November 17, 2018

ফ্রেঞ্চ সাংবাদিক এবার আইএসের কৌশল জানালেন

১০ মাস আইএসের কাছে বন্দি থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ফ্রেঞ্চ সাংবাদিক নিকোলাস হেনিন। সিরিয়ায় বিমান হামলার বিরোধিতা করে তিনি জানিয়েছেন, তারা (আইএস) ব্রিটেন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি ফাঁদ তৈরি করছে। তাই এই ফাঁদে কারো পা দেয়া উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি আইসের কৌশলকে পরাজিত করতে সিরিয়ায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নো ফ্লাই জোন নিয়ে অগ্রসর হওয়ার কথা বলেছেন। অর্থাৎ দেশটিতে আইএসকে দমন করতে নো ফ্লাই জোন চালু করতে হবে।

এর আগে তিনি কীভাবে সাত মাস সিরিয়ায় কাটিয়েছেন তা জানিয়েছিলেন। জিহাদি জন নামে পরিচিত ব্রিটিশ নাগরিক মোহাম্মেদ এমওয়াজিসহ অন্যান্য যোদ্ধারা হেনিনকে মানসিক ও শারীরিকভাবে খুব নির্যাতন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘আইএসের বিরুদ্ধে বোমা হামলা একটি ফাঁদ ছাড়া আর কিছুই না।’

তিনি আরো জানিয়েছেন, ‘এই যুদ্ধে নতুন দল, সবচেয়ে দামী এবং সবচেয়ে অত্যাধুনিক অস্ত্রের জয় হবে না। বরং যারা বিশ্বে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারবে তারাই জয়লাভ করবে।’ তিনি ইউরোপের দেশগুলোতে মুসলিমদের প্রবেশের বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করে বলেছেন, এতে করে আইএসের বিস্তার বাড়ছে।

তিনি আরো জানিয়েছেন, সিরিয়াতে নিজেদের খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে আইএস। তারা চায় এই মুসলিম দেশটি ছেড়ে চলে যাক হাজার হাজার মানুষ। তারা চায় অবিশ্বাসীরা দেশটি ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাক। আর এ কারণেই হয়তো তাদের ধ্যান-ধারণা বিশ্বে প্রতিষ্ঠা করার জন্যই তারা নিপুনভাবে ফ্রান্সে হামলা চালিয়েছে।

জোটের বোমা হামলা আইএসকে স্পর্শ করতে পারেনি। বরং এসব হামলা সাধারন মানুষকে আইএসের হাতে তুলে দিতে সাহায্য করছে বলে জানিয়েছেন হেনিন। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। কারণ এই মানুষগুলো যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি রাজনৈতিক সমাধান এবং একই সঙ্গে আইএসের পতন চায়। খুব দ্রুত আইএসকে প্রতিহত করতে একটি সহজ উপায় আছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা সিরিয়ার বিরোধী অঞ্চলগুলোতে নো ফ্লাই জোন চালু করবে।’

হেনিনের মতে, এই নো ফ্লাই জোন সবার জন্য। শুধু রাশিয়া, মার্কিন জোট বা অন্যান্য শাসকদের জন্য নয় বরং এটা সবার জন্য। আইএসের জন্য বিধ্বংসী হতে হলে সাধারণ নাগরিকদের আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আর এই বিষয়টাকেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রাধান্য দিতে পারে বলে মনে করেন হেনিন।

তিনি বলেন, ‘আমরা কেন এত ভুল করছি? কেন সবাই আইএসের সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করছে? আমরা শুধু মাত্র আমাদের শত্রদেরই সাহায্য করছি এবং আমাদের দুর্দশা বাড়াচ্ছি। আর সাধারণ মানুষদের দূর্যোগের দিকে ঠেলে দিচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, হেনিন একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। তিনি তার ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময়ই ইরাক ও সিরিয়ায় কাটিয়েছেন। আমেরিকান সাংবাদিক জেমস ফোলের সঙ্গেই হেনিনকে বন্দি করেছিল আইএস। পরে জেমসকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছিল। আর হেনিনকে বন্দি অবস্থায় অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছিল।

তার অপহরণের বিষয়টি জানার পরে অপহরণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ায় ফ্রান্স সরকারের। পরে শর্ত সাপেক্ষে আলোচনার পর হেনিনকে মুক্তি দেওয়া হয়। গত মাসে জিহাদ একাডেমি নামে ইংরেজিতে প্রকাশিত একটি বইয়ে হেনিন তার বন্দি জীবনের অত্যাচার ও দুর্দশার কথা তুলে ধরেছেন।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/মেহেদী/ডেরি

Related posts