November 16, 2018

‘ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে জেএমবি’

স্টাফ রিপোর্টারঃ   পুরান ঢাকার হোসেনি দালানে এবং বগুড়ায় শিয়া মসজিদে হামলার পেছনে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) হাত রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ। এক সময় মনে করা হচ্ছিল নিষিদ্ধ এই সংগঠনটি দুর্বল হয়ে গেছে। কিন্তু সম্প্রতি এই দলটির কী পুনর্জাগরণ ঘটেছে?

পুরো বিশ্বের কাছে জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারা দেশে একযোগে বোমা ফাটিয়ে অনেকটা নাটকীয় ভাবে তাদের অস্তিত্বের জানান দিয়েছিল । বেশ কিছু সন্ত্রাসী ঘটনার পর এটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। আর ফাঁসি দেওয়া হয়েছে সংগঠনের প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান, বহুল আলোচিত রফিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাই সহ ৬ জনকে। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে অনেকবারই বলা হয়েছিল জেএমবি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এটি আর মাথা তুলতে পারবে না। কিন্তু দশ বছর পর জেএমবি নিয়েই আবারও ব্যস্ত পুলিশ। পুলিশের সাথে কথিত বন্ধুক যুদ্ধে হোসেনি দালানে হামলার মূল সন্দেহভাজন নিহত হওয়ার পর ঢাকায় গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, জেএমবি পুনরায় সংগঠিত হয়েছে।

মনিরুল ইসলাম বিবিসিকে বলেন, কয়েজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে অর্থের যোগান দিয়ে তারা এধরনের সন্ত্রাসী মূলক কর্মকান্ড চালাচ্ছে। একজন ব্যক্তির নির্দেশে দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকজন ক্যাডার তৈরি হয়েছে এবং এর ভেতরে শাহাদাত ওরফে মাহফুজকে মেরে ফেলার পর হয়ত অন্য কোনো ব্যক্তি এর দায়িত্ব নেবে।

মনিরুল ইসলামের কথায় এটি পরিষ্কার জেএমবি’র কাউকে মেরে ফেলা হলে খুব দ্রুতই শূন্য স্থান পূরণ হয়ে যায়।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস এন্ড সিকিউরিটিস স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট (অব.) মেজর জেনারেল এএনএম মনিরুজ্জামান বলছেন, জেএমবি’র প্রথম জাগরণের প্রথম প্রমাণ পাওয়া যায় গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। যখন মহাসড়কে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে জঙ্গিসংগঠনের তিন শীর্ষ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

মনিরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম আবার নতুনভাবে শুরু করেছে তাই নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভিতরে গিয়েও তারা তাদের কর্মকান্ড পরিচালনা করার জন্য সক্ষমতা দেখিয়েছে। এমনকি তারা আইএস’র সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করছে।

জেনারেল মনিরুজ্জামন যে সাময়িকির কথা বলেছেন, সেই সাময়িকিটি ইসলামিক স্টেটের একটি প্রকাশনা বলে মনে করা হয় এবং এতে বাংলাদেশে সংগঠিত জঙ্গি সংগঠন নিয়ে আলোচনা রয়েছে। এবং এ সাময়িকিকে ইসলাম পন্থি কয়েকটি সংগঠনের সাথে সমালোচনা থাকলেও জেএমবিএকে বেশ প্রশংসাই করা হয়েছে।

গোয়েন্দারা মনে করেন ইসলামিক স্টেটের কোনো কর্মকান্ড  বাংলাদেশে নেই। তবে এদের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করছে।

জেনারেল মনিরুজ্জামান বলছেন, সাময়িকিটি পড়ে আমরা বুঝতে পারলাম তারা বড় ধরনের সন্ত্রাসীমূলক কর্মকা- করার জন্য চেষ্টা করছে।

সরকারের পক্ষ থেকে অনেকবার বলা হয়েছে জঙ্গি কর্মকান্ডের জিরো টলারেন্স নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে। তাহলে  জেএমবির মতো একটি সংগঠন আবারও পুনর্গঠিত হয়েছে কিভাবে।

জঙ্গি কর্মকান্ড নিয়ে যিনি গবেষণা করেন সেই নূর খান বলেন, পরিস্থিতি সুযোগ নিয়ে এটি হয়েছে।

বাংলাদেশের মতো একটি দেশ যেখানে ৯০ শতাংশের কাছাকাছি মানুষ হচ্ছে মুসলমান সম্প্রদায়ের লোক। এরকম একটি পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে হলে আমাদের জনগণকে সম্পৃক্ত এবং রাজনৈতিক সহিংসতার সুষ্ঠু সমাধান হওয়া জরুরি। পানি ছাড়া যেমন মাছ বাঁচে না তেমনি জঙ্গি সংগঠনগুলো এ ধরনের অস্থিরতা ছাড়া তাদের অবস্থান সংহত করতে পারে না।

পুলিশ বলছে, সবশেষ অভিযানে জেএমবির শীর্ষ স্থানীয় বেশির ভাগ সদস্য চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে এবং এদের আকট করা সম্ভব হবে।

দি গ্লোবাল নিউজ ২৪ ডট কম/রিপন/ডেরি

Related posts