September 21, 2018

ফেসবুক দেখে পলাতক দুই কিশোরকে পেল পুলিশ যেভাবে

bigstock-Little-boy-with-his

পড়াশোনার চাপে হাঁফিয়ে উঠে বাড়ি থেকে পালানো দুই কিশোরকে এ যাত্রা অঘটনের হাত থেকে ফেসবুক বাঁচিয়ে দিল৷

পড়ার চাপে হারিয়ে গিয়েছিল ওদের কৈশোর। বাড়িতে প্রতি বিষয়ে একজন করে প্রাইভেট টিউটর৷ পড়াশোনার চাপে হাঁফিয়ে উঠে বাড়ি থেকে পালানোই স্থির করে দুই স্কুলছাত্র৷ কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী হল না তাদের অজ্ঞাতবাস৷৬ দিনের মাথায় পুলিশের জালে ধরা পড়ে দুই ছাত্রকে ফিরতে হল ঘরে৷

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের ডিএভি ইংরেজি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ওই দুই ছাত্র, অনিরুদ্ধ হাজরা ও বিশাল সান্যাল৷ ১০ মার্চ থেকে স্কুলে তাদের বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা৷ কড়া অনুশাসনে তারই প্রস্তুতিত চলছিল দুই পরিবারে৷ কিন্তু পড়াশোনার চাপ সহ্য করতে না পেরে দুই ছাত্রই বাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা করে৷

২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় সোজা আসানসোল স্টেশনে চলে যায় অনিরুদ্ধ৷ বিশাল গিয়েছিল টিউশন পড়তে। সেখান থেকে সে-ও চলে যায় স্টেশনে৷ রাঁচি-হাতিয়া এক্সপ্রেসে কলকাতা আসবে বলে ঠিক করেও মাঝপথে নেমে পড়ে বর্ধমান স্টেশনে৷ তারপর রাতের ট্রেন ধরে পৌঁছয় হাওড়া৷ ইতিমধ্যে দুই ছাত্রই বন্ধ করে দেয় তাদের মোবাইল ফোন৷ ফলে ছেলেদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করতে না পেরে আসানসোল দক্ষিণ থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন অনিরুদ্ধ ও বিশালের বাবা অশোক হাজরা ও পার্থ সান্যাল৷

ওদের মোবাইল বন্ধ থাকায় টাওয়ার লোকেশন পাওয়া যাচ্ছিল না বলে কোন এলাকায় আছে তা জানা যায়নি। পুলিশ এর পরও অন্ধকারে পথ হাতড়াচ্ছিল৷ সেই পুলিশকেই পথ দেখাল ফেসবুক৷

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিজের ল্যাপটপ থেকে ফেসবুকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার খবর জানায় অনিরুদ্ধ৷ ফেসবুকে বান্ধবী অরুণিমাকে সে লেখে, পড়ার চাপেই আমরা বাড়ি থেকে চলে এসেছি৷ আর কেউ পড়ার জন্য বলবে না৷ আমরা কাল দিঘা যাচ্ছি৷’
ফেসবুকে এই মন্তব্যেই জাল গোটায় পুলিশ৷ আসানসোল থেকে পুলিশের একটি বিশেষ টিম দিঘায় রওনা দেয়৷ অন্য দিকে, রেলকর্মী বিশালের বাবা পার্থ সান্যাল যোগাযোগ করেন আরপিএফ-এর সঙ্গে৷ দু’জনের ছবিও পাঠানো হয়৷ শুক্রবার সন্ধ্যায় দুই ছাত্র দিঘায় পৌঁছয়৷ সেখানে ২৫০ টাকা দিয়ে ঘর ভাড়া নেয় তারা৷

বিশাল নিজের দামি ক্যামেরা বিক্রি করে মাত্র বারোশো টাকায়৷ অনিরুদ্ধর কাছে ছিল দু’শো টাকা৷শনিবার সি বিচে ঘোরার সময় পুলিশ, আরপিএফ ওদের একসঙ্গে ধরে৷ রোববার ওদের আনা হয় আসানসোলে৷

Related posts