September 26, 2018

ফেসবুক প্রোফাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে সংবিধানে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম বহাল দাবি

1458828927-processed

ইলিয়াছ মাহমুদ: বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম বহালের দাবিতে বাংলাদেশের ফেসবুকে জুড়ে প্রোফাইল ছবির সাথে “সংবিধানে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম বহাল চাই “এই বাক্য জুড়িয়ে এবং সংবিধান থেকে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ফেসবুক স্ট্যাটাস জুড়ে ঝড় তুলছেন বাংলার তাওহীদি মুসলীম ফেসবুক ইউজাররা। বিভিন্ন ইসলামিক অনুষ্ঠান ওয়াজ মাহফিল, সভা সমাবেশে,সেমিনারে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি হুশিয়ারী উচ্চারণ করছেন। ইতিপূর্বে বড় ইসলামীক দল এর দাবিতে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচী পালন করেছেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৮ বছর পর শুনানীর অপেক্ষায় থাকা রাষ্ট্র ধর্ম ইসলামকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আনীত রিটের শুনানির জন্য আগামী ২৭ মার্চ ধার্য করা হয়েছে।

রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৮৮ সালে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই আবেদনটি হাইকোর্টে বিচারাধীন ছিল। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ব্যাপক সংশোধনী আনা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের বিষয়টি বহাল থাকে। এর প্রেক্ষিতে বিশিষ্ট সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদ রিটটি শুনানির জন্য হাইকোর্টে ২০১১ সালের জুন মাসে একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ ওই বছরের ১১ জুন রুল জারি করেন। রুলে সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে অন্তর্ভুক্তির বিধান কেন অসাংবিধানিক ও বে আইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

একই সঙ্গে সিনিয়র ১২ আইনজীবীকে অ্যামিকাসকিউরি হিসেবে নিয়োগ দেয়। রুল জারি এবং রিট দায়েরের দীর্ঘদিন পর মামলাটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে উঠল। সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৮ সালের ৫ জুন চতুর্থ জাতীয় সংসদে অষ্টম সংশোধনী পাস করা হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনুচ্ছেদ ২-এর পর ২(ক) যুক্ত হয়। ২(ক)-তে বলা হয়, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম হবে ইসলাম, তবে অন্যান্য ধর্মও প্রজাতন্ত্রে শান্তিতে পালন করা যাইবে।’ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ৯ জুন এতে অনুমোদন দেন। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের আগস্ট মাসে ‘স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধ কমিটির’ পক্ষে সাবেক প্রধান বিচারপতি কামালউদ্দিন হোসেন, কবি সুফিয়া কামাল, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীসহ ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন।

ওই আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে নানা ধর্ম বিশ্বাসের মানুষ বাস করে। এটি সংবিধানের মূল স্তম্ভে বলা হয়েছে। এখানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করে অন্যান্য ধর্মকে বাদ দেয়া হয়েছে। এটি বাংলাদেশের অভিন্ন জাতীয় চরিত্রের প্রতি ধ্বংসাত্মক। রিটকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যে অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

দ্যা গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডটকম/২৪ মার্চ ২০১৬/মাহমুদ

Related posts