November 21, 2018

ফেসবুক-ভাইবারে, মানসিক রোগ বাড়ে!

ডা.হুমায়ুন কবীর হিমু

এখন যুগ ডিজিটালের। প্রেমিক মন আর তাই লেখে না আকাশের ঠিকানায় চিঠি। ছেলের হাতের লেখা চিঠি যত্নে আঁচলে বেঁধে রাখেন না কোনো মা। দরকারই বা কী? যেখানে স্কাইপে ভিডিওকলে কথা বলে সামনাসামনি কথা বলার শিহরণ পাওয়া যায়, সেখানে কষ্ট করে চিঠি লেখার প্রয়োজনই বা কী?

ফেসবুকে নতুন বন্ধুত্বের হাতছানি। দূরত্বকে জয় করেছে ফেসবুক, ভাইবার, স্কাইপ, উইচ্যাট ইত্যাদি। মনের মানুষের সঙ্গে চ্যাট করে আনন্দে কাটছে ক্ষণ। কিন্তু তার পরও কি সব সমস্যার সমাধান হয়েছে? ফিকে হয়েছে ভালোবাসার রং। ঠুনকো কারণে দুটো পথ বেঁকে যাচ্ছে দুদিকে। সংসার ভাঙছে অবিশ্বাসের বিষাক্ত বাতাসে। শুধু তা-ই নয়, দেখা দিচ্ছে মানসিক ও শারীরিক সমস্যা।

ইন্টারনেট আজ মানুষের সব কাজ সহজ করে দিয়েছে। কিন্তু সব সহজ ভালো নয়। এটি বিরূপ প্রভাব ফেলছে স্বাস্থ্যের ওপর। এ নিয়ে বেশ গবেষণাও হয়েছে, হচ্ছে।

সব গবেষণার শেষে বলা হচ্ছে, ইন্টারনেট আসক্তি মাদকের মতো। এই আসক্তিতে ছেয়ে গেছে দেশ। এটি শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, এতে মানসিক দিকও অন্তর্ভুক্ত। এমনই এক নেশা ফেসবুক তথা ইন্টারনেট। মাদক হঠাৎ বন্ধ করে দিলে শরীরে যেমন বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, তেমনি প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় ইন্টারনেট ব্যবহারেও। দিন দিন বাড়ছে ইন্টারনেট আসক্তদের সংখ্যা।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিষণ্ণতায় আক্রান্তের হার বেশি। গবেষণায় তা প্রমাণিত হয়েছে। দেখা যায়, যাঁরা ইন্টারনেট বেশিক্ষণ ধরে ব্যবহার করেন, কম্পিউটার লগ অফ করার পর তাঁরা বিষাদে আক্রান্ত হন। সম্প্রতি পিএলওএস ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ওই গবেষণার জন্য পরিচালিত জরিপে ৬০ জন ব্যক্তি অংশ নেনন। তাঁদের মধ্যে দেখা যায়, ৩২ জন দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটার বা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, বাকি ২৮ জন একটু কম ব্যবহার করেন। তাঁদের নেট ব্যবহারের আগে প্রশ্নোত্তর করা হয়। ১৫ মিনিট নেট ব্যবহার করার পর আবার বিভিন্ন প্রশ্ন দেওয়া হয়। দেখা যায়, তাঁদের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে।

আমরা দেখি, ইদানীং বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যার হার বেড়েছে। বিষণ্ণতা এর মূল কারণ। ইন্টারনেট আসক্তি থেকে আত্মহত্যার ঘটনা যে ঘটছে না, তার প্রমাণ কী? বরং গবেষকরা বলছেন, আত্মহত্যার পেছনে ইন্টারনেট আসক্তিও অন্যতম কারণ।

অতিরিক্ত নেট আসক্তি দাম্পত্য সম্পর্কে খারাপ প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা বেশিক্ষণ নেট ব্যবহার করেন, তাঁরা সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানোর চেয়ে নেটে বসে থাকাকেই বেশি আনন্দের বলে মনে করেন। ফলে দূরত্ব বাড়ে। একসময় বিচ্ছেদ। বিচ্ছেদ হলেই যে সমস্যার শেষ, তা কিন্তু নয়। এতে করে তাঁরা আরো বিষণ্ণতায় ভোগেন। এটিই নিয়ে যায় আত্মহত্যার পথে।

যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বেশিক্ষণ নেট ব্যবহার করেন, তাঁদের হঠাৎ করে নেট ব্যবহার বন্ধ করে দিলে উল্টো ফল হতে পারে। এতে করে বাড়তে পারে বিষণ্ণতা, হতাশা, দুশ্চিন্তা। এটি আরো খারাপ। হঠাৎ মাদক সেবন বন্ধ করার মতো।

বেশিক্ষণ ধরে বসে থাকার জন্য দেখা দিচ্ছে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা। মুটিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই, এ থেকে বাড়ছে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি।

মানসিক স্বাস্থ্যের বাইবেল নামে পরিচিত ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিক্যাল ম্যানুয়াল অব মেন্টাল ডিজিজ (ডিএসএম) বইটিতে ইন্টারনেট ইউজ গেমিং ডিজঅর্ডার-সংক্রান্ত তথ্যাদি সংযুক্ত করা হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ইন্টারনেট ব্যবহার বেশ ভালোই প্রভাব ফেলছে মনের ওপর।এনটিভি

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts