিল এই প্রতারণাকে এক বিরল স্ক্যান্ডাল বলেই মনে করছেন প্রবাসীরা।

অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষন নায়ক অনন্ত জলিল গত শক্রবার নিউইয়র্ক এসেছিলেন। সাথে ছিলেন স্ত্রী অভিনেত্রী বর্ষা । হোটেলে বসে আয়োজক সালাহউদ্দীন আহমেদ  শিমুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে স্ত্রী পুত্র সহ ফ্লোরিডাতে চলে যান তিনি। রোববার রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি ফ্লোরিডা অবস্থান করছিলেন।

এবিষয়ে অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা প্রবাসী এনামুল হক এনাম এর সাথে আলাপকালে তার রাগ ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সালাহউদ্দীন আহমেদ  শিমুলের শঠতা ও প্রতারণার জন্য আমরা অনুষ্ঠানটি করতে পারিনি। অনুষ্ঠানে হল ভাড়া বাবদ আমি আমার পকেট থেকে ৮ হাজার ডলার আগাম দিয়েছিলাম । ফাইনাল পেমেন্ট দেয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু তিনি এর পর থেকে লাপাত্তা। এছাড়া ৮জন শিল্পী এখানে এসেছেন। কিন্তু তাদের সাথে কোন প্রতিশ্রুতি তিনি রাখেননি।

এনামুল হক এনাম বলেন, এই অনুষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা করেছেন সালাহউদ্দীন আহমেদ  শিমুল । এজন্য তার বিরুদ্ধে দেশে ব্যবস্থা পর্যন্ত নেয়া হয়েছিল এবং তিনি মামলা করবেন বলে জানান।

এনামুল হক এনাম বলেন, সালাহউদ্দীন আহমেদ শিমুলের কাছে আমার এখন ১০ হাজার ডলার পাওনা রয়েছে। এই অর্থ তাকে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া রোববারের অনুষ্ঠানের তিনি উদ্যেক্তা। অথচ তিনি এসেছেন শনিবার। শনিবার রাতে এসে তিনি আমাকে বললেন, অনুষ্ঠান করতে হবে। কিন্তু তখন হলের বুকিং বাতিল হয়ে গেছে। কোন বিবেক সম্পন্ন মানুষ এ ধরনের কাজ করতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, এই অনুষ্ঠানটি গত বছরের ১৫ অক্টোবর হওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর তিনবার তারিখ পরিবর্তন করা হয়। শেষ পর্যন্ত ১৭ এপ্রিল ছিল চুড়ান্ত তারিখ।

এর আগে ১৫ নভেম্বর , ১৬ ডিসেম্বর, ৩১ জানুয়ারী অনুষ্ঠান করার ঘোষণা দিয়েও রহস্যজনক ভাবে তা বাতিল করা হয়।

তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে শিল্পী পারভেজ সাজ্জাদ, ইমন, অভিনেত্রী মীম, লীজা, মৌসুমী সহ আরো অনেকেই এসেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদের এপিএস মঞ্জুরুল ইসলামও এসেছেন। কিন্তু সবার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে।

তিনি নিজে উদ্যেক্তা হিসেবে এর দায়িত্ব এড়াচ্ছেন কিভাবে? প্রশ্ন করা হলেও এনামুল হক এনাম বলেন, যে লোক ফোন ধরে না, উধাও। তার সাথে কিভাবে কাজ করবেন। এনামুল হক এনাম বলেন, অনুষ্ঠানের জন্য প্রথমে ৪২টা টিকেট দিয়েছি। তিনবার তারিখ পরিবর্তনের পর ২১টিতে সেটা নামিয়ে আনি। কিন্তু‘ শুনেছি শত শত পাসপোর্ট এজন্য যোগাড় করা হয়েছিল। ২১টি টিকেট করার পর এ যাবত যা  দেয়ার কথা, সেটাও শিমুল টালবাহানা করে দেননি।

এ বিষয়ে সালাহউদ্দীন শিমুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আর্থিক সমস্যার কারণে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে । আগামী রোববার বা এর পরের রোববার এটা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এজন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

শিমুল বলেন, আসলে এর দায়ভার হচ্ছে তাদের যাদের দায়িত্ব ছিল এখানকার কাজগুলো শেষ করা। কিন্তু দায়িত্ব পালনে তাদের ব্যর্থতার কারণেই এটা হয়েছে। তবে আমরা সবাই মিলেই অনুষ্ঠানটি করবো। আর যারা ইতোমধ্যেই টিকেট কিনেছেন তারা একই টিকেটে অন্য দিনের শোতে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।

এদিকে প্রবাসের ইতিহাসে এই ঘটনাকে নজিরবিহীন আখ্যা দিয়ে অনেকেই এ ধরনের ঘটনার তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন ডেরি/১৪ মে ২০১৬

Related posts