November 18, 2018

ফেসবুক চালু হবে কবে?

ফেসবুক কবে খুলবে?

ফেসবুকসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে বুধবার থেকে সাময়িক বন্ধ রয়েছে । অনেকে সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার অনেকে এটি সহজভাবে নিতে পারেননি।

তবে দু’পক্ষেরই এখন প্রশ্ন- ফেসবুক চালু হবে কবে? এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। বিটিআরসির একটি সূত্র অবশ্য বলছে, তিন থেকে চার দিনের মধ্যে ফেসবুক আবার চালু হতে পারে। তবে পরিস্থিত বুঝে প্রয়োজনে আবারো তা বন্ধ করা হবে। আর ভাইবার, ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ থাকতে পারে দীর্ঘদিন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে তরুণরাই বেশি। তারা অনেকেই এখন সেবাটি চালুর জন্য অপেক্ষা করছেন। যেমন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নাজমুল আলম বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য ফেসবুক সাময়িক বন্ধ হতেই পারে। কারণ দেশের নিরাপত্তা সবার আগে। কিন্তু কবে আবার এটি চালু হবে-সেটা জানতে পারলে ভালো হতো।’

প্রতিমা রাণী নামে আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী বলেন, ‘বন্ধুদের ফেসবুকে মিস করছি। তারপরও ফেসবুক বন্ধ হলে যদি দেশের ভালো হয় তো হোক। কিন্তু এটি আবার চালু হবে কবে?’

এ বিষয়ে বিটিআরসির কর্মকর্তারা বলেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুসারে ফেসবুক বন্ধ করা হয়েছে। ওই পর্যায় থেকে নতুন নির্দেশনা না এলে ফেসবুক চালু হবে না। তবে তিন চার দিনের মধ্যে ফেসবুক খুলে দেওয়া হতে পারে।

এ দিকে, বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেকে ফেসবুক ব্যবহার করছেন। আবার অনেক এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই ফেসবুক পাওয়া যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বৃহস্পতিবার বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। এ কারণে সব নেটওয়ার্কে ফেসবুক, ভাইবারসহ অন্যান্য অ্যাপস বন্ধ করতে সময় লাগছে। তবে বুধবার ৯০ শতাংশ নেটওয়ার্কে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। শিগগিরই বাকী নেটওয়ার্কে ওইসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ হবে।’

ইন্টারনেটে গতি কম

বুধবার ফেসবুকসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ হওয়ার সময় থেকে সারাদেশে ইন্টারনেটের গতি কম বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও ফেসবুক বন্ধ থাকার কারণে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার অনেক কমে গেছে।

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি এম এ হাকিম বৃহস্পতিবার বলেন, ফেসবুকসহ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ হওয়ার পর ব্যান্ডউইথ ব্যবহার প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে অন্য সময়ের চেয়ে ইন্টারনেটে গতি বেশি থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটবের এক কর্মকর্তা জানান, ফেসবুক বন্ধ হওয়ার পর ছয়টি মোবাইল ফোন অপারেটরের ব্যান্ডউইথ ব্যবহার প্রায় ৪৫ শতাংশ কমে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার প্রায় দেড় ঘন্টা ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকার পর বিটিসিএলের ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক চালু হতে বেশ সময় লাগে। বিটিসিএলের ইন্টারনেট গেটওয়ে সংশ্লিষ্টরা ফেসবুক, ভাইবার বন্ধ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ার কারণে পুরো ইন্টারনেট সেবা দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখেন। এরপর নেটওয়ার্ক চালু হলেও বিটিসিএলের ব্যান্ডউইথ ব্যবহারকারীরা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম গতি পান।

এ ব্যাপারে বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর আইপি বন্ধ করতে গিয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে। ফলে গ্রাহকরা গতি কিছুটা কম পেতে পারেন। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts